শুক্রবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সৎ বাবার লালসার শিকার ১০ বছরের নাবালিকা

News Sundarban.com :
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১
news-image

নিজস্ব প্রতিনিধি,ক্যানিং – সৎ বাবার লালসার শিকার হল বছর দশেকের এক নাবালিকা। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিং থানার অন্তর্গত তালদি এলাকায়। পুলিশ সৎ বাবা কে গ্রেফতার করে ওই নাবালিকা কে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে তালদি এলাকার বাসিন্দা রাজু সরদার।

পেশায় সে একজন গাড়ি চালক। রাজু সরদার এক মহিলা কে বিয়ে করে সংসার করছিল। বিগত প্রায় বছর ছয়েক আগে বারুইপুর থানার রামধারী এলাকার এক গৃহবধুর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। পরে ওই গৃহবধুকে তার স্বামীর কাছ থেকে ছাড়িয়ে এনে বিয়ে করে। ওই গৃহবধুর দুই নাবালিকা কন্যা ছিল। বড় মেয়েকে তার প্রথম স্বামী বিয়ে দিয়ে দেওয়ায় ছোট মেয়ে কে নিয়ে রাজুর হাত ধরে চলে আসে।

বর্তমানে ওই মহিলার দুটি শিশু সন্তান ও হয়। দিব্যি চলছিল। আচমকা গত কয়েক দিন আগে ছোট মেয়ে বাড়িতে ঢুকতে ভয় পাচ্ছিল। কেন ভয় পাচ্ছি ওই গৃহবধু জিঞ্জাসা করতেই সৎ বাবার অপকর্ম বলে দেয় সে।সে জানায় তার সৎ বাবা বাড়িতে একবার এবং বাড়ির বাইরে দুবার তার সাথে জোর পূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। কাউকে বললে প্রাণ নাশের ও হুমকী দিচ্ছিল। রাজুও তার সৎ মেয়ের সাথে জোর করে অবৈধ সম্পর্ক স্থান করে গলা টিপে মেরে ফেলতে চাইছিল বলে অভিযোগ ওই গৃহবধু ও তার নাবালিকা কন্যার।

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে সোমবার ভোর প্রায় চারটের সময় ওই নাবালিকা ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসে তালদি ষ্টেশন এলাকায়। স্থানীয় তপশিলি জাতি উপজাতি সংখ্যালঘু উন্নয়ণ মহিলা সমিতি’র দ্বারস্থ হয়ে বাঁচানো আর্জি জানায় ওই নাবালিকা। মহিলা সমিতির সদস্যা রুপালী মন্ডল,চন্দ্রিমা চক্রবর্তী,বীনা নস্কর,শোভা নস্কর,নিলীমা মন্ডল,পার্বতী চকদার’রা ওই নাবালিকার কাছে সমস্ত ঘটনার কথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

তাঁরা ওই নাবালিকা কে সাথে নিয়ে তার বাড়িতে যায়। সেখান থেকে রাজু সরদার কে ধরে নিয়ে আসেন। মহিলা সমিতির দাবী রাজু তার কৃতকর্মের কথা স্বীকার করেছে। পরে মহিলা সমিতির মহিলারা সৎ বাবার কঠোর শাস্তির আবেদন জানিয়ে ক্যানিং থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পাশাপাশি স্বামীর অপকর্মের জন্য শাস্তির দাবী জানিয়ে ইতিমধ্যে ওই নাবালিকার মা ক্যানিং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করে রাজু সরদার বলে ‘আমি প্রথম স্ত্রীর কাছে মাঝে মধ্যে যাওয়া আসা করি। সেটা মেনে নিতে দ্বিধা ছিল দ্বিতীয় স্ত্রী’র। যার জন্য চক্রান্ত করে আমাকে মা ও মেয়ে ফাঁসিয়েছে। অন্যদিকে ক্যানিং থানার পুলিশ সৎ বাবা কে গ্রেফতার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।