বুধবার, ২৫শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বিগত নির্বাচনী প্রচারের মত এবারও সিএএ’কে হাতিয়ার করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

News Sundarban.com :
মে ৬, ২০২২
news-image

রোশনি মিত্র: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অমিত শাহর রাজ্য সফরকে কেন্দ্র করে আবারও উঠে এল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ প্রসঙ্গ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সিএএ বিল সাংসদে পাশ হলেও দীর্ঘ সময় পর এখনও বাংলায় কার্যকর হয়নি। অথচ ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের সময় সিএএ এবং এবার ২০২৪ সালের লোকসভা ও পঞ্চায়েত ভোটের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহের মুখে সিএএ কার্যকর হওয়ার কথা পুনরায় শোনা গেল। প্রতিবার নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে প্রচারে এসে অমিত শাহ সিএএ কার্যকর করার কথা ঘোষনা করেন। অদৌ কি সিএএ কার্যকর হবে নাকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর মাধ্যমে দলের কর্মীদের উৎসাহিত করার পন্থা বেছে নিয়েছেন?

শিলিগুড়ি রেলওয়ে ইন্সটিটিউট ময়দানের সমাবেশে সিএএ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র মন্তব্য, করোনা মহামারি শেষ হলেই এই নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বা সিএএ কার্যকর করা হবে। কোভিড সংক্রমণে জন্যই এই কাজ বন্ধ কয়েছে। পাশাপাশি তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গুজব না ছড়ানোর আবেদনও জানান। অমিত শাহ  বলেন, আমি উত্তরঙ্গে এসেছি। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে তৃণমূল কংগ্রেস গুজব ছড়াচ্ছে।তারা প্রচার করছে সিএএ কার্যকর হবে না। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছি কোভিড শেষ হয়ে গেলেই সিএএ কার্যকর হবে।

২০১৯ লোকসভা ও ২০২১বিধানসভা ভোটে মতুয়া  প্রভাবিত রানাঘাট- বনগা থেকে ৩৯% অর্থাৎ একটা বড় অংশের ভোটে বিজেপি ক্ষমতায় আসে। এদিন সিএএ  প্রসঙ্গে মতুয়া  সং ঘের সংঘাধীপতি শান্তনু ঠাকুর বলেন,  সরকারি বৈঠক ছিল। আজ সিএএ নিয়ে কোনও কথা হয়নি। আগে যে কথা হয়েছে সেই অনুযায়ী ২০২৪ সালের মধ্যে সিএএ কার্যকর  হবেই।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সিএএ কার্যকর করার পাল্টা জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নাগরিকদের অপমান কিছুতেই মেনে নেব না। নাগরিকদের অপমান করার অধিকার নেই। নাগরিকদের অপমান মানব না। দেশকে টুকরো করতে চায় বিজেপি। আমরা কোনও রকম এনপিএ, সিএএ চাই না’। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি,  অলরেডি সবাই নাগরিক। আমি তো মনে করি এখানে যাঁরা বাস করেন, তাঁরা ভোট দিয়েছেন বলেই তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী দেশ চালাচ্ছেন। তাঁরা যদি নাগরিক না হন তাগলে ভোট দিলেন কী করে?

২০১৪ সালে নির্বাচন জয়ের আগে সিএএ নিয়ে  বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০১৬ সালে এই আইন লোকসভায় পাশ  হয়। ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরই সিএএ নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধী দলগুলি বিজেপির এই আইনকে বৈষম্যমূলক বলেও দাবি করে। এই আইনে বলা হয়েছে ২০১৫ সালের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যেসব অমুসলিম অভিবাসীরা ভারতে এসেছিল তাদেরও শুধুমাত্র নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

এই আইনের মাধ্যমে মুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই আইনের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্রসহ গুয়াহাটি, আগরতলা, কলকাতা, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, কেরল ও কর্নাটকে ।