শনিবার, ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গোসাবায় আরএসপি-তৃণমূল সংঘর্ষ আহত ৮

News Sundarban.com :
জুন ২৫, ২০২৩
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ, গোসাবা -গোসাবায় আরএসপি-তৃণমূল সংঘর্ষ জখম হলেন উভয় পক্ষের মোট ৮ জন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকালে গোসাবা ব্লকের পাঠানখালি পঞ্চায়েতের ৪৯ নম্বর বুথ এলাকায়।

গুরুতর জখম হয়েছেন শাসক দলের দেবাশীষ নস্কর,সাইফুদ্দিন সরদার সহ চারজন।অন্যদিকে আরএসপির দলের জখম হয়েছেন গ্রামসভার প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঘরামী,মারুফ সেখ,নীলমণি মাহাতো ও মনিরুল মোল্লা।

ঘটনার পর আক্রান্ত শাসক দলের অন্যান কর্মীরা দেবাশীষ নস্কর,সাইফুদ্দিন সরদারদের উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের অবস্থা সঙ্কটজনক হলে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। অন্যদিকে আরএসপি দলের আহত কর্মীরা গোসাবা ব্লক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে এদিন বিকালে ৪৯ নম্বর বুথের তৃণমূল প্রার্থী অরুপ মন্ডল ভোট প্রচারে বেরিয়েছিলেন।অন্যদিকে ভোট প্রচারে বেরিয়েছিলেন আরএসপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঘরামী।পাঠানখালি পঞ্চায়েতের তালতলা এলাকায় দুই দলের মধ্যে অতর্কিতে সংঘর্ষ হয়।ঘটনায় উভয় দলের মোট ৮ জন জখম হয়।

পাঠানখালি অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মোতিয়ার রহমান সেখ জানিয়েছেন, এদিন পাঠানখালির তালতলা এলাকায় আমরা নির্বাচনী প্রচার করছিলাম। সেই সময় মাওলানা ওয়াজেদ তরফদারের নেতৃত্বে আরএসপি-বিজেপি-আইএসএফ এফের দুষ্কৃতীরা অতর্কিতে আমাদের চার কর্মীকে মারধর করে।আমাদের কর্মীদের হাত পা ভেঙে দেয়।যারা এসব কাজ করেছে তারা আদৌ দিনের বেলায় বিভিন্ন দল করে আর রাতের বেলায় দুষ্কর্মমূলক কাজ করে। এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে আমাদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে।ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ’

অন্যদিকে এমন ঘটনা প্রসঙ্গে আরএসপির জেলা কমিটির সদস্য অনিল চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়েই আমাদের প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঘরামী নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়েছিলেন। আচমকা শাসকদলের গুন্ডা বাহিনী অতর্কিতে আক্রমণ চালায়। ঘটনায় ৪৯ নম্বর বুথের প্রার্থী সহ মোট চারজন জখম হয়েছেন।তৃণমূল কংগ্রেসের এমন ঘৃণ্য অরাজকতার কথা জানিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি।’

ঘটনাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করে কড়া প্রতিক্রীয়া জানিয়েছে বিজেপির রাজ্য নেতা তথা গোসাবা ৪ নম্বর জেলাপরিষদ প্রার্থী সঞ্জয় কুমার নায়েক।

তিনি বলেন, ‘গোসাবা ব্লকে শাসকদলের একধিক গোষ্ঠী রয়েছে।তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল পাঠানখালিতে প্রতিফলিত হয়েছে।ঘটনায় বিজেপির কোন সম্পর্ক নেই। শাসক দল যে ভাবে সমগ্র রাজ্যে অরাজকতা তৈরী করেছে তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ রুখে দাঁড়াচ্ছে।’

ঘটনার খবর পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে গোসাবা থানার পুলিশ। এলাকায় রয়েছে উত্তেজনা