সোমবার, ২রা অক্টোবর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

কেন্দ্রীয় সরকারের বিল রাজ্যসভায় পাশ হতে দেবেন না ডাক্তাররা ,প্রয়োজনে রাস্তায় শুয়ে পড়বেন

News Sundarban.com :
জানুয়ারি ৩, ২০১৮
news-image

রাজ্যসভায় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি) বিল, ২০১৭ পাশ হতে দেবেন না ডাক্তাররা৷ প্রয়োজনে তাঁরা রাস্তায় শুয়ে পড়বেন৷‘কালো দিনে’র শেষে এমনই জানিয়েছে ডাক্তার এবং রোগীদের স্বার্থে গঠিত পশ্চিমবঙ্গের ডাক্তারদের এক সংগঠন৷ একই সঙ্গে এমনও জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিল জনস্বার্থ বিরোধী৷ এই বিল আইনে পরিণত হলে ডাক্তারি শিক্ষা সহ চিকিৎসা পরিষেবা মারাত্মক রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ আর, তার জেরে, সরকারি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের ডাক্তারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দুর্ভোগের অন্ত থাকবে না৷ আর, এই ধরনের পরিস্থিতির জেরে, মঙ্গলবার, দুই জানুয়ারি দেশ জুড়ে ‘কালো দিনে’র ডাক দিয়েছিল ভারতের ডাক্তারদের সব থেকে বড় সংগঠন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)৷ এই ‘কালো দিনে’ সকাল ছ’টা থেকে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ এবং বহির্বিভাগে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছিল৷ তবে, একই সঙ্গে এমনও জানানো হয়েছিল, জরুরি এবং অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্রে কালো ব্যাজ পরে চিকিৎসা পরিষেবা দেবেন ডাক্তাররা৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ কেন্দ্রীয় আইএমএ-র তরফে দিল্লিতে এ দিন যেমন ডাক্তারদের ধরনার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল৷ তেমনই, বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল৷ আইএমএ-র রাজ্য শাখার তরফে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি এবং বেসরকারি ডাক্তারদের বিভিন্ন সংগঠনের কাছে এই ‘কালো দিন’ পালনের আহ্বান জানানো হয়েছিল৷ তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত ডাক্তারদের সংগঠন প্রোগ্রেসিভ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তরফেও রাজ্যের সরকারি-বেসরকারি ডাক্তারদের অন্য সংগঠনগুলির কাছে এই দিন পালনের আহ্বান জানানো হয়েছিল৷কালো দিনে’র শেষে ডাক্তারদের বিভিন্ন সংগঠনের তরফে এমনই জানানো হয়েছে যে, তাঁরা চাইলে ঘোষণা অনুযায়ী কর্মবিরতিতে শামিল হতে পিছপা হতেন না৷ কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিলটি যেহেতু জনস্বার্থ বিরোধী, সেই জন্য এই আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাইছেন তাঁরা৷ এই বিলটি যেমন অগণতান্ত্রিক, রোগী এবং সাধারণের মানুষের স্বার্থ বিরোধী৷ ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনে ৯০ শতাংশ মনোনীত সদস্য আর, মাত্র ১০ শতাংশ নির্বাচিত সদস্য থাকবেন৷ এর ফলে এই কমিশনে গণতন্ত্র বলে কিছু থাকবে না৷ এমবিবিএস ডাক্তার হওয়ার জন্য ৬০ শতাংশ আসনে ভর্তির ক্ষেত্রে ক্যাপিটেশন ফি-র সংস্থান রাখা হয়েছে এই বিলে৷ এর ফলে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ডাক্তারি পড়তে পারবেন না বহু মেধাবী পড়ুয়া৷ এর ফলে ডাক্তারদের মান যেমন নেমে যাবে৷ তেমনই, এই ধরনের বিষয়টি ধনী এবং পুঁজিপতিদের স্বার্থবাহী৷ তার উপর, এমবিবিএস পাশ করার পরে, ডাক্তার হওয়ার জন্য ফের পরীক্ষা দিতে হবে।সাধারণ মানুষই চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কায় রয়েছে ডাক্তারদের ওই সব সংগঠন৷ তবে, এই বিলটি মঙ্গলবার সংসদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানো হয়েছে৷
এ দিন, এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরা৷ অন্য কোনও দলের সব সংসদ সদস্য এ ভাবে এ দিন বিরোধিতা করেননি বলে এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন আইএমএ-র রাজ্য সম্পাদক ডাক্তার শান্তনু সেন৷এই বিল রুখে দেওয়ার লক্ষ্যে এ বার তা হলে কোন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করছে পশ্চিমবঙ্গের ডাক্তারদের বিভিন্ন সংগঠন? ডক্টরস ফর পেশেন্টস (ডোপা)-এর তরফে ডাক্তার শ্বারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘বিলটিকে স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানো হয়েছে৷ তবে, রাজ্যসভায় ভবিষ্যতে এই বিলকে আমরা পাশ হতে দেব না৷ এই বিল রুখে দিতে, প্রয়োজনে আমরা রাস্তায় শুয়ে পড়ব৷’’