বৃহস্পতিবার, ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চাতকের মতো স্বামীর পথ চেয়ে দুমাস অপেক্ষায় স্ত্রী, অবশেষে ডিএনএ ষ্টেটের পর ফিরল দেহ

News Sundarban.com :
জুলাই ২৯, ২০২৩
news-image

চোখের জল ফেলতে ফেলতে চাতকের মতো স্বামীর পথ চেয়ে দীর্ঘ প্রায় দুমাস অপেক্ষা। অবশেষে ডিএনএ ষ্টেটের পর শুক্রবার স্বামীর মৃতদেহ বাড়িতে এলো কফিন বন্দী হয়ে।কান্নায় ভেঙে পড়লো সরদার পরিবার।গত ২ জুন উড়িষ্যার বালেশ্বর এর বাহানাগা বাজার ষ্টেশন এ করমন্ডল,যশবন্তপুর হাম সফর এক্সপ্রেস ও একটি মালগাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়।করমন্ডলে চেপে ধান রোয়ার কাজে অন্ধ্রপ্রদেশ যাচ্ছিলেন ক্যানিংয়ের ইটখোলা পঞ্চায়েতের সুখসাগর মোল্লা পাড়ার তারিফ হোসেন সরদার(২৩)।ওই পাড়াই আরো দুজন ছিলেন।দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ৩ জনের।খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন দুজনের দেহ উদ্ধার করতে পারলেও তারিফের দেহ মিলছিল না।ডিএনএ টেষ্ট করার জন্য আবেদন জানায় সরদার পরিবার। রেলের তরফে তারিফের বাবা কুতুবুদ্দিন সরদারের ডিএনএ টেষ্ট করা হয়।মিলে যায়।অবশেষে রেলের তরফ থেকে সরদার পরিবার কে ফোনে জানানো হয়।ভুবনেশ্বরের রেল হাসপাতাল থেকে তারিফ এর দেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ায়।

প্রতিবেশী জাকির হোসেন সরদার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থ সহ বিভিন্ন হাসপাতালে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছিলাম।একটি মৃতদেহ চিহ্নিত করেছিলাম। মুখ বিকৃতি হওয়ার কারনে বুঝতে পারছিলাম না।ডিএনএ টেষ্ট করার পর দেহ পাই।’

তারিফের স্ত্রী নাসিরা সরদার কান্না ভেজা গলায় জানিয়েছেন,দুর্ঘটনার পর ছোট ছোট দুই ছেলেমেয়ে কে নিয়ে স্বামীর পথ চেয়ে বসেছিলাম।ভেবেছিলাম বেঁচেই ফিরবে।শেষ পর্যন্ত কফিন বন্দী হয়ে ফিরলো।সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল।রেলের তরফে এখন ক্ষতিপূরণ মেলেনি।কিভাবে ছেলেমেয়েদের কে বড় করবো?