রবিবার, ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

হাসপাতালে ঘুরে প্রাণ গেল সদ্য যুবার, প্রশ্নের মুখে চিকিৎসা পরিকাঠামো নিয়ে 

News Sundarban.com :
জুলাই ১১, ২০২০
news-image

নিউজ সুন্দরবন ডেস্কঃ  করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা কোনও রোগীকে যেন রাজ্যের কোনও সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল যেন না ফেরায় সে ব্যপারে একাধিক বার প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এই ধরণের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট হসাপাতালের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্য়বস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারীও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শনিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজে এক কোভিড আক্রান্ত এক যুবকের মত্যু রাজ্য প্রশাসনের এই সব নির্দেশিকার সারবত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যেভাবে গুরুতর অসুস্থ ওই ছাত্রকে নিয়ে তার অসহায় পরিবারকে একের পর এক সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরে বেরাতে হয়েছে তা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও মহামারী মোকাবিলার ফুটিফাটা চেহারাটাই সামনে এনে দিয়েছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

স্বাস্থ্য সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার ইছাপুর এলাকার এক ১৮ বছরের যুবক তীব্র শ্বাসকষ্টের জেরে শুক্রবার সকালে প্রথমে কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে ভর্তি হতে গিয়েছিল সঙ্গে চিল তাঁর বাবা-মা। কিন্তু সেখানে তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। সেই সকাল ১০টা থেকে এরপর শুরু হয় একাধিক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের দরজায় দরজায় ঘোরার পালা। যদি কোথাও একটু ভর্তি নেওয়া হয়। কিন্তু বিকাল ৫টা পর্যন্ত অবস্থার কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। শেষে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে ওই যুবকের বাবা-মা আত্মহত্যার হুমকি দিলে ওই যুবককে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়। কিন্তু রাতেই মারা যায় ওই যুবক।
ঘটনার জেরে ওই যুবকের বাবা-মার বক্তব্য, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের না ফেরানোর জন্য বারবার বলছেন। এরা কেউ কোন কথাই শুনছে না। বেড রয়েছে অথচ ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ছেলেটা একটু স্যালাইন, একটু অক্সিজেন, একটু চিকিৎসাও পেল না। একের পর এক হাসপাতাল ফেরালো। যদি অক্সিজেন পেত শ্বাসকষ্ট না হতো হয়তো বেঁচে যেত। এই কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখলাম ভিতরে বেড ফাঁকা পড়ে রয়েছে। সাগর দত্ত মেডিকেলেও দেখলাম বেড ফাঁকা পড়ে রয়েছে। নার্সিংহোমেরও বেড ফাঁকা পড়ে রয়েছে। কিন্তু সবাই ফিরিয়ে দিচ্ছে কেউ ভর্তি নিচ্ছে না।’
জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে ওই যুবককে নিয়ে তাঁর বাবা-মা প্রথমে কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে সকাল ১০টা নাগাদ ওই যুবককে দেখে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেয় যে তাঁর করোনার কোনও উপসর্গ নেই। হাই সুগারের কারনে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। কিন্তু সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ওই যুবককে নিয়ে তাঁর বাবা-মা এরপরে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ যান মিডল্যান্ড নার্সিং হোমে। কিন্তু সেখানে ওই যুবককে ভর্তি নেওয়া হয়নি। সেখান থেকে তাঁরা যান সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও ওই যুবককে ভর্তি নেওয়া হয়নি। এদিকে শ্বাসকষ্টের জেরে ওই যুবক তখন অচৈত্যন্য হয়ে পড়ে। তারমধ্যেও বাইরে টানা ২ ঘন্টা পড়ে থাকে ওই যুবক। সেই সময় তাঁর বাবা-মা যাতে ছেলেকে ভর্তি করানো যায় তার জন্য ১০০ ডায়াল, স্বাস্থ্য ভবন, ডিজি কন্ট্রোল, মায় স্থানীয় পুলিশকেও ফোন করেন। শেষে বেলঘরিয়া থানা থেকে তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয় ছেলেকে নিয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যেতে। সেই পরামর্শ শুনে দম্পতি সেটাই করেন। কিন্তু সেখানে দুপুর ২টো থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ওই যুবককে ভর্তিই নেওয়া হয়নি। শেষে ওই দম্পতি আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ওই যুবককে ভর্তি নেওয়া হয়। সেখানেই রাত ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ মারা যান ওই যুবক।কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করে দেখা হচ্ছে।
রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর অবশ্য এই ঘটনার জন্য সমন্বয়ের অভাবকে দায়ী করেছে।প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মুখ না খুললেও মেডিকেল কতৃপক্ষের কাছে ওই ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর।অন্যদিকেে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্যের এক স্বাস্থ্য প্রশাসক এই ঘটনার জন্য ব্যবস্থাপনার খামতির দিকে আঙুল তুলেছেন।রাজ্য সরকার কোভিড টাস্ক ফোর্স থেকে নজরদারি কমিটি গঠনের মতো নানা পদক্ষেপ নিলেও সেসব শুধুমাত্র লোক দেখানো ব্যবস্থাপনা হিসাবেই থেকে যাচ্ছে বলে তাঁর অভিমত। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয় এবংং কোভিড চিকিৎসার অভিন্ন প্রটোকল না তৈরি হলে বারবার এধরণের মর্মান্তিক ঘটনার পূনরাবৃত্তি হতেই থাকবে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।