বুধবার, ২৫শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ক্রিকেটার নারীকে ১৫০ বার ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ

News Sundarban.com :
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭
news-image

তাঁর সেরা অর্জন সম্ভবত ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়া পাকিস্তান দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে হ্যাটট্রিক। কিন্তু মানুষ ডিওন টালজার্ডের সেই কীর্তি ভুলে গিয়ে এখন তাঁকে মনে রাখবে অন্য কারণে। যে ‘জঘন্য’ কাজ করেছেন, সে জন্য ১৮ বছর কারাবাসের সাজাও কম হয়ে যায়!

দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলে কখনো খেলেননি টালজার্ড। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে। ফাস্ট ক্লাস ম্যাচের ক্যারিয়ার মাত্র ২৫টি। পেশাদার ক্রিকেট ছেড়ে টালজার্ড ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান ১৭ বছর আগে। ম্যানচেস্টারের রোচডালে থাকার পাশাপাশি খেলতেন স্থানীয় ওল্ডহ্যামের ক্লাবে হয়ে। সেটা অবশ্য কোনো কাউন্টি পর্যায়ের ক্লাব নয়।

মাঝের এ সময়ে ওল্ডহ্যাম ক্লাব এবং ওই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে দারুণ সখ্য গড়ে উঠেছিল টালজার্ডের। সবার আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার মেইল অনলাইনে প্রকাশিত খবর অনেককেই চমকে দেয়। ৪৭ বছর বয়সী সাবেক এ পেশাদার ক্রিকেটারটি ভেতরে-ভেতরে একজন বিকৃতমনা ‘ধর্ষক’!

ম্যানচেস্টারে থাকাকালীন ২০০২ থেকে ২০১২—এ ১০ বছরে টালজার্ড এক নারীকে ১৫০ বার ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ! শুধু তা-ই নয়, নির্যাতনের সময় নারীটি অজ্ঞান না হওয়া পর্যন্ত টালজার্ড তাঁর গলা টিপে ধরে রাখতেন। হাত মুড়িয়ে বেঁধে রাখতেন পেছনে। এমনকি, টালজার্ড তাঁকে বোঝাতেন, ‘তুমি মানিয়ে নেবে!’

সেই নারী যে বাধা দেননি, তা কিন্তু নয়। প্রাণের ভয় ছিল। সহ্য করতে না পেরে একবার আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। একসময় টালজার্ডের মোহ কেটে গেলেও ভয়ে তিন বছর মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন। কিন্তু একটা সময় পর আর পারেননি। কিছুটা সাহস সঞ্চার করে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশকে সব ঘটনা খুলে বলেন সেই নারী। টালজার্ড তা জানার পর একদিন পানশালায় গিয়ে মেরে বসেন তাঁকে। দেখান প্রাণের ভয়ও।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এক সপ্তাহব্যাপী বিচারকাজে ম্যানচেস্টারের মিনশাল স্ট্রিট টাউন আদালতের বিচারক টালজার্ডের বিরুদ্ধে ১৯টি ভিন্ন ভিন্ন ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে তাঁকে ১৮ বছর কারাবাসের সাজা দেন। তবে তিন সন্তানের বাবা টালজার্ড কিন্তু সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘সব মিথ্যা।’ এ ছাড়া মামলাটি পর্যালোচনার জন্য প্রচারণাও শুরু করেছে তাঁর বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

বিচারক রায় পড়ার সময় দর্শনার্থীর চেয়ারে বসে কেঁদেছেন টালজার্ডের প্রেমিকা। এ সময় টালজার্ডকে উদ্দেশ করে বিচারক মরিস গ্রিন বলেন, ‘আপনি এ নারীর সঙ্গে হিংস্র আচরণ করেছেন, যা ধর্ষণকেও ছাড়িয়ে যায়। খুদে বার্তায় তাঁকে হুমকি দিয়েছেন। সে ভীত ছিল। একবার তো তাঁকে খুঁজে পেতে পুলিশ হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে হয়েছে। আত্মহত্যা করতে সে স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। আপনি তাঁর সঙ্গে যা করেছেন, সে জন্যই এসব ঘটেছে।’

টালজার্ডের খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গ টেনে আদালত বলেন, ‘আপনাকে অনেকেই পছন্দ করে। পেশাদার খেলোয়াড় ছিলেন। আমি এমন ৯ ব্যক্তির সাক্ষ্য পেয়েছি, যাঁরা বলেছে, আপনি একজন সৎ ও আস্থাভাজন মানুষ। কিন্তু আপনি তাঁর প্রতি হিংস্র আচরণ করেছেন এবং নানাভাবে তাঁর ক্ষতি করেছেন, যেটা ভবিষ্যতেও হুমকির কারণ।’

আদালত অভিযোগকারী সেই নারীর সাক্ষ্য নিলেও তাঁর নাম প্রকাশ করেনি। মামলার বিবরণী থেকে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মেইল অনলাইন জানিয়েছে, টালজার্ডের সঙ্গে সেই নারীর পরিচয় স্থানীয় একটি ক্রিকেট ক্লাবে। প্রতি সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি পানশালায় ডার্ট খেলতেন টালজার্ড। তখন বিবাহিত তিনি। কিন্তু এ সত্ত্বেও সেই নারীকে অভিসারে প্ররোচিত করে পরে জোর করে তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী নিকোলাস ক্লার্ক বলেন, ‘বেশির ভাগ ধর্ষণই হতো সোমবার, যখন সে ডার্ট খেলত ও বিয়ার খেয়ে বেসামাল থাকত। সে (নারী) বলেছে, বছরে প্রায় ৩০ বারের বেশি সময় এটা ঘটেছে মোট পাঁচ বছর মেয়াদে।’

টালজার্ডকে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধনের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী স্টেলা ম্যাসির কাছে টালজার্ডের প্রেমিকা বলেছেন, ‘তাঁর সঙ্গে সে কখনো এমন আচরণ করেনি।’ সূত্র: মেইল অনলাইন, মিরর, ম্যানচেস্টার ইভিনিং।