বুধবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিলেন দরিদ্র হকার

News Sundarban.com :
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং – কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিয়ে অনন্য বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দরিদ্র এক হকার।শুক্রবার রাতে ক্যানিং ষ্টেশনে কুড়িয়ে পাওয়া এক হাজার সাতশো টাকা ও মূলবান কাগজপত্র নিজের উদ্যোগেই ফেরত দিলেন হকার দম্পতি দিলীপ ঘোষ ও কমলা ঘোষ।

 

শুক্রবার বিকাল তখন প্রায় চারটে। ক্যানিং ষ্টেশন থেকে ট্রেন বাঁশি দিয়েছে শিয়ালদহের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য। তড়িঘড়ি ট্রেন ধরার জন্য দৌড়ে যায় এক গৃহবধু।আর তখই ঘটে বিপত্তি।বাসরী সাহা নামে ওই গৃহবধুর হাত থেকে ষ্টেশনের ভীড়ের মধ্যে টাকার ব্যাগটি পড়ে যায়।ক্যানিং ষ্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার পর টাকার ব্যাগ খোঁজ করেন ওই গৃহবধু। না পেয়ে ট্রেনের মধ্যে কান্নায় ভেঙে পড়ে।এদিকে ক্যানিং ষ্টেশনে ভীড়ের মধ্যে টাকার ব্যাগটি প্লাটফর্মে পড়ে রয়েছে নজরে পড়ে হকার দিলীপ ঘোষের। তৎক্ষনাৎ তিনি ব্যাগ টি তুলে নেন। ব্যাগ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ। ব্যাগের মধ্যে রয়েছে ১৭০০ টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র।টাকার ব্যাগ পেয়ে কি করবেন ভবে উঠতে পারছিলেন না। অগত্যা হকার দিলীপ ঘোষ তাঁর স্ত্রী কমলা দেবীর সাথে আলোচনা করেন। যার টাকা তাকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।শেষ পর্যন্ত টাকার ব্যাগ পুলিশে জমা দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেন ওই হকার দম্পতি।টাকার ব্যাগ নিয়ে জমা দিতে যাওয়ার আগের মুহূর্তে ব্যাগ থেকে একটি চিরকূট লেখা ফোন নম্বর পায়।পুলিশে না গিয়ে ওই হকার দম্পতি টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন।সন্ধ্যা তখন প্রায় ৬ টা। আপ ক্যানিং শিয়ালদহ ট্রেন থেকে বাঘাযতীন ষ্টেশনে নেমেছেন গৃহবধু বাসরী সাহা।গন্তব্য বাঘাযতীনের রবীন্দ্র পল্লী।এদিন সকালে তিনি বাসন্তীর চড়াবিদ্যা গ্রামের বাপের বাড়ীতে গিয়েছিলেন।বাঘাযতীনে ফেরার তাড়া থাকায় সেই সময় ক্যানিং ষ্টেশনে তার টাকার ব্যাগ অসাধনবশতঃ পড়ে যায়।

 

আচমকা অপরিচিত এক ফোন নম্বর থেকে জানানো হয় কিছু হারিয়েছে কি না দেখুন। যদি হারিয়ে থাকে দয়া করে ক্যানিং ষ্টেশনে এসে নিয়ে যাবেন।প্রথমে ঘাবড়ে গেলেও পরে রিক্সাচালক স্বামী ভরত সাহাকে নিয়েই রাতেই ক্যানিং ষ্টেশনে হাজীর হয় ওই গৃহবধু।হকার দম্পতি কুড়িয়ে পাওয়া ১৭০০ টাকা ও মূল্যবান কাগজপত্র ফেরত দেয়।

 

ঘটনা প্রসঙ্গে ক্যানিং ষ্টেশনের হকার সিকান্দর সাহানী(শিবা) বলেন ‘হকাররা দরিদ্র হতে পারে,কিন্তু তাদের মানবিক দিকটা পাহাড় চূড়ার ন্যায়। যার ফলে ক্যানিং ষ্টেশনের একাধিক হকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র, টাকার ব্যাগ পেয়ে ফেরত দিয়েছে। সেই সুনাম আজও অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার রাতে দিলীপ ঘোষের জন্য আবার ও নতুন পালক যুক্ত হল ক্যানিং ষ্টেশনের হকার মহলে। এতে করে আমরা ক্যানিং ষ্টেশনের হকাররা গর্বিত।’
কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দেওয়া প্রসঙ্গে হকার দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন ‘যখন টাকার ব্যাগ পেয়েছিল তখন থেকেই চিন্তায় ছিলাম যার ব্যাগ তাকে যেনতেন প্রকারে ফেরত দিতে হবে।কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে পেরে খুব আনন্দিত।’

অন্যদিকে বাসরী সাহা ও ভরত সাহা হারিয়ে যাওয়া টাকা ফেরত পেয়ে জানিয়েছেন ‘ভেবেছিলাম টাকার ব্যাগ যখন হারিয়েছে,তখন আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।কিন্তু টাকার ব্যাগ কুড়িয়ে পেয়ে এই ভাবে ফোন করে টাকা ফেরত দেবে ধারণা ছিল না।হকার দম্পতিকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’