সোমবার, ১০ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সংবাদমাধ্যমের খবরের জের সাহায্য পেল নামখানার দীপ্তি

News Sundarban.com :
জুলাই ৩০, ২০২৩
news-image

শিল্পা মাইতি, নামখানা: সংবাদ মাধ্যমের খবরের জেরে নামখানার দীপ্তির পাশে দাঁড়ালো ঢাকুরিয়া মানসী দা হিলিং টাচ। দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার নামখানা ব্লকের পাতিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা দীপ্তি নায়েক। দীপ্তি পাতিবুনিয়া উপেন্দ্র বিদ্যাপীঠ থেকে এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৪২ নাম্বার পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।দীপ্তির লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া। বাবা আসিস নায়েক পেশায় একজন কৃষক। তাই মেয়ের স্বপ্ন পূরণে চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। দীপ্তির এই খবর তুলে ধরা হয় সংবাদমাধ্যমে। সংবাদ মাধ্যমে খবরটি দেখে শিবরামপুর এলাকার বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজসেবী শিক্ষক রনজিৎ মন্ডল। রনজিত বাবু খবর দেখা মাত্র যোগাযোগ করেন দক্ষিণ চন্দনপিড়ি বিবেকানন্দ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও ঢাকুরিয়া মানষী দা হিলিং টাচের সঙ্গে। দক্ষিণ চন্দনপিড়ি বিবেকানন্দ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে, ঢাকুরিয়া মানসী দা হিলিং টাচে এর সহযোগিতায় দীপ্তিকে করা হলো আর্থিক সাহায্য। দীপ্তিকে প্রতিমাসে বৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় সংস্থার পক্ষ থেকে।

শুধু দীপ্তি নয় নামখানা ব্লকের সৌমিলি মাইতিকেও এদিন আর্থিক সাহায্য করা হয়।পাশাপাশি নামখানা ব্লকের সুজাতা সামন্ত,সুমনা মাইতিকে বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিশিষ্ট সমাজসেবী শিক্ষক রনজিৎ মন্ডল জানান দীপ্তির খবরটি সংবাদ মাধ্যমে দেখে আমি যোগাযোগ করি ঢাকুরিয়া মানসী দা হিলিং টাচ ও দক্ষিণ চন্দনপিড়ী বিবেকানন্দ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর শান্তনু বেরার সঙ্গে। অবশেষে দীপ্তিকে সাহায্য করা হয়েছে। দীপ্তির সাফল্য কামনা করি।

এ বিষয়ে বিবেকানন্দ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ শান্তনু বেরা বলেন খবরটি আমরা সংবাদমাধ্যমে দেখে ঢাকুরিয়া মানষী দা হিলিং টাচের এর সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং তাদেরই সহযোগিতায় দীপ্তিকে আমরা প্রতি মাসে বৃত্তি দেওয়ার ব্যাবস্থা করেছি। দীপ্তি আরো এগিয়ে যাক এই কামনা করি।আমাদের লক্ষ্য যে সব ছেলে মেয়েরা মেধাবী কিন্তু আর্থিক অনটনের কারনে পিছিয়ে পড়ছে তাদের সহযোগীতা করা। এদিন উপস্থিত ছিলেন ঢাকুরিয়া মানসী দ্য হিলিং টাচের সভাপতি লিপিকা ঘোষ দোস্তিদার, সংস্থার সদস্যা মনিদিপা ব্যানার্জি, নামখানা পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী প্রাণী ও মৎস্য কর্ম্যাধক্ষ অতনু দাস,বিশিষ্ট সমাজসেবী শিক্ষক কমল কৃষ্ণ মাইতি, শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ বেরা, শিক্ষক বাসরি মোহন মন্ডল প্রমূখ।

অপরদিকে শনিবার দিন প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকার নয় জন দুঃস্থ মেধাবী ছাত্রীকে ঢাকুরিয়া মানষী দ্যা হিলিং টাচের সহযোগিতায় বৃত্তি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঢাকুরিয়া মানসীদা হিলিং টাচের এর সভাপতি লিপিকা ঘোষদস্তিদার বলেন অত প্রতিকূলতার মধ্যেও মাধ্যমিকে দুর্দান্ত রেজাল্ট করে ওরা দেখিয়ে দিয়েছে, ওরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওদের কিছুই হারানোর নেই। তাই ওদের পাশে দাঁড়াতেই বর্ষার ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে আকাশ ভাঙা বৃষ্টির মধ্যেই জল-কাদায় হারিয়ে যাওয়া পথে মাঠ-ঘাট-খাঁড়ি পেরিয়ে “মানসী” ছুটে গিয়েছে ভরসার বার্তা নিয়ে। সামর্থ্যানুযায়ী এই বছরে এগারোটি ছেলেমেয়ের হাতে তুলে দিয়েছে মাসিক ১০০০ টাকার অবিস্মরণ মেধা বৃত্তি। সামান্য হলেও,  মাসে এক সহস্র মুদ্রা এই ছেলেমেয়েগুলোর পরিবারের কাছে যে অনেক, তা তাদের চোখমুখই বলছিল। মানসী’র তরফেও সেটুকু চাওয়া। আগামী দিনে যেন ওদের প্রত্যয় আরো দৃঢ় হয়, মানসী’ও যেন আগামীতে আরো বেশি ছেলেমেয়ের পাশে দাঁড়াতে পারে। আর তা পারবেই, কারণ ‘মানসী’ জানে – আপনারা আছেন, আপন হ’তে বাহির হয়ে সাড়া দেবার জন্যে।

আমাদের বিশ্বাস, যাঁদের স্মরণে এ “অবিস্মরণ মেধা বৃত্তি”,   মানসীর  প্রাণপুরুষ দেবাশিস ঘোষদস্তিদার এবং অন্যতমা সদস্যা মৌসুমি ঘোষের প্রতিও আমাদের শ্রদ্ধা-তর্পণ এই সাগরতীরেই সার্থক হয়ে উঠবে আগামীর হাত ধরে।