শুক্রবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বিবেকানন্দ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সমন্বয়ে স্বচ্ছ অভিযান

News Sundarban.com :
জুলাই ২৯, ২০২২
news-image

ঝোটন রয় নামখানা:  স্বচ্ছ অভিযানে নাম লেখালো প্রত্যন্ত সুন্দরবনের নামখানা ব্লক। নামখানা ব্লকের দক্ষিণ চন্দনপিড়ি বিবেকানন্দ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের জন শিক্ষণ সংস্থানের সমন্বয়ে এই স্বচ্ছ অভিযান করা হয়। এই স্বচ্ছ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মিশনের পক্ষ থেকে সুদীপ পাল, অর্ণব দে এবং বিবেকানন্দ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক অধ্যাপক শান্তনু বেরা, উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ সম্পাদক প্রবীর পাল, এ ছাড়া ছিলেন গ্রাম পঞ্চায়েত মেম্বার অতনু বেরা সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।
এই স্বচ্ছ অভিযানে এলাকার সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে মহিলাদের কে ও কম্পোস্ট ট্রেনিং দেওয়া হয়। নামখানা ব্লক কৃষি আধিকারিক তন্ময় পাইকের পক্ষ থেকে কৃষি বিষয়ক পুস্তিকা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এই প্রসঙ্গে তন্ময় বাবু বলেন, সুন্দরবনের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করে জীবন ধারণ করে। এই বর্ষাকালে এখানেতো ধান চাষের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। মা যেমন সুস্থ না হলে সন্তানের সমস্যা হয়। তেমনি ধান চাষ করার আগে বীজ শোধন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের এখানকার চাষীরা চাষবাসের দিক দিয়ে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। অবশ্য আগে থেকে এখন ক্রমশ অনেকটাই উন্নত হচ্ছে। সে কারণে বীজ শোধন করতে যেসব ক্যামিকেল লাগে কৃষকদের সেইসব ক্যামিকেল এবং মেডিসিন দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে চাষিরা শুধু নিজেদের উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে সুন্দরভাবে বীজ তলা তৈরি করতে পারে। এই লিফলেটে উল্লেখ করা রয়েছে কিভাবে একটি কৃষক সবজি থেকে শুরু করে ধান চাষ করবেন। কোন সবজিতে কি কি সার প্রয়োগ করতে হয়। এইসব নিয়ে এই লিফলেট টি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে গত বছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বেশিরভাগ কৃষকদের জমিতে নোনা জল প্লাবিত হয়েছে। ফলে ওই সব জায়গায় কিভাবে এবং কি কি ধান চাষ করা যায়। তার ওপর আমরা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলাম।

আমরা দশ হাজার জন চাষীকে দুধেশ্বর ধানের বীজ এবং লুনা সুবর্ণ বীজ দিয়েছিলাম। তার সঙ্গে কি কি উপকরণ লাগে সেই সব প্রোডাক্ট ও দেওয়া হয়েছিল। এমনকি নোনা জমি থেকে নোনা জল মেশিন দিয়ে বের করার জন্যই কৃষকদের দেওয়া হয়েছিল ডিজেল । এমনকি কিভাবে নোনা জল বের করে সুন্দর এবং উন্নতশীল বীজ তৈরি করা যায় তার ওপরেও দেওয়া হয়েছিল ট্রেনিং। যার ফলে কৃষকরা আশানুরূপ ফলনও পেয়েছিল।

অন্যদিকে সোসাইটির সম্পাদক অধ্যাপক শান্তনু বেরা বলেন, শিব জ্ঞানে জীব সেবাতে ব্রতী আমাদের এই সংগঠন। করোনা পর্বে সারাবছর ধরে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এই সংগঠন । প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত সুন্দরবনের মানুষের জন্য এই সংগঠন অনেক কিছু করেছে। এই এলাকার মানুষের জীবন জীবীকামুখী ট্রেনিং প্রোগ্রাম, ছেলে মেয়েদের স্কুল ও এলাকার উন্নয়নমুখী সহ বিভিন্ন কাজের মধ্যে যুক্ত এই সংগঠন। তিনি আরো বলেন, আজকের দিনে দাড়িয়ে স্বচ্ছতা অভিযান, জৈব চাষ ও পরিবেশ দূষণ রোধে বৃক্ষরোপন কতটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা এখন আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। প্রত্যেকের উচিৎ পর্যাপ্ত পরিমাণে চারা গাছ লাগানো। এবং মারন ভাইরাস থেকে নিজেদেরকে বাঁচতে পরিবেশের স্বচ্ছতা প্রত্যেকে নিতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থায়ী বাসিন্দা বলেন, এই সংগঠন এক কথায় বলতে গেলে পরিবেশ নিয়ে ভাবেন। পরিবেশের সৌন্দর্য কিভাবে নিতে হয় একটা বাচ্চা ছেলেকেও শেখায় এই সংগঠন। এইরকম সংগঠন শুধু আমাদের চন্দন পিড়িতে নয়, নামখানা ব্লক শুধু নয়, সুন্দরবনের প্রত্যেকটা ব্লকে ব্লকে গড়ে উঠুক। যার ফলে সুন্দরবনের মানুষ আরো বেশি করে জাগ্রত হোক। যা