বৃহস্পতিবার, ৭ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

খেলতে জানলে একটা পা যথেষ্ঠ

News Sundarban.com :
জুলাই ৪, ২০২০
news-image

দুই পায়ে সমান শট নিতে পারেন, হেডে ভালো, শারীরিকভাবে ফিট ফুটবলারদের কদর বেশি। তাদের পরিপূর্ণ ফুটবলার মনে করা হয়। যুব একাডেমিতে তারা বেশি কদর পান। কিন্তু অনেক ফুটবলারই প্রমাণ করেছেন, পায়ের মতো পা হলে কিংবা খেলতে জানলে একটা পা যথেষ্ঠ।

লিওনেল মেসি: বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি। সর্বকালের সেরার তালিকায়ও নাম থাকবে তার। তিনি মূলত বাঁ-পায়ের ফুটবলার। আরেকটা পা পুরোপুরি অকেজো বলা ঠিক হবে না। ওই পায়েও মেসি তার ক্যারিয়ারের ১৫ ভাগের মতো গোল করেছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারে সাতশ’ গোল করা এই ফুটবলার যে এক পায়ের সেরা জাদুকর তা মানতে হয়তো অনেকের দ্বিধা নেই।

ডিয়াগো ম্যারাডোনা: আর্জেন্টিনার সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে এটা অমিমাংসিত প্রশ্ন। বিশ্বকাপ জেতায় অনেকে ম্যারাডোনাকে এগিয়ে রাখেন। মেসির যুগের ভক্তরা মেসিকেই এগিয়ে রাখেন। কিন্তু মেসির মতো ম্যারাডোনাও এক পায়ের জাদুকর। তার ক্যারিয়ারের পুরোটা ঘুরে আসলে ডান পা ক’বার ব্যবহার করেছেন গুনে বলা যাবে।

রর্বাতো কার্লোস: ব্রাজিলের এই রিয়াল মাদ্রিদ লেফট উইঙ্গ ব্যাক ফুটবলের ছক বদলে দিয়েছেন। রক্ষণ সামলে যে আক্রমণেও দুর্দান্ত ভূমিকা রাখা যায়। রক্ষণভাগের একজনকে নিয়ে প্রতিপক্ষ কতটা চিন্তিত থাকতে পারে সেটা কার্লোসকে দেখলেই বোঝা যায়। তিনিও ছিলেন বাঁ-পায়ের কারিগর। দুর্দান্ত গতিতে শট নিতে পারতেন তিনি। কার্লোস বুঝিয়ে দিয়েছেন ফুটবলে পায়ের মতো পা, একটা থাকলেই যথেষ্ঠ।

রিভালদো: ব্রাজিলিয়ান এই উইঙ্গারের একটা ডান ‘পা’ ছাড়া সবই আছে। এমনই বলে থাকেন অনেকে। অসাধারণ উচ্চতা, ফিটনেস, বাঁ-পায়ের জাদু। কিন্তু তার ডান পা’টা ছিল ‘কানা’। বিশ্বকে ফুটবল শৈলী দিয়ে বুদ করতে তাতে তার কোন সমস্যা হয়নি।

ডেভিড বেকহাম: মেসি-কার্লোসরা যদি বাঁ-পায়ের জাদুকর হন। তবে ঈশ্বরের উপহার দেওয়া একটা ডান পা পেয়েছিলেন ডেভিড বেকহাম। তার ওই এক পা দিয়েই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, এসি মিলান, পিএসজির মতো ক্লাব মাতিয়েছেন। তার ক্যারিয়ারের ১১৪ গোলের অধিকাংশই ডান পায়ে করা।

গ্যারেথ বেল: একশ’ মিলিয়ন ইউরোর রেকর্ড গড়ে রিয়াল মাদ্রিদে আসা এই ওয়েলস তারকাও এক পায়ের ফুটবলার। উচ্চতা, গতির সঙ্গে ঈশ্বরের কৃপা পাওয়া একটা পা। সফল হতে আর কী লাগে। বেল হয়তো ক্যারিয়ারে চূড়ান্ত সফলতা পাননি। কিন্তু তার বাঁ-পা দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছেন।

রায়ান গিগস: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি তিনি। টানা ২৪ বছর রেডসদের হয়ে খেলে অবসর নিয়েছেন। ম্যানইউ ও ওয়েলসের হয়ে খেলেছেন এক হাজারের মতো ম্যাচ। দুইশ’র কাছাকাছি গোল করা এই ফুটবলার দীর্ঘ ২৪ বছর ফুটবল বিশ্বকে তার বাঁ-পায়ের জাদু দেখিয়েছেন।

আরিয়েন রোবেন: ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় তিনি ডান উইঙ্গে খেলেছেন। কিন্তু জাদু দেখিয়েছেন বাঁ-পায়ের। তার ক্যারিয়ারের ৮০ ভাগ শট তিনি বাঁ-পায়েই নিয়েছেন। ওই এক পায়েই চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্নের মতো বড় ক্লাবে খেলেছেন।

রোনাল্ড কোম্যান: বর্তমান নেদারল্যান্ডস কোচ ছিলেন ডান পায়ের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার। এক পা নিয়ে রক্ষণ সামলানো সহজ কাজ নয়। কিন্তু তিনি সেটা করেছেন দক্ষতার সঙ্গে। ক্যারিয়ারে ছয়শ’র মতো ম্যাচ খেলে দুইশ’র ওপরে গোল করেছেন। ডিফেন্ডার হিসেবে যা সর্বকালের সেরা।

পিওতর চেক: ব্যাক পাস গোলরক্ষক হাত দিয়ে ধরতে পারবেন না। তাকে ওই বলে শট নিতে হবে। ধরলে পেনাল্টি। আইনটা ১৯৯২ সালে ফুটবলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। গোলরক্ষকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ হয়। কাজটা কঠিন হয়ে ওঠে এক পায়ে শক্তিশালী গোলরক্ষকদের জন্য। কিন্তু ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার চেলসি-আর্সেনাল ও চেক রিপাবলিকের গোলরক্ষক  পিওতর চেক দায়িত্বটা খুব সহজেই সামলেছেন।