রবিবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

জোয়ারের দাপটে মৌশুনী দ্বীপের নদী বাঁধে বড়সড় ধ্বস, স্থানিয়দের চেষ্টায় রক্ষা সমগ্র এলাকা

News Sundarban.com :
অক্টোবর ২, ২০২৩
news-image

ঝোটন রয়, নামখানা : আবার মৌশুনী দ্বীপের নদী বাঁধে দেখা গেল বড়সড় ধ্বস। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানা ব্লকে। চিনাই নদীর প্রবল জোয়ারের দাপটে মৌশুনী দ্বীপের বাগডাঙ্গার জামালের ঘাটে প্রায় ২০০ মিটার নদী বাঁধের ধ্বস নেমেছে। এমত অবস্থায় স্থানীয় মানুষজন তাঁদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাদা মাটির বস্তা এবং বাঁশ দিয়ে নদী বাঁধ মেরামত করেছে। একদিকে প্রবল বর্ষার দাপট অন্যদিকে বাড়ছে ভরাকটালের নদীর জোয়ারের জল । ওই এলাকায় বেশকিছু জায়গায় নদীবাঁধের অবস্থাও তেমন একটা ভালো নয়।

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, পূর্নিমার পর থেকেই নদীর জল এমনিতে রাতে অনেকটা বাড়ছে। আজ ভোর ৫ টা নাগাদ নদী বাঁধে ধ্বস নামে। কিন্তু ওই সময় ভাটার কারণে এলাকাতে তেমন একটা জল ঢোকেনি।

এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সদস্য অখিলেশ বারুই বলেন, ‘আমি এই ঘটনা শোনা মাত্রই ওখান থেকে ইলেকট্রিকের পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হয়। এবং ইরিগেশন ডিপার্টমেন্টকে জানালে ইরিগেশন ডিপার্টমেন্ট সকাল দশটার মধ্যে গিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন।’

বেশ কিছুদিন হল ইয়াসের দুর্দশার অবস্থা সুন্দরবনের মানুষজন এখনো ভুলতে পারেননি। এই অবস্থাতে সুন্দরবনের নদীবাঁধের অবস্থা বেশ কিছু জায়গায় মেরামত করা গেলেও অধিকাংশ জায়গায় ভালো ভাবে কাজ হয়নি। তাই সেই সমস্ত জায়গায় সাধারণ মানুষ এখনো ভয়ে আত্রাশে রয়েছে।

অন্যদিকে মৌশুনীর বিশিষ্ট সমাজসেবী সহদেব মাইতি বলেন, ইরিগেশন ডিপার্টমেন্ট প্রায় ১৫ বছর আগে পরপর দু’বছর এখানে বাঁশের খাঁচা ফেলেছিল। যার ফলে স্কুল, বাজার এবং পঞ্চায়েত যে এলাকাতে রয়েছে অনেকটা রক্ষা হয়েছিল। আমার মতে এইভাবে যদি দুই থেকে তিন বছর অন্তর বিভিন্ন জায়গায় বাঁশের খাচা ফেলা যায় তাহলে নদী বাঁধে হুট করে তেমন ধ্বস নামবে না। আমাদের যদি গ্রাম পঞ্চায়েতে এনআরজিএস এর কাজ চলতো তাহলে আমরাও এনআরজিএস এর মাধ্যমে খাঁচা তৈরি করে ফেলতাম। কিন্তু এখন এনআরজিএস এর কাজ বন্ধ। এরকম অবস্থাতে ইরিগেশন ডিপার্টমেন্ট খবর পাওয়ার পর প্রায় দশটা নাগাদ এসে উনারা বিষয়টা খতিয়ে দেখেছেন । এবং খুব দ্রুততার সহিত মজবুত বাঁধ তৈরি করা হবে বলে ওনারা আশ্বাস দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নদী বাঁধের অবস্থা ছিল করুন। বর্তমানে কিছুটা কাজ হলেও, আশানুরূপ তেমন ভাবে কাজ এখনো সম্ভবপর হয়নি। তাই আগামী দিনে ভালোভাবে কাজ না করলে যেকোনো মুহূর্তে গ্রাম-গঞ্জ নোনা জলে প্লাবিত হতে পারে । তাই আমরা অবিলম্বে নদীবাঁধ তৈরী করার দাবী জানাচ্ছি।