বৃহস্পতিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শ্মশানে শান্তি নেই, অসামাজিক কাজ ও মদ খাওয়ার প্রতিবাদ, ডোম কে বেধড়ক মারধর

News Sundarban.com :
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৩
news-image

নিজস্ব প্রতিনিধি,ক্যানিং – অসামাজিক কাজ আর মদ পানের প্রতিবাদ করেছিলেন।প্রতিবাদ করতেই বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠলো জনাকয়েক দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে।ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন শ্মশানের ডোম গোবিন্দ সরদার।ঘটনার বিষয়ে আক্রান্ত ডোম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে ক্যানিংয়ের দিঘীরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের মাতলা ব্রীজ সংলগ্ন বৈতরণী মহাশ্মশান রয়েছে। বহু দুরদূরান্তের মানুষজন ওই মহাশ্মশানে মৃতদেহ নিয়ে আসেন দাহ করার জন্য।সেখানে ডোমের কাজ করেন গোবিন্দ সরদার।গত কয়েকদিন আগে কয়েকজন যুবক যুবতি শ্মশানের পুকুরে বসে মদ পান করছিল। পাশাপাশি অসামাজিক কাজে মত্তছিল।মহাশ্মশানে শান্তি বিরাজ করার কথা। সেই মহাশ্মশানের মধ্যে এমন অসামাজিক কাজকর্ম দেখে সহ্য করতে পারেননি মহাশ্মশানের ডোম গোবিন্দ। তিনি প্রতিবাদে সামিল হন। ওই যুবক-যুবতীদের কে মহাশ্মশানে এমন অসামাজিক কাজ করতে নিষেধ করেন।অভিযোগ রবিবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ওই যুবক-যুবতীরা বৈতরণী শ্মশানের মধ্যে ঢুকে ডোম গোবিন্দ সরদার কে লাঠি,লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।নাক মুখ দেয়। রক্ত ঝরতে থাকে।চিৎকার করলেও মহাশ্মশানে কেউ না থাকায় সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি।পরে শ্মশানের অপর এক কর্মী ডোম কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়।প্রাথমিক চিকিৎসার পর আক্রান্ত ডোম ক্যানিং থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ।

ঘটনা প্রসঙ্গে ক্যানিং বৈতরণী শ্মশানের ডোম গোবিন্দ সরদার জানিয়েছে,বৈতরণী শ্মশানের মধ্যে অসামাজিক কাজ ও মদ খাওয়ার প্রতিবাদ করেছিলাম। আক্রান্ত হয়েছি।বর্তমানে আতঙ্কে রয়েছি।ক্যানিংয়ের বৈতরণী মহাশ্মশানে কোন নিরাপত্তা নেই।নেই কোন সিসি ক্যামেরা।মহাশ্মশান একটা পবিত্র স্থান।যেখানে সবকিছুই এক নিমেশে শেষ।শান্তির শেষ ঠিকানা এই মহাশ্মাশান।সেখানে যদি অসামাজিক কাজকর্ম চলতে থাকে,তাহলে শান্তি কোথায়?ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক কে জানিয়েছি। পাশাপাশি ক্যানিং থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।’

ঘটনা প্রসঙ্গে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাস জানিয়েছেন, ‘বৈতরণী মহাশ্মশান পবিত্র স্থান। সেখানে যদি এমন অসামাজিক ক্রীয়া কলাপ চলে,তা কোন ভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়। পুলিশ প্রশাসন কে বিষয় টি জানিয়েছি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।এছাড়াও দুষ্কৃতিরা যাতে অসামাজিক কাজকর্ম করতে না পারে তার জন্য সমগ্র ক্যানিং শহর জুড়ে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে।’

অন্যদিকে মৃতদেহ দাহ করতে আসা জনৈক ব্যক্তি প্রফুল্ল হালদার জানিয়েছেন, ক্যানিংয়ের বৈতরণী মহাশ্মশান সমাজ বিরোধীদের আঁতুড়ঘর।প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় বহিরাগতদের ভীড় জমে।চলে অসামাজিক কাজ। প্রতিবাদ করার ইচ্ছা থাকলেও প্রাণের ভয়ে প্রতিবাদ করা সম্ভব হয় না।এছাড়াও দিনের বেলায় বহিরাগত সহ স্কুল কলেজের ছেলে-মেয়েরা আড্ডা জমায়। অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়।পুলিশ প্রশাসন সজাগ না হলে ক্যানিং বৈতরণী মহাশ্মশান সম্পূর্ণ শ্মশানে পরিণত হবে।