রবিবার, ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

করোনা সচেতনতার বেড়াজালে সংসার কাঁধে উচ্চমাধ্যমিক ছাত্রের

News Sundarban.com :
জুন ৭, ২০২০
news-image

বিশ্লেষণ মজুমদার,ক্যানিং –

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়নি।হানা দিয়েছে করোনা।শুরু হয়েছে লকডাউন। বাড়ির একমাত্র উপার্জনকারী কাজ হারিয়ে বাড়িতেই। অগত্যা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে নিরুপায় হয়ে সংসারের জোয়াল কাঁধে তুলে নিতে হয়।বাজারে মাছ বিক্রি করে কোন রকমে সংসার নির্বাহের জন্য মাছ নিয়ে ফুটপাথে বসলো উচ্চমাধ্যমিক এক পরীক্ষার্থী।তবে পেটের তাগিদে ফুটপাথে বসলেও করোনার ভয়ে অত্যন্ত সচেতনতার সাথে ফুটপাথে বসে ব্যবসা করছে উচ্চমাধ্যমিক ছাত্র প্রতুল রায়। মুখে মাস্ক,হাতে কিংবা দাঁড়িপাল্লায় ঘন্টায় ঘন্টায় স্যানিটাইজার দিয়ে স্যানিটাইজড করছে।শুধু নিজেই সচেতন হচ্ছে তা নয়।মাছ কিনতে আসলেই ক্রেতাদের হাতে স্যানিটাইজার দিয়েই তবে মাছ দিচ্ছে। আবার কারোর মুখে মাস্ক না থাকলে সচেতন করে মাস্ক ব্যবহার করার কথা বলে দিচ্ছেন,পাশাপাশি সামাজিক দুরত্ব মেনে বাজার করার অনুরোধ জানাচ্ছেন বাজার করতে আসা ক্রেতা সাধারণকে। ক্যানিংয়ের তালদি গ্রাম পঞ্চায়েতের নাথ পাড়ার বাসিন্দা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী প্রতুল রায়। বাবা পঙ্কজ রায় একটি হোটেলে কাজ করতেন। লকডাউন চলায় হোটেল বন্ধ হয়ে যায়। কাজ হারিয়ে বাড়িতেই চলে আসেন।স্ত্রী ও একপুত্র সন্তান কে নিয়ে ছোট্ট সংসার। হোটেলের কাজ ছেড়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েন পঙ্কজ বাবু। কোন উপার্জন না থাকায় কখনো অর্ধাহারে কখনও বা অনাহারে দিন কাটছিল দরিদ্র এই পরিবারের।চরম সংকটের মধ্যে যুদ্ধ করে বাঁচার জন্য ফুটপাথে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেয় ক্যানিং ডেভিড সেশুন উচ্চমাধ্যমিক হাইস্কুলের দ্বাদশশ্রেণীর ছাত্র উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী প্রতুল রায়। সেইমতো প্রতিবেশী একজনের কাছ থেকে পাঁচশো টাকা ধার নিয়ে মাছের ব্যবসা শুরু করে ক্যানিং বাজারে। প্রতিদিন ভোরে সাইকেলে করে তালদির নাথপাড়ার বাড়ি থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার রাস্তা সাইকেল চালিয়ে ক্যানিং বাজারে পৌঁছায় প্রতুল। সেখানে আড়ৎ থেকে মাছ কিনে ফুটপাথে বসে মাছ বিক্রি করে দুপুরে আবার ৯ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা দেয়।কষ্টের মধ্যে সংসারের জোয়াল কাঁধে তুলে নেয় এই ছাত্র।প্রতুলের কথায় “না খেয়ে আর কতদিন থাকবো। পেটের জ্বালা তো মিটবে না।যার জন্য এই করোনার ভয় উপেক্ষা করে সচেতনতার সাথে মাছ ব্যবসার পথ বেছে নিয়েছি।আর এই পথে আসতেই মা-বাবার মুখে হাসি ফুটিয়ে দুবেলা দুমুঠো ভাতের জোগাড় করতে পেরেছি।লকডাউন উঠে গিয়ে স্কুল-পাঠশালা শুরু হলে আবার পড়াশোনা শুরু করবো।”