রবিবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সাইকেল চালিয়ে এইআইভি/এডস প্রচার সেরে ঘরে ফিরলেন সুন্দরবনের সোমেন

News Sundarban.com :
ডিসেম্বর ১১, ২০২৩
news-image

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাসন্তী: অপেক্ষার অবসান। অবশেষে দীর্ঘ ৭০৯০ দিন সাইকেলে পরিক্রমা করে ২ লক্ষ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর ১৯১ টি দেশে এইআইভি/এডস্ সম্পর্কিত সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিয়ে ঘরে ছেলে ঘরে ফিরলেন।রবিবার বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে দেশের মাটিতে পদার্পণ করেন আন্তর্জাতিক সাইক্লিস্ট সুন্দরবনের বাসন্তীর ভূমিপুত্র সোমেন দেবনাথ।

এদিন আন্তর্জাতিক সুভাষ চন্দ্র বসু বিমান বন্দরের কাছে সোমেন দেবনাথ কে বরণ করে নেন তাঁর মা শোভারানী দেবনাথ।উপস্থিত ছিলেন বন্ধু মঙ্গল রায়,শিক্ষক তপন মাইতি,সমাজসেবী প্রশান্ত সরকার।এছাড়াও অজস্র শুভাকাঙ্ক্ষী, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব’রা।সেখানে থেকে সোমেন সোজা চলে যান সুভাষ গ্রামের পিপলস্ হাউসে।আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে থাকবেন। ১৭ ডিসেম্বর ক্যানিং-বাসন্তী’র একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন সোমেন।

উল্লেখ্য সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের যুবক সোমেন দেবনাথ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যায় স্নাতক শেষ করে ২০০৪ সালের ২৭ মে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়িছিলেন বিশ্বভ্রমণে। উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের প্রতিটি কোনায় কোনায় এইচআইভি/এডস্ সম্পর্কে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য। ২০০৪-২০০৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশ সাইকেলে ভ্রমণ করেন সোমেন। এরপর ২০০৭-২০০৯ সাল পর্যন্ত এশিয়া মহাদেশের সমস্ত দেশগুলো, ২০০৯-২০১২ সাল পর্যন্ত ইউরোপ ও গ্রীনল্যান্ডের ৫০টি দেশ, ২০১২-২০১৫ পর্যন্ত আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৫২টি দেশ, ২০১৫-২০২০ সাল পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং অ্যান্টার্কটিকার ৪২টি দেশ, মহামারী করোনাকালে চীন ও গ্রীনল্যান্ড, ২০২০-২০২৩ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ও আসিয়ান দেশগুলোতে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন সাইকেলে ভ্রমণ করে।

এছাড়াও ২ লক্ষ কিমি সাইকেল চালিয়ে তিনি আফগানিস্তান, ইসরায়েল,তালিবান রাষ্ট্র, আরব দেশগুলো সহ সমগ্র বিশ্বের মোট ১৯১টি দেশে এইচআইভি/এডস্ সম্পর্কিত সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। এক সময় তিনি তালিবানি ডেরায় ২৪ দিন বন্দিও ছিলেন। পরে ভারতীয় রান্না করে খাওয়ানোয় তালিবানরা তাকে মুক্তি দেয়।

ভ্রমণকালে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস,রাষ্ট্রপ্রধান সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা তাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন বলে তাঁদেরকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সোমেন।এছাড়াও দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর সাইকেলে যাত্রাকালীন ৩৮ টি দেশের প্রেসিডেন্ট, ৭২ টি দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি ১৭৫ টি দেশে ভারতীয় হাই-কমিশনার সহ দেশ বিদেশের কয়েক কোটি মানুষের মনকে ছুঁয়ে গেছেন সোমেন।এছাড়াও সচেতনতার প্রচারে নদীনালা,সমুদ্রের জন্য ৩২ বার বিমানে এবং ২৮ বার জাহাজে উঠতে বাধ্য হয়েছিলেন।শততম দেশ ছিল নামিবিয়া।সোমেনের জীবনের সব থেকে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছিল ২০১৭ সালে।তখন তিনি সালভাদর এ ছিলেন।পিতৃবিয়োগ এর খবর পৌঁছায়।অস্থির হয়ে ওঠে সোমেনের মন।সেখান থেকে বিমানে চেপে তিনি তিন দিনের জন্য বাড়িতে ফিরেছিলেন। পিতার শেষকৃত্য সেরে আবারও সচেতনতার প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।