মঙ্গলবার, ৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পটচিত্রের আদলে আদিবাসীদের মাটির দেওয়ালে করোনা সচেতনতায় চিত্রকর্ম

News Sundarban.com :
জুলাই ৩১, ২০২০
news-image

মৌসুমী চ্যাটার্জী, বাঁকুড়া: 

আন্তর্জাতিক খ্যতিসম্পন্ন পটচিত্রশিল্পী বাঁকুড়ার সুসন্তান যামিনী রায়ের চিত্রকলার আঙ্গিকে বাঁকুুড়ার বিষ্ণুপুরে আদিবাসী গ্রামে মাটির দেওয়ালে চিত্রকর্মের মাধ্যমে করোনা সচেতনতা গড়ে তুলছে সেখানের একদল তরুন তরুনী।
লাল কাঁকুরে মাটির জঙ্গল ঘেরা আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে সাধারণত বাইরের লোকের আনাগোনা খুবই কম। এই গ্রামে কিন্তু এখন প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে মানুষের আনাগোনা বেড়েছে এই গ্রামে সৌজন্যে বিষ্ণুপুর শহরের একদল যুবক যুবতী ।

লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও । কিন্তু তার পরেও মানুষের মধ্যে কোথাও সচেতনতার বার্তা চোখে পড়ছে আবার কোথাও অসচেতনতার বার্তা চোখে পড়ছে । আর তাই এবার অসচেতন মানুষদের সচেতন ও করোনা সম্পর্কে বার্তা দিতে এগিয়ে এলেন বিষ্ণুপুরের একদল যুবক যুবতী ।

তারা বিষ্ণুপুর মহকুমার অন্তর্গত মড়ার পঞ্চায়েতের শিয়ালকুন্দা আদিবাসী গ্রামে মানুষদের সচেতন করতে অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন । যে গ্রামে 15 টি আদিবাসী পরিবারের বসবাস। বিষ্ণুপুর শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দুরে শিয়াল কুন্দা গ্রামে বিষ্ণুপুর শহরের ওই যুবক-যুবতীরা গ্রামের বাড়ির মাটির দেওয়াল গুলিতে যামিনী রায় ঘরানার তুলির টানে অভিনব সচেতনতার বার্তা দিয়েছেন । যেখানে বিভিন্ন ধরনের ছবিতে অভিনবত্ব আনা হয়েছে । দেখা যাচ্ছে প্রতিটি ছবির মুখে মাক্স লাগানো রয়েছে । করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে গেলে সামাজিক দূরত্ব এবং মাক্স ব্যবহার করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য । আর সে কারণেই যামিনী রায় ঘরানা তুলির টানে গ্রামের মানুষদের সচেতনতার বার্তা দিলেন এই যুবক-যুবতীরা । এর ফলে শুধুমাত্র আদিবাসী এই গ্রামের মানুষই নয় সচেতনতার বার্তা পৌঁছাবে অন্যান্য গ্রাম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও । তাদের এই অভিনবত্বকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকল শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সাধারন মানুষ ।

গ্রামের এক যুবক বলেন , একটা সময় আমাদের গ্রামে কেউ আসতো না আমাদের গ্রামের নামও অনেকের কাছে অজানা ছিল কিন্তু বর্তমানে এখন দূর-দূরান্ত থেকে বহু লোক আসছে সবই এই যুবক যুবতীদের জন্য । তারা যদি আমাদের এই গ্রামে বাড়ি গুলোকে সাজিয়ে না তুই তো তাহলে আমাদের এই গ্রাম আজও অচেনা থেকেই যেত ।

যুবকদের মধ্যে একজন বলেন , বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে এখনো অনেক মানুষ অসচেতন রয়েছেন তাই সেই সমস্ত মানুষদের সচেতন করতে আমাদের এই উদ্যোগ । এর ফলে এই শিয়ালকুন্দা গ্রামের আদিবাসী মানুষগুলোর মধ্যে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে এবং তারা সচেতন হবেন ।
উল্লেখ্য, কলাসমালোচকরা বলে থাকেন, যামিনী রায়ের চিত্রশিল্পের সাথে আদিবাসীদের মাটির দেওয়ালে মুরাল পেন্টিং- অনেক সাযুয্য আছে।