মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

 সাধারণ মানুষ ও গাড়ি চালকদেরকে সচেতন করতে রাজপথে নামলেন পুলিশ কর্তারা

News Sundarban.com :
জুলাই ৮, ২০২০
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং –

বুধবার সকালে ক্যানিংয়ে পালিত হল সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ কর্মসুচি।শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা উড়িয়ে এবং এক বিশাল পদযাত্রার মধ্য দিয়ে সেফ ড্রাইভ,সেভ লাইফ সচেতনতা কর্মসূচির সুচনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(হেড কোয়ার্টার) সন্দীপ মন্ডল।
অন্যান্য পুলিশ আধিকারীকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্যানিং থানা ও মহিলা থানার আইসি অমিত কুমার হাতি,মুনমুন চৌধুরী,ক্যানিং ট্রাফিক এসআই দেবপ্রসাদ সরকার,বিকাসিন্ধু বিশ্বাস,ক্যানিং ট্রাফিকের ৪০ জন ট্রাফিক সিভিক ভলেন্টিয়ার সহ সুজিত সাহা,সুমন বারিক,সমীর বিশ্বাস ,অরুপ কয়াল সহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য সমগ্র পৃথিবীর ইতিহাসে রাস্তায় বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনায় আমাদের দেশ ভারতবর্ষে রেকর্ড হারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।পথ দুর্ঘটনায় একাধিক মৃত্যু এড়াতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী গত ২০১৬ সালে ৮ জুলাই “সেফ ড্রাইভ,সেভ লাইফ” কর্মসুচির সূচনা করেছিলেন।

অন্যদিকে সতর্কতা অবলম্বন করা স্বত্বেও হেলমেট হীন,কানে মোবাইল গুঁজে অসতর্ক ভাবে বেপরোয়া যান চলাচলের জন্য একাধিক পথ দুর্ঘটনা, একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে।কে শোনে কার কথা!উন্মাদ,মদ্যপ অবস্থায়,হেলমেট হীন ভাবে বাইক,গাড়ী চালিয়ে যেন অভ্যস্থ।“
সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ” নামক যতই সতর্কবানী কিংবা প্রচার হোক না কেন কোন কথা কিংবা নিয়ম কানুন তোয়াক্কা না করেই অনেকেই আজ খুবই অল্প বয়সে পরিবারের সকলকে ছেড়ে কেউ শশ্মানে আবার কেউ বা আবার কবরে স্থান দখল করে স্মৃতি হয়ে গিয়েছে নিঃশব্দে।
হয়তো হেলমেট পরে স্বাভাবিক গতিতেই গাড়ীটি চালালে সেদিনই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হতো না।

সে বিষয়ে দুর্ঘটনা এড়িয়ে হেলমেট পরে গাড়ী চালানোর অাবেদন নিয়ে বুধবার সকালে ক্যানিং ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে ক্যানিং মাতলা ব্রীজ সংলগ্ন রবীন্দ্র মূর্তির পাদদেশ থেকে ক্যানিং থানা পর্যন্ত এক বিশাল পদযাত্রার মাধ্যমে জনসাধারণ কে মুখ্যমন্ত্রীর সাধের “সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ” কর্মসূচীর বিষয়ে সচেতনতা করা হয় এক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে।
এত কিছুর পরও কিন্তু বিধি বাম, ট্রাফিক নিয়ম কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাইকের সামনে পুলিশ,প্রেস,অ্যাডভোকেট,এক্স আর্মি,ডাক্তার,এমারজেন্সী,অন ডিউটি লিখে দিব্যি হেলমেটহীন,সিট বেল্টহীন গাড়ী চালকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে দিনের পর দিন। এছাড়াও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর “সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ” বানচাল করতে তাঁরই দলের নেতাদের জুড়িমেলা ভার। বিশেষ করে ইদানিং রাজনৈতিক সব নেতা নেত্রীরা একটি বাইকে দুজন কিংবা তিনজন করে হেলমেট হীনভাবে দাপটের সাথে মিটিং মিছিল কিংবা এলাকায় যাতায়াত করে থাকেন।
নিয়ম ভেঙে গাড়ী চালানোর জন্য যদিও বা ট্রাফিক পুলিশ ধরেন,নেতা নেত্রীরা ধমক দিয়ে ভাইয়ের বাইক ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন।
এই ক্ষেত্রে পুলিশ যদি সঠিক নিয়ম মেনে গাড়ী না ছাড়েন তাহলে অাবার উর্দ্ধতন পুলিশ অফিসার নেতাদের কথায় গাড়ী ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাছাড়াও যাঁরা রাস্তার উপর রোদ ঝড় জল উপেক্ষা করে পরিবারের লোকজনদের কে বাড়িতে ফেলে রেখে ট্রাফিক সামলান সেই সমস্ত ট্রাফিক পুলিশ কর্মীরা নেতাদের কথা না শোনায় যাতে শাস্তি হয় সে বিষয়ে তোড়জোড় শুরু করেন উর্দ্ধতন অফিসাররা।অারো একটি বিষয়ে সজাগ হলে খুবই ভালোই হয় সেটা অনেক সময় পকেট ভারী করার জন্য ১০০/২০০ টাকা নিয়ে নিয়ম বহিঃর্ভুত গাড়ী কিংবা চালককে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই বিষয়টি যদি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা যায় তাহলে “সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফ ” কর্মসূচীর প্রভাব বা বিস্তার লাভের পাশাপাশি সমাজে আখেরে লাভ হতে বাধ্য।তাছাড়া কোন কিছু না দেখেই যদি সাধারণ ভাবে একটু নিয়ম মেনে সতর্ক হলেই তবেই কমবে এমন দুর্ঘটনা।
এছাড়া বিশেষ করে ট্রাফিক পুলিশ যদি একটু সতর্ক ভাবে পুলিশ,প্রেস,অ্যাডভোকেট,এক্স আর্মি,এমারজেন্সী,অনডিউটি ষ্টীকার সাঁটানো গাড়ী গুলি সঠিক ভাবে গাড়ীর কাগজ,ড্রাইভিং লাইসেন্স,চালকের পরিচয়,কিংবা গাড়ীতে যে ষ্টীকার সাঁটানো রয়েছে সেটি সঠিক কি না সে সম্পর্কে একটু সজাগ হলে কিছুটা হলেও হেলমেট হীন উদ্ভট গাড়ী ও গাড়ীর চালকের সংখ্যা কমতে বাধ্য হবে।কারণ গাড়ীতে এমনই ষ্টীকার সাঁটিয়ে ইদানিং দুষ্কৃতি থেকে সমাজ বিরোধীরা বুক ফুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
ফলে সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফ সম্পর্কে সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসন ও জনসাধারণ স্বতঃষ্ফুর্ত ভাবে আইনকে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে না এলে আগামী দিনে অমূল্য,অমর,অনাথরা সমাজের বুক থেকে হারিয়ে যাবে!