মঙ্গলবার, ৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ফের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুতিন

News Sundarban.com :
ডিসেম্বর ৮, ২০১৭
news-image

ফের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার নিঝনি নভগরোদের ভোলগা শহরের একটি গাড়ি কারখানার শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। ২০০০ সালের পর থেকে রাশিয়ার ক্ষমতার লাগাম ধরে রাখা পুতিন বলেন, ‘রাশিয়া ফেডারেশনের ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থীতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে রাশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পাবেন। রাশিয়ার এক টেলিভিশন সাংবাদিক কেসেনিয়া সবচাকও প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন; যদিও জনমত জরিপ বলছে, নির্বাচনে পুতিন তাকে সহজেই পরাজিত করতে পারবেন।

সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ ও ইউক্রেইনের ক্রিমিয়াকে মানচিত্রে সংযোজন করে বিশ্বমঞ্চে রাশিয়াকে ফের শক্তিশালী দেশ হিসেবে উপস্থাপন করায় অধিকাংশ রুশের কাছেই পুতিনের জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত।

যদিও ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া অধিগ্রহণ করার কারণে রাশিয়া আন্তর্জাতিক মহলেরও নিন্দা কুড়িয়েছে পুতিন। ১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন লেনিনগ্রাদে (বর্তমানের সেইন্ট পিটার্সবুর্গ) জন্ম নেওয়া পুতিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে যোগ দেন। কমিউনিস্টশাসিত পূর্ব জার্মানিতে গোয়েন্দা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯০ সালে পুতিন সেইন্ট পিটার্সবুর্গের মেয়র আনাতলি সবচাকের শীর্ষ উপদেষ্টা হন; সবচাকই একসময় পুতিনকে আইন পড়িয়েছিলেন।

সাত বছর পর পুতিন রাশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের মাধ্যমে ক্রেমলিনে প্রবেশ করে কেজিবির উত্তরসূরী গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি) প্রধান মনোনীত হন, এরপর পান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার।

১৯৯৯ সালের প্রাক্কালে ইয়েলৎসিন দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুতিনের নাম ঘোষণা করেন। পরের বছর মার্চের নির্বাচনে সহজেই জয়লাভ করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন পুতিন, ২০০৪ সালের নির্বাচনে ফের জয়লাভ করেন তিনি।

সংবিধান অনুযায়ী পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ না থাকায় পরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সহজ জয় পান। একদফা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালনের পর ২০১২ সালে তৃতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফের জয়ী হন তিনি। যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছর।