বুধবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

তোলাবাজির অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে

News Sundarban.com :
নভেম্বর ৫, ২০২৩
news-image

নিজস্ব প্রতিনিধি, নামখানা: ঋণগ্রস্তের কাছে তোলা তোলার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানা ব্লকের শিবরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধানগর গ্রামে। শিবরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শাসমল পোল বাজারে এক ব্যবসায়ী উৎপল বারিক তার দোকান ঘরটি বিক্রি করছিলেন। উৎপলের স্ত্রী অসুস্থ হওয়ার দরুন চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। আর এই ঋণ শোধ করতেই দোকান বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন উৎপল। কিন্তু দোকান বিক্রির পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের তহবিলে সাত হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। উৎপলের অভিযোগ করেন রাধানগর ২৩১ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য নারায়ন পড়ুয়ার ভাই পঞ্চানন পড়ুয়া এই টাকা দাবি করে।উৎপলের অভিযোগ তার কাছ থেকে দশ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত তার কাছ থেকে সাত হাজার টাকা জোর পুর্বক ভাবে নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পরে তাকে একটি বিল দেওয়া হয়। যেখানে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রয়েছে এবং দলীয় প্রতিক রয়েছে।বিলে রাধানগর ২৩১ নম্বর বুথের বুথ সভাপতি লক্ষীকান্ত পড়ুয়ার এবং আদায়কারী হিসেবে শই রয়েছে ওই বুথেরই পঞ্চায়েত সদস্য নারায়ণ পড়ুয়ার ভাই পঞ্চানন পড়ুয়ার।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় পঞ্চানন পড়ুয়া এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী। উৎপলের অভিযোগ দোকান বিক্রির ব্যবস্থা করে দেওয়ার নাম করে আমার কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয়েছে। আমার কাছে দশহাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে সাত হাজার টাকা দিই।আমার থেকে জোর করে এই টাকা নেওয়া হয়েছে। আমি বাধ্য হয়ে এই টাকা দিয়েছি।

অভিযুক্ত পঞ্চানন পড়ুয়া টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, উৎপলের বাজারে প্রচুর দেনা ছিল। পাওনাদারররা চাপ দিচ্ছিল। তখন ওই দোকান বিক্রির ব্যবস্থা করে দিই। আমাকে টাকা দিতে চেয়েছিল। আমি দলের তহবিলের জন্য নিয়েছি।এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ওই বুথের এক তৃণমূল কর্মী দলের হস্তক্ষেপ চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে নামখানা ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অভিষেক দাস জানান, ইতিমধ্যে ওই বুথ সভাপতিকে দলের পক্ষে শোকজ করা হয়েছে। দোষী প্রমাণ হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা সর্বত্র হয়ে আসছে বলে বিজেপির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে।বিজেপি নেতা শিবপ্রসাদ প্রামানিক বলেন এটি একটি দুঃখ জনক ঘটনা।এটি নোংরামি ছাড়া কিছু নয়।এই সব চোরেদের আগামী লোকসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষ জবাব দেবে।

ইতিমধ্যে বুথ সভাপতিকে শোকজ করা হয়েছে।বুথ সভাপতি জানান লিখিত ভাবে শোকজের জবাব দেওয়া হয়েছে।এখন দেখার বিষয় দল কত তাড়াতাড়ি তদন্ত মারফত ব্যাবস্থা নিয়ে ওই ঋন গ্রস্ত ব্যাক্তি উৎপল বারিকের টাকা ফেরত দিতে পারে।সে দিকে তাকিয়ে আম জনতা।