শনিবার, ২১শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

লকডাউনে শান্তি বাবুর শান্তিনীড়ে নিরাপদ আশ্রয় পথ কুকুরদের

News Sundarban.com :
মে ৬, ২০২০
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং –

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবনের অন্যতম প্রবেশদ্বার শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ক্যানিং ষ্টেশন।লকডাউনের শুরু থেকেই প্রতিদিন তিনবেলা নিজে হাতে রান্না করে পথ কুকুর ও একটি বিড়াল বাচ্চা কে খাওয়াচ্ছেন শান্তিময় ঘোষ।শান্তিময় বাবু পেশায় একজন রেলপুলিশের জোয়ান। তিনি ক্যানিং ষ্টেশনেই কর্মরত রয়েছেন।

লকডাউনের রাত থেকে একটি বিড়াল বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছিলেন। পরের দিন থেকে বেশ কিছু পথ কুকুর যোগ দেয় শান্তিবাবুর শান্তিনীড়ে। শান্তিবাবুর শান্তি নীড়ে ঠাঁই হয়েছে কালু,ভুলু,পুষিদের মতো জনা পনেরো পথ কুকুর ও একটি বিড়াল বাচ্চা।পথ কুকুরদের মুখে রুচি আনতে প্রতিদিন মেনু তালিকাও পরিবর্তন করছেন শান্তি বাবু।পরিবর্তনের তালিকায় কখনও মাছ,মাংস। আবার কখনও ডিম কিংবা শুধুই পায়েস।পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে টিফিন থাকে রুটি,মুড়ি,বিস্কুট। ক্যানিং ষ্টেশন চত্বরে এমনই ভাবেই চলছে শান্তিবাবুর শান্তিনীড়ের নিরাপদ সংসার।
শান্তিবাবু জানিয়েছেন “লকডাউনে বাজারের সমস্ত হোটেল দোকানপাট বন্ধ।খাবার পাচ্ছেনা পথ কুকুররা।কারোর বাড়িতে গেলেও ঠাঁই মিলছে না।দেখে মনটা ভারাক্রান্ত হয়েগিয়েছিল। তারপর থেকে নিজে রান্না করে ওদের খাবারের ব্যবস্থা করি।প্রথমদিকে একটি বিড়াল ও দু-তিনটি পথ কুকুর ছিল। পরে সংখ্যাটা প্রতিদিনই বেড়েই চলেছে। বর্তমানে ১৫ টি পথকুকুর ও একটি বিড়াল রয়েছে।ওরা ভদ্রতার সাথে এখানে তিনবেলা খাওয়াদাওয়া করে থাকছে ষ্টেশন চত্বরে।আশ্চর্যের বিষয় ষ্টেশন চত্বরে কেউ কোন নোংরা করছে না। পাশাপাশি অচেনা অজানা লোক ষ্টেশন চত্বরে ঢুকলেই সতর্ক করে দিচ্ছে।”
তিনি আরো বলেন “চাকরি সুত্রে অন্যত্র বদলি হলে কে দেখবে এদের !খুব চিন্তা হয় কালু ভুলু পুষিদের জন্য।”