সোমবার, ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কারা নিল অমিত মন্ডলের বাবা-মায়ের দায়িত্ব ! জানতে হলে পড়তেই হবে

News Sundarban.com :
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৩
news-image

ঝোটন রয়
….……………………

(পর্ব ২)

এই পৃথিবীতেই নেই তার আর স্বপ্নের  iphone থেকেই বা কি হবে।  এই অসহায় দিনে এত দামি ফোন রাখা ঠিক নয়।  তাই ঠিক করলেন এটাকে বিক্রি করে দেওয়ার।

দিন আসে দিন চলে যায়। প্রতিনিয়ত নতুন ভিডিও অমিতের ইউটিউবে স্থান পায়। তার দৈনন্দিন জীবনের করণীয় যে কাজ সেটিই ছিল কিন্তু ভিডিওর মূল বিষয়বস্তু এবং সেই ভিডিও স্থান পেতো তার ইউটিউবে। আজ সে এই দুনিয়ার বাঁধন ছেড়ে অজানা দেশে পাড়ি দিয়েছে। রেখে গেছে তার স্মৃতিটুকু। রয়েছে তার বাবা-মা রয়েছে তার বন্ধুবান্ধব। রয়েছে তার লাখ লাখ ভক্ত। যেসব ভক্তদের দিনের প্রথম শুরুটা হয় জনপ্রিয় ইউটিউবার অমিত মন্ডলের ভিডিও দেখে। শুরুতেই তার যে বাচনভঙ্গি ‘হ্যালো আমার প্রিয় পরিবার’ সত্যিই চমকপ্রদ। শারীরিক দিক দিয়ে সুস্থ সবল না হয়েও প্রতিনিয়ত তার দর্শকদের সুন্দর সুন্দর ভিডিও উপহার দিয়েছেন। তার বাবা এবং মা এর সারাদিন কেমন ভাবে কাটে। এইসবই নিয়েই ভিডিওতে চলত তার কাটা ছেঁড়া ।

সেই জনপ্রিয় ইউটিউবার অমিত মন্ডল আমাদের মধ্যেই রয়েছেন তার তৈরি শত শত ভিডিও লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখছেন। ছেলের স্বপ্ন বাস্তবিক রূপে ফুটে উঠুক কোন বাবা-মা না চায়। তাই ছেলের এমনই কঠোর পরিশ্রমের ফসল টিকিয়ে রাখতে চাইছেন তার মা সন্ধ্যা মন্ডল। আস্তে আস্তে করে জীবন গড়ার যে ভাবটা শুরু করেছিল হঠাৎ কোনো এক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে যায় তার জীবনের রেখা। তাই ছেলে চিরনিদ্রায় যাওয়ার পর অমিতের মা এবং বাবার দৈনন্দিন জীবনের যে ভিডিও তা নতুন ভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করছেন স্বয়ং তার মা-ই।

ছেলেহারা দুঃখী মা-বাবার যে কি যন্ত্রনা কেবলমাত্র ভগবানই জানেন। আমরা উপলব্ধি মাত্র। বাড়িতে কেউ গেলে প্রতিনিয়ত হাউ হাউ করে কাঁদছেন মা। বাবার একটাই কথা আমাদেরকে নিয়ে ছেলের আর ভিডিও করা হলো না। অমিতের বাড়িতে এসেছেন তাবড় তাবড় ইউটিউবার দীপঙ্কর বাবু থেকে শুরু করে শংকর বাবুরা। বাবা মাকে দিয়ে গেছেন শান্তনা এবং কিভাবে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে রুজি রোজগার চলবে তার একটা বিহিত ব্যবস্থাও করে গেছেন। অমিতের বাবা-মা ব্যাংক থেকে টাকা তোলার ব্যাপারে ততটা পারদর্শী নয়। এমনিতে এখনকার সময়ের টাকা-পয়সা চিনতেও তাদের একটু অসুবিধা হয়। দৈনন্দিন জীবন যাপন করতে যাতে করে কোনো অসুবিধা না হয় তার জন্যই এক ঝাঁক ইউটিউবারের দল অর্থাৎ শংকর বাবুরা থেকে আমাদের স্থানীয় ইউটিউবার পেশায় শিক্ষক মহাশয় দীপঙ্কর বাবুর হাতেই সব দায়িত্ব দিয়েছেন।

দীপঙ্কর বাবু উনি ১২৬ খানা অসহায় দুস্থ পরিবারকে দেখছেন। তাদের পোশাক আশাক থেকে শুরু করে খাওয়া দেওয়ার এমন কি দায় দায়িত্ব নিজের কাঁধে  নিয়েছেন। আর তার সঙ্গে নিয়েছেন অমিতের বাবা-মায়ের দায়িত্ব। এবং অমিতের বাবা-মা  কিভাবে কঠোর পরিশ্রম না করেও বাকি জীবনটা কাটাতে পারেন তার ও একটা দিশা দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।

অমিত সবে মাত্র কিনেছিলেন একটি iphone। যেদিন দোকানে কিনেছিল সেদিন আমরা ভিডিওতে দেখেছি, কত আনন্দের ছাপ ছিল যে তার চোখে মুখে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। শুধু একটা বিষয় বলেছিল, যে এই ফোনটা ছিল তার স্বপ্ন। এই ফোন কেনার আমার একটাই উদ্দেশ্য হলো যে আমার দর্শকদের আরো ঝা চকচকে সুন্দর ভিডিও আমি প্রেজেন্টেশন দিতে পারব। দুঃখের বিষয় হল যে মানুষটি এই ফোনটিকে ব্যবহার করবে সেই জনপ্রিয় ইউটিউবার অমিত মন্ডল আজ আর এই দুনিয়ায় নেই। কি হবে সেই এত দামের ফোন। কিভাবেই বা চালাবে সেই ফোনটি। ছেলের মৃত্যুর পর মা-বাবার এমনিতেই শারীরিক এবং মানসিক দিক দিয়ে ভেঙে পড়েছেন। প্রায় সই ডাক্তারবাবু আসছেন চেকআপ করতে। এমতো অবস্থায় অমিত মন্ডলের অসহায় বন্ধু বরুন বাবু ঠিকই করলেন যে এই পৃথিবীতেই নেই তার আর স্বপ্নের iphone থেকেই বা কি হবে। এই অসহায় দিনে এত দামি ফোন রাখা ঠিক নয়। তাই ঠিক করলেন এটাকে বিক্রি করে দেওয়ার। এটা বিক্রি করে যে কটা টাকা আসবে সেটাই দিয়ে তার বাবা-মায়ের আর কয়টা দিন ভালো ভাবে চলবে। এইরকম পরিকল্পনাতে নেট দুনিয়া থেকে শুরু করে নিজেদের আত্মীয়-স্বজন থেকে সাধুবাদ পেয়েছেন বরুণ বাবু।

অমিতের বন্ধু মহলের কোন তুলনা হয় না। বরুন, সায়ন, সুদীপ্তদের মতো নিরলস সাহায্য বন্ধু পাওয়া সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার। স্কুল কিংবা টিউশন থেকে কেনাকাটা এমনকি কোথাও বেড়াতে গেলেও বন্ধুরাই যে  ছিল তার নিত্য সঙ্গী।                                                                                                                                                                                                                                     -পরবর্তী অংশ আগামী সোমবার