শুক্রবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

নামখানায় এসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্বন্ধে কি বললেন অগ্নিমিত্রা পল

News Sundarban.com :
জুন ২৩, ২০২২
news-image

ঝোটন রয়, নামখানা : দক্ষিণ 24 পরগনার নামখানা ব্লকে অনুষ্ঠিত হলো ভারতীয় জনতা পার্টির জনসভা। এই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন আসানসোলের বিধায়ক তথা রাজ্য সম্পাদিকা অগ্নিমিত্রা পল উপস্থিত ছিলেন মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রদ্যুৎ বৈদ্য, সোমনাথ ব্যানার্জি, কৃষ্ণ বৈদ্য, চার্লস নন্দি,দীপক হালদার, মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার সভাপতি বিপ্লব নায়েক, মন্ডল ৫ এর সভাপতি অনুপ সামন্ত, কবিতা গিরি, পিযুষ পাত্র, দীলিপ প্রধান, মন্ডল ৬ এর সভাপতি বারীন্দ্রনাথ বাবু, রামকৃষ্ণ পাত্র সহ অন্যান্য ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা কর্মীরা।

নামখানা ব্লকের সাতমাইল বাজার ভারতের জনতা পার্টির জনসভা নিয়ে পার্টির নেতা এবং কর্মীদের কয়েক দিন রাতে ঘুম ছুটেছিল। রাত পোহালেই শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে অগ্নিমিত্রা পল এর মত লড়াকু নেতা ও নেত্রীদের জনসভা হবে এই এলাকায়।

নামখানা ব্লকে ভারতীয় জনতা পার্টি আরো জোরদার করতে এই ভিআইপি নেতাদের নিয়ে আসা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তিন দিন ধরে চলছে নামখানা ব্লকের মাইকে প্রচার যতই দিন এগোচ্ছে ততোই দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন আসতে শুরু করে। জনসভার দিন জনসমুদ্রে ভাসল সাতমাইল বাজার। বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বলেই দিলেন নামখানা ব্লকে এত জনসমাবেশে মিটিং আমার লাইফে এই প্রথম। কপালে চন্দনের ফোঁটা ও হাতে পদ্ম ফুল দিয়ে বরণ করলেন কর্মীরা। অধীর আগ্রহে দূরদূরান্ত থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা-কর্মীরা বসে আছেন জনমানুষের উদ্দেশ্য ভিআইপি তারকাদের মুখ থেকে কিছু বক্তব্য শোনার জন্য।

কেউ আবার বলেই দিলেন সময় নষ্ট না করে আপনি কিছু বলুন। আমরা অধীর আগ্রহে বসে রয়েছি আপনাদের দুটো কথা শুনব বলে।

অগ্নিমিত্রা পল বলেন, যারা এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সংসার চালানোর জন্য আশা করেছিল যে আমার চাকরিটা হবে। মেধাতালিকাতে তাদের নাম বেরিয়েছিল। তাদেরকে দেখুন কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় বসে 70 দিন তারা অনশন করেছিল। দিদিমণি তো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমাদের চাকরি হবে। দিদিমণি তো প্রতিশ্রুতি রাখলেন না। সেই শিক্ষক শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিলেন একজন ক্যান্সারের প্রেসেন্ট। একজনের আবার মাথায় টিউমার ছিল অপারেশন হয়েছে। ত্রিপল খাটিয়ে বসে রয়েছেন যে কবে দিদিমণি আমাদের দিকে তাকাবে। আমাদের যোগ্য প্রার্থী তালিকা নাম উঠেছে আমাদের চাকরি হবে। কিন্তু পরে আমরা দেখলাম কলকাতা পুলিশ এসে ওই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারতে মারতে তাদেরকে পুলিশ ভ্যানে তুলল। এবং তাঁদেরকে নিয়ে যাওয়া হল লালবাজার সেন্ট্রাল লকাপে। যারা সমাজের গুরু। যাদের দ্বারা একটি সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে তাদেরকে আজ চোখের সামনে দেখছি পুলিশ বেধড়ক মারছে। এমন দৃশ্য এই বাংলায় কেবলমাত্র দেখতে পাওয়া যায়। এই রাজ্যে যে যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আজ অযোগ্য। বক্তব্য চলাকালীন মঞ্চে উপস্থিত হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী আসার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি থেকে নামার পর রাস্তা দুই দিক থেকে ফুল বৃষ্টি ঝরে পড়ে। জনসভার পুরো প্রাঙ্গণটি হাতের করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়।

অন্যদিকে মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার সভাপতি বিপ্লব নায়েক বলেন, শিক্ষার দাম আর পশ্চিমবঙ্গে দিচ্ছে না। যারা প্রকৃত শিক্ষিত তারা পুলিশের হাতে লাঠি পেটা খাচ্ছে। যারা সাদা কাগজ জমা দিচ্ছে। দল বদলে যে সমস্ত নেতারা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন তাঁদের ছেলেমেয়েরা যতই অশিক্ষিত হোক বা যতই নিম্নমানের রেজাল্ট হোক তারাই আজ চাকরি পাচ্ছে। মোদ্দাকথা সরকারের শিক্ষাব্যবস্থা তলানীতে যাক। আর পার্টিটা আমার টিকে থাক। তিনি আরো বলেন, আমাদের এই জনসভায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছিল।