বৃহস্পতিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ডাবুপর্যটন কেন্দ্র সংলগ্ন জঙ্গলে চলছে বৃক্ষনিধণ, নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন

News Sundarban.com :
ডিসেম্বর ১১, ২০২৩
news-image

নিজস্ব প্রতিনিধি, সুন্দরবন: সবুজ রক্ষা করতে একেবারেই মাঠে নামলো ক্যানিং থানার পুলিশ প্রশাসন। বৃক্ষনিধনকারী দুষ্কৃতিদের ধরতে এবং সবুজ রক্ষা করতে নজরদারীর পাশাপাশি তল্লাশি অভিযান শুরু করলো ক্যানিং থানার পুলিশ। শনিবার দুপুরে আচমকা ডাবু পর্যটন এলাকায় হানা দেয় ক্যানিং থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেখানে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বেশকিছু কাটা গাছ উদ্ধার করে। যদিও বৃক্ষনিধনকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে পুলিশের এমন তৎপরতায় আগামী দিনে দুষ্কৃতিদের আনাগোনা কমবে এবং ডাবু পর্যটন কেন্দ্রের সবুজ পরিবেশ রক্ষা পাবে বলে দাবী এলাকার মানুষের।

উল্লেখ্য বিশ্বউষ্ণায়নের ফলে একদিকে যেমন এক ফোঁটা বৃষ্টিপাত নেই, তার পাশাপাশি চলছে খরা প্রবণ। আবার অহরহ বৃক্ষনিধন করে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করার জন্য মূলত দায়ী সাধারণ মানুষ!

ফলে অসচেতনতার জন্য সাধারণ মানুষই তার নিজের বিপদ ডেকে আনছেন। একের পর এক বৃক্ষনিধন করে সবুজ পরিবেশ তথা প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে ভয়াবহ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বেশকিছু দুষ্কৃতি সহ স্থানীয় গ্রামের বাসীন্দাদের একাংশ। ফলে একদিকে যেমন ডাবু পর্যটন কেন্দ্রের ঐতিহ্য হ্রাস পাচ্ছে, আবার তেমন ভাবেই পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। ডাবু পর্যটন কেন্দ্র সংলগ্ন মাতলা নদীর তীরে চলছে অহরহ বৃক্ষনিধণ। আচমকা মাঠে নেমে ক্যানিং থানার পুলিশ প্রশাসন নজরদারী করায় সবুজ পরিবেশ রক্ষা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এলাকার মানুষজন। স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকের মাতলা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে ১৯৮৬ সালে গড়ে উঠেছিল ডাবু পর্যটন কেন্দ্র।তৈরী হয়েছিল পিকনিক স্পটও। তৎকালীন সময়ে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা অনেকেই ডাবু পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণ করতে আসতেন। ভ্রমণার্থীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের ও আয়ের পথ দেখা দিয়েছিল। ২০০৬ সালে একটি খুনের ঘটনা কে কেন্দ্র করে বন্ধ হয়ে যায় ডাবু পর্যটন কেন্দ্র। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূলের নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা পেলে পুনরায় ডাবু পর্যটন কেন্দ্র পুনরজ্জীবিত হয়। অল্পবিস্তর পর্যটকরাও আসতে শুরু করেন মাতলা সংলগ্ন ডাবু পর্যটন কেন্দ্রের জঙ্গল, পাখির কলবর এবং পরিবেশ দেখার জন্য। তবে সেটাও ছিল সাময়িক। বর্তমানে সেই ডাবু পর্যটন কেন্দ্র একেবারেই পর্যটক শূণা। বন্ধ হয়ে গিয়েছে পর্যটকদের আনাগোনা।

বর্তমানে ক্যানিংয়ের নিকারীঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ মাতলা নদীর তীরবর্তী জঙ্গলঘেরা ডাবু পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। মাতলা নদীতে ভাটার সময় এলাকার একাধিক বাসিন্দা সহ দুষ্কৃতিরা ডাবু পর্যটন কেন্দ্রের একাধিক বৃক্ষ নিধন করে নদীতে জোয়ারের সময় জলে ভাসিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে। প্রকাশ্য দিনের আলোতেই এমন ধ্বংসলীলা চলেছে পর্যটন কেন্দ্র ডাবুতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সমাজসেবী এ বিষয়ে বলেন ‘ডাবু পর্যটন কেন্দ্রে দুষ্কৃতিরা যে ভাবে বৃক্ষ নিধন করে চলছে, আগামী দিনে ইতিহাসের পাতা থেকে ডাবু পর্যটন কেন্দ্রের নাম মুছে যেতে পারে।’

স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, ‘আমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদ কে আমন্ত্রণ করে ডেকে আনছি। যত্রতত্র বৃক্ষণ নিধন করার ফলে পৃথিবীতে তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে।সংকট দেখা দিয়েছে জলের ও।পাশাপাশি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও বেড়েই চলেছে। অনুষ্ঠান সভা সমাবেশ করে কোন লাভ হবে না।সাধারন মানুষ যদি সচেতন না হয় তাহলে আগামী দিনে মহাবিপর্যয়ের সম্মূখীন হতে হবে আমাদের কে। এই মুহূর্তে সকলকে উদ্যোগ নিয়ে জল সংরক্ষণ,বৃক্ষ নিধন বন্ধ করা এবং বৃক্ষরোপনের কাজ করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন কে দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। তারপরই প্রাকৃতিকের সাথে লড়াই করা সম্ভব। নচেৎ বৃক্ষ নিধনের জন্য এবং বিশ্ব উষ্ণায়ণের জন্য ধ্বংস হয়ে যেতে পারে প্রাণীকূল।’