শুক্রবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

২১ জুলাই শহীদ স্মরণে নামখানা ব্লকের রাস্তাঘাট যেন জনশূন্য

News Sundarban.com :
জুলাই ২১, ২০২২
news-image

ঝোটন রয়, নামখানা: শুনশান নামখানা ব্লক। রাস্তাতে জনমানুষ নাই বললেই চলে। দেখলেই মনে হয় যেন বাম আমলের ভোট চলছে। আজ ২১শে জুলাই বৃহস্পতিবার।

১৯৯৩ সালের এই ২১ জুলাইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মহাকরণ অভিযানে বামফ্রন্ট সরকারের পুলিশের গুলিতে নিহত ১৩ জন শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে কলকাতার ধর্মতলায় এত জনসমাগম। মুখ্যমন্ত্রী তথা মা মাটি মানুষের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এমনকি তৃণমূলের ভিভিআইপি নেতাকর্মীরা আজ একত্রে এই শহীদ দিবসে উপস্থিত রয়েছেন। শুধু কলিকাতা নয় সারা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা এমনকি মফরশল এরিয়া থেকেও লাখ লাখ মানুষ রাত দিন এক করে এই সভা মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন। প্রত্যন্ত সুন্দরবনের নামখানা ব্লক থেকে বেশ কয়েক হাজার মানুষ এই শহীদ স্মরণে গিয়েছেন।

নামখানা ব্লকের সমস্ত বাজারে দোকানপাট বন্ধ। রাস্তায় চলছে না তেমন একটা গাড়ি ঘোড়া। দু-একটা টোটো ভ্যান চললেও লোকজন রয়েছে হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন ।

প্রত্যেকদিন সকাল থেকে গ্রামেগঞ্জে প্রত্যেকটা বাড়িতে বাড়িতে টিভিতে শোনা যেত সিরিয়াল বা রিয়ালিটি শো এমনকি মুভি। কিন্তু আজ চিত্রটি ছিল পুরো ভিন্ন। সকাল হতেই বাড়িতে বাড়িতে শোনা হচ্ছে নিজের পছন্দের নিউজ চ্যানেলের খবরাখবর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নামখানার এক বাসিন্দা বলেন, অন্যান্য দিন ঘুম থেকে উঠি আমি ছটায়। আজ একুশে জুলাই থাকার ফলে ঘুম থেকে উঠেছি ভোর পাঁচটায়। টিভি খুলতেই সাংবাদিকরা দেখাচ্ছেন ২১ এর সভার চালচিত্র। প্রতিদিন কাজে যেতাম আজ আমি ছুটি নিয়েছি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা দেখবো বলে।

সমগ্র নামখানা ব্লক জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দাপট থাকলেও ভারতীয় জনতা পার্টি থেকে শুরু করে সিপিআইএম, কংগ্রেসের মত নেতা কর্মীদের কর্মসূচি কিন্তু অব্যাহত। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামে গঞ্জে রূপ-বৈচিত্র পরিবর্তন হয় দীর্ঘ ৩৪ বছর বাম জামানায় নামখানা ব্লকের তেমনভাবে কোন পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল না। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের তথা মা মাটি মানুষের সরকার ২০১১ সালে আসার পর নামখানা ব্লকের রূপ বৈচিত্র আমূল পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। আমরা নামখানা ব্লকের মৌসুনি দ্বীপকে শস্যের ভান্ডার বলে থাকি। সেখানে এক সময় কারেন্ট বলতে মানুষ সোলারের আলো ভাবতো। এই দ্বীপে সোলার প্রজেক্ট থাকলেও মাত্র হাতে-গোনা বেশ কয়েকটি বাড়িতে কেবলমাত্র একটি বা দুটি পয়েন্টে আলো জ্বলতো সে আবার রাত আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত।

এই প্রসঙ্গে সমাজসেবী সহদেব মাইতি বলেন, ‘বাম আমলে ১ কিলোমিটারে একটি টিউবওয়েল থাকত। এখন পঞ্চায়েতের উদ্যোগে মৌসুমী দ্বীপে মোট ২৪০ টি টিউবওয়েল রয়েছে। পাকা রাস্তা তো দূরের কথা মাটির রাস্তা থাকলেও সে রাস্তায় দীর্ঘ কয়েক বছর মাটি পড়তো না। খুব খারাপ রাস্তা দিয়ে চলতে হতো। বর্ষাকাল এলে তো আর কোন কথাই নাই। অর্ধেক দিন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলেই যেতেন না। কিন্তু এখন অলি গলি রাস্তা থেকে শুরু করে এমনকি মৌসুনি দ্বীপের সমগ্র খেয়াঘাটও কংক্রিটের তৈরি করা হয়েছে।’

কিন্তু আজ এই ২০২২ এ মৌসুমী দ্বীপ পর্যটকদের কাছে পর্যটন ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আজ এই ২১ জুলাই শহীদ সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে শুধু এই সুন্দরবনের মানুষ নয় সমগ্র রাজ্যে প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ আজ ছুটে গিয়েছে।

আশালতা দাস মৌসুনি দ্বীপের এক বয়স্ক বৃদ্ধা বলেন, আমার অনেক দিনের ইচ্ছা মমতা দিদিকে কাছ থেকে একবার দেখার। টিভিতে দেখেছি। আজ উনি না থাকলে আমাদের মৌসুমী দ্বীপের দুর্দশা আরও খারাপ হয়ে যেত। তাই আমার মৃত্যুর আগে যেন দিদিকে নিজের চোখে একবার দেখে যেতে পারি।