বুধবার, ২৫শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করলো বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল

News Sundarban.com :
ডিসেম্বর ১৯, ২০২০
news-image

নিউজ সুন্দরবন ডেস্ক:   দলের জেলা সহ সভাপতি, বিষ্ণুপুরের প্রাক্তন পৌর প্রধান, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করলো বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল। শুক্রবার সকালে জেলা তৃণমূল ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এই খবর জানালেন দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা। একই সঙ্গে জেলা যুব তৃণমূলের সম্পাদক জয়দীপ দাস, বিষ্ণুপুর টাউন যুব সহ সভাপতি মানস বোস ও ‘যুব যোদ্ধা’র জেলা কমিটির সদস্য সুদীপ সেনের ইস্তফাপত্র গৃহীত হলো বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, পোড় খাওয়া রাজনৈতিক নেতা, দীর্ঘ ৩৪ বছর বিষ্ণুপুর পৌরসভার আসন অলঙ্কৃত করা, প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সম্প্রতি পৌর প্রশাসকের পদ থেকে অপসারিত করা হয়। আগেই বিষ্ণুপুর ব্লক সভাপতির পদ খুইয়েছেন তিনি। যদিও তাঁকে জেলা তৃণমূল সহ সভাপতি হিসেবে রাখা হয়েছিল। এমনকি দলের তরফে ‘শোকজ’ও হয়েছিলেন অতি সম্প্রতি। সব মিলিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-তৃণমূলের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরী হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আচমকা বিষ্ণুপুর শহরে নিজের অফিসে সাংবাদিকদের ডেকে তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন এই বর্ষীয়াণ তৃণমূল নেতা। এমনকি তিনি নিজেকে ‘শুভেন্দু অনুগামী’, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ‘নেতা-অভিভাবক’ দাবি করে তিনি ‘বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন’ বলেই স্পষ্টতই জানিয়ে দেন। এই ঘটনার পর জেলা রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।

এদিন জেলা তৃণমূল ভবনে দলের জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা মাত্র ১২ ঘন্টার বেশী কিছু আগে দল ছেড়ে যাওয়া শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কে বেশী কিছু বলতে রাজী হননি। তিনি বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সহ বিষ্ণুপুরের তিন যুব নেতার ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ওনাকে দেওয়া হয়েছিল। নতুন কমিটির সঙ্গে উনি ঠিকমতো ‘যোগাযোগ রক্ষা’ ‘একসাথে চলা’ বা ‘মানিয়ে নিতে পারছিলেননা’। সেই কারণেই হয়তো তিনি দল ছেড়েছেন। একই সঙ্গে আর যারা ছিল তারা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘সঙ্গেই ছিল’ বলে তৃণমূল জেলা সভাপতি দাবি করেন। অতি সম্প্রতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে দলের তরফে ‘শোকজ’ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা বলেন, ‘দল ওঁকে শোকজ করেছিল, উনি উত্তর দিলেও দল তাতে সন্তুষ্ট ছিলনা’। তবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা ‘দূর্ণীতি’র অভিযোগ প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য করতে চাননি তৃণমূল জেলা সভাপতি।