রবিবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চুরি,ছিনতাই,অসামাজিক কাজ রুখতে ১০০ সিসি ক্যামেরা কাজ করবে সমগ্র ক্যানিং শহরে

News Sundarban.com :
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৩
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং -সমাজ বিরোধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। প্রতিনিয়ত চুরি,ছিনতাই সহ অসামাজিক কাজকর্মের জন্য সাধারণ মানুষ অতিষ্ট।অগণিত মানুষের ভীড় আর দেশবিদেশের পর্যটকদের ভীড়ে নিজেদের কে আড়াল করে দুষ্কৃতিরা তাদের অসামাজিক কাজ ধারাবাহিক ভাবেই করে চলেছে।পুলিশে অভিযোগ হলেও খুব কম সংখ্যক সমাজবিরোধী দুষ্কৃতি ধরা পড়ে।বেশিরভাগ দুষ্কৃতিরা রহিরাগত।ক্যানিং শহর সুন্দরবনের প্রাণ কেন্দ্র।দেশবিদেশের পর্যটকরা সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য ক্যানিং শহরে পদার্পণ করেন। পরে সেখান থেকে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।চুরি,ছিনতাই এবং অসামাজি কাজ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাস।

বিধায়ক জানিয়েছেন, ‘সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার ক্যানিং শহরের ঐতিহ্য সমগ্র পৃথিবী জুড়েই রয়েছে।শহরের ঐতিহ্য এবং সুনাম যাতে অবক্ষয় না হয় তারজন্য বড়সড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেই কাজ শুরু করা হয়েছে।চুরি,ছিনতাই এবং অসামাজিক কাজকর্ম রুখতে এবং দুষ্কৃতিদের চিহ্নিত করে বাগে আনতে সমগ্র ক্যানিং শহর জুড়ে ১০০ সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। ক্যানিং থানার মোড় থেকে মাতলা ব্রীজ,বৈতরণী মহশ্মশান,ক্যানিং পুরাতন বাজার,রাজারলাট পাড়া,ক্যানিং সিনেমা হল রোড সহ ক্যানিং স্টেশন সংলগ্ন বাজার এলাকায় সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হবে।ইতিমধ্যে ১০/১২ টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে এবং সাফল্য এসেছে।গত কয়েকদিনে তিনটে চুরির ঘটনায় সিসি ক্যামেরা দেখে দুষ্কৃতিদের পাকড়াও করা হয়েছে। মূলত তারা পাতাখোর।’

ক্যানিং শহর কে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হবে ১০০ সিসি ক্যামেরায়। এ প্রসঙ্গে সাধারণ মানুষজন বিধায়ক পরেশরাম দাসের উদ্যোগ কে প্রশংসা করেছেন।

উল্লেখ্য ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সময় অশান্ত ভারতবর্ষ কে শান্ত করেছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ও প্রথম ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং।বিদ্রোহীদের যেমন কড়া হাতে দমন করেছিলেন। তেমনই আবার ভালোবাসাও দিয়েছিলেন।এমন কর্মকান্ডের জন্য তাঁর নাম হয় “ক্লেমেন্সি ক্যানিং”।

সিপাহী বিদ্রোহের আগে ১৮৫৩ সালে সুন্দরবনের দাপুটে নদী বিদ্যাধরী আর মাতলা নদীর সংযোগস্থলে বন্দর গড়ার কথাও চিন্তাভাবনা করেছিলেন লর্ড ক্যানিং।সেই সময় লর্ড ক্যানিং মাতলা ৫৪ নম্বর লটের ২৭০০ বিঘা জমি কিনেছিলেন মাত্র ১১ হাজার টাকায়।তাঁরই উদ্যোগে একটি বিলাশবহুল বাড়িতে তৈরি হয় পোর্ট অফিস।জরিপের জন্য বিলেত থেকে আনা হয় নামিদামি যন্ত্রপাতি এবং বইপত্র।কোন কাজ সেভাবে এগোয়নি।১৮৬১ সালে মারা যান লর্ড ক্যানিংয়ের স্ত্রী শার্লোটের(লেডি ক্যানিং)। শোকস্তব্ধ লর্ড ক্যানিং ফিরে যান ইংল্যান্ডে।১৮৬২ সালে তিনিও পরলোক গমন করেন। তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের একটি শহরের পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সুন্দরবনের এই প্রাণকেন্দ্র শহরের নামকরণ হয় ক্যানিং।