মঙ্গলবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

জলপাইগুড়িকে অশান্ত করে তুলছে তৃণমূল, অভিযোগ বিজেপি নেতা বাপি গোস্বামীর

News Sundarban.com :
ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২
news-image

তৃণমূল নেতারা ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে জলপাইগুড়িকে অশান্ত করে তুলছে বলে দাবি জলপাইগুড়ির বিজেপি জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামীর।

ভোটের মুখে বিশেষ সাক্ষাৎকারে newssundarban.com এর সাংবাদিক মনোজ রায়ের মুখোমুখি।

নিউজ সুন্দরবন: জেলা সভাপতি হওয়ার সুবাদে আপনি বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচারে যাচ্ছেন, মানুষের সাড়া কিরকম পাচ্ছেন?
বাপি গোস্বামী: সাড়া দরুন ভালোভাবে পাচ্ছি। আমাদের জলপাইগুড়ি শহরের সন্মানীয় ভোটাররা যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট দিতে পারে, তাহলে তৃণমূল বোর্ড গঠন করতে পারবে না। যদি কোলকাতা আসানসোল বিধাননগরের মত দাদাগিরি, মাস্তানি, ফলস ভোট করে ভোট হয় তাহলে আলাদা ব্যাপার।

নিউজ সুন্দরবন:  জলপাইগুড়ি তো শান্তিপ্রিয় জায়গা, এখানেও কি অশান্তি হতে পারে?
বাপি গোস্বামী: জলপাইগুড়ি একটা শিক্ষিত সমাজ। শান্ত সভ্য ভদ্র শহর বলে পরিচিত এই শহর। একটা কালচারাল শহর। অনেক কৃতি সন্তান আছেন, যাদের জন্ম জলপাইগুড়িতে, তাদের অনেকে সারা ভারতবর্ষের নাম উজ্জ্বল করেছে। কিন্তু কতিপয় তৃণমূলের নেতারা তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য জলপাইগুড়ি শহরটাকে অশান্ত করছেন। নোংরামি এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যে মানুষ আজ তাদের ছিঃ ছিঃ করছে

নিউজ সুন্দরবন:  আপনার রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা কিভাবে হলো?
বাপি গোস্বামী: ছোট বেলায় সেরকম রাজনীতিতে আগ্রহ ছিল না। ছোট বেলায় আমরা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শাখায় যেতাম। সেখানে আমরা ভারত মাতাকে শ্রদ্ধা করা, রাষ্ট্র নির্মাণ করা, ব্যক্তি নির্মাণ করা, সমস্ত জনজাতিকে সন্মান করা, সমস্ত জনজাতি আমাদের ভাই, আমাদের পরিবার এই ধারণা রাখা এবং সর্বোপরি এই দেশটা আমার, সেই শিক্ষাটা আমরা শাখায় গিয়ে পেতাম। আমার ব্যাক্তিগত জীবনে যদি এক শতাংশ ভালো গুন থাকে, তাহলে সেটা শাখায় গিয়ে শিখেছি। এভাবেই ধীরে ধীরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে আসলাম।

নিউজ সুন্দরবন: একটা অভিযোগ আসে যে বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল, তাহলে আপনি ভারতীয় জনতা পার্টিই কেন বেছে নিলেন?

বাপি গোস্বামী:  হিন্দু সনাতন ধর্মের কথা বললে যদি সাম্প্রদায়িক হয়, তাহলে বলার কিছু নেই। আমরা তো হিন্দু সনাতন ধর্মের কথা বলি। কিন্তু আবার আমরা কখনও বলি নি যে মুসলিমদের উপর বুলডোজার চালাবো। তবে তোষণও করবো না তাদের। আর অন্যান্য দল? কংগ্রেস পরিবার তান্ত্রিক দল, তৃনমূল পিসি ভাইপোর দল, সিপিএম লিমিটেড কিছু মানুষের দল….. এরা সবাই বিদেশীবাদের দালাল, যারা ভারতমাতাকে শ্রদ্ধা করে না, নেতাজীকে শ্রদ্ধা করে না, ভারতবর্ষের শহীদদের শ্রদ্ধা করে না, জাতীয় পতাকা তুলে না, বিবেকানন্দকে বলে ভন্ড সাধু, রবীন্দ্রনাথকে বুর্জোয়া বলে। তাহলে সেইসব রাজনৈতিক দলে নিজেকে কেনো জড়াবো? বিজেপি রাষ্ট্রকে নিয়ে ভাবে, দেশের সেবা করতে চায়, সমস্ত জনজাতি গোষ্ঠীকে নিজের পরিবার ভাবে, সেই রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে আমি নিজেকে গর্ববোধ করি।

নিউজ সুন্দরবন: আপনার রাজনৈতিক গুরু কে? কার হাত ধরে আপনি রাজনীতিতে প্রবেশ?
বাপি গোস্বামী: দেখেন আমরা কোনও গুরুর আদর্শে বিশ্বাসী না। ওটা কংগ্রেস হয়…. রাহুল গান্ধী গুরু, রাজিব গান্ধী গুরু, নেহেরু গুরু। তৃণমূলে হয়….. পিসি ভাইপো গুরু। সিপিএমে হয়….. বিমান বাবু গুরু প্রকাশ করাত গুরু। বা অন্যান্য দলে হয়…. শারদ পাওয়ার, মুলায়ম, মায়াবতী…. ওগুলো পরিবারতান্ত্রিক দলে হয়। আমাদের দলে গুরু বা দাদার কালচার নেই। আমাদের দল সাংগঠনিক ও গনতান্ত্রিক দল। আজ অনেকে আমাদের মাঝে নেই, মায়া মমতা ত্যাগ করে চলে গেছেন, তাদের হাত ধরেই রাজনীতিতে আসা।

নিউজ সুন্দরবন: এইযে আপনি রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠ, আপনার বাবা মা কি চাইতেন যে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসুন?
বাপি গোস্বামী:  দেখুন আমার বাবা মা রাজনীতিতে আমাকে বাধা দিত না। শুধু বলত অসৎ হবি না, সবসময় সততা বজায় রাখবি। আর কারও উপকার না করতে পারলে অপকার করবি না। আমার ব্যাক্তিগত জীবনে সখ ছিল চা বাগানের ম্যানেজার হওয়া। যেহেতু জলপাইগুড়ি একটি চা বাগান অধ্যুষিত এলাকা। আমার বাবা মাও সেটা জানতেন। (একটু হেসে) যায় হোক এখন তো আর চা বাগানের ম্যানেজার হওয়া হলো না, তবে জলপাইগুড়ি জেলার বিজেপির ম্যানেজার হয়ে বসে আছি।

নিউজ সুন্দরবন: এর আগে কী কোনো পদে ছিলেন আপনি?
বাপি গোস্বামী:  আমি সবার প্রথমে বুথ সভাপতি ছিলাম। আর এখন জেলা সভাপতি।

নিউজ সুন্দরবন:  বুথ সভাপতি থেকে জেলা সভাপতির মাঝের যাত্রাটা কিরকম ছিল?
বাপি গোস্বামী: বুথ সভাপতির পর অঞ্চল সভাপতি ছিলাম। তখন তো মণ্ডল ছিল না, ব্লক ছিল, তাই তারপর ব্লক সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। তারপর পরে মণ্ডল সভাপতি হলাম, জেলা সাধারন সম্পাদক হলাম। তিনবার জেলা সাধারন সম্পাদক ছিলাম তারপর আজকের জেলা সভাপতি।

নিউজ সুন্দরবন:  আপনি তো পঞ্চায়েতও ছিলেন। আর এইসব বিভিন্ন পদে থাকাকালীন কি ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, যার জন্য আপনাকে জনসাধারণ ভোট দেবেন?
বাপি গোস্বামী:  দেখুন একটা কথা মনে রাখবেন, ভারতীয় জনতা পার্টি রাষ্ট্রের এবং মানুষের মানুষের কাজ করতে চায়। আমরা পঞ্চায়েত থাকাকালীন সকল জনজাতির মানুষকে পরিবার ভেবে তাদের জন্য কাজ করেছি। পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় তো টাকা কম আসে তারমধ্যে বার্ধক্য ভাতা থেকে আরম্ভ করে যত ধরনের সুযোগ সুবিধা, সেটা আমরা দিতাম। এখনও ভারতীয় জনতা পার্টি বিশ্বাস করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা, মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার কথা।

নিউজ সুন্দরবন: জলপাইগুড়ির সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক কেমন?
বাপি গোস্বামী: জলপাইগুড়ির অনেক সংখ্যালঘু ভাইরা আমাদের দলের সদস্য। তাদের ভুল বোঝাচ্ছে অন্যান্য দল। কিন্তু একদিন তাদের ভুল ভাঙবে। তারাও দেখবে সঠিক যে আর ভুল কে।

নিউজ সুন্দরবন আপনাদের প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল তৃণমূল, এবার জলপাইগুড়িতে বাম কংগ্রেস জোট হয়েছে। তাহলে বাম কংগ্রেস জোট কি এবার কি প্রভাব ফেলবে জলপাইগুড়িতে?
বাপি গোস্বামী: বামফ্রন্ট আর কংগ্রেসকে দিদিভাইর পার্টি অক্সিজেন দিচ্ছে। বিজেপিকে আটকানোর জন্য তাদের সাথে রাতের অন্ধকারে গোপন সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু মানুষের মনে এখনও পদ্মফুল আছে, বিজেপি আছে, নরেন্দ্র মোদি আছে, সুকান্ত দা, দীলিপ দা আছে। মানুষ জানে এঁদের হাত ধরেই পশ্চিম বাংলায় সুশাসন আসবে। দিদিভাই যতই বাম কংগ্রেসকে অক্সিজেন দিক, কোনও লাভ নেই।

নিউজ সুন্দরবন:  জলপাইগুড়িতে কি ত্রিশঙ্কু লড়াই হবে? বাকি জোটের সাথে বিজেপি না তৃণমূলের সাথে বিজেপি লড়াই?
বাপি গোস্বামী: বেশিরভাগ আসনে তৃণমূলের সাথে বিজেপির লড়াই হবে আর দু একটা আসনে জোটের সাথে বিজেপির লড়াই হবে।

নিউজ সুন্দরবন: আপনাদের পার্টিতে বিধানসভায় নির্বাচনের সময় প্রার্থী তালিকা নিয়ে যে গোষ্ঠী কোন্দল হয়েছিল,সেই সম্বন্ধে আপনার মতামত কি?
বাপি গোস্বামী: দেখুন কতিপয় উৎসাহী ব্যাক্তি শ্লোগান দিয়েছিল, দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এবার পুরসভা ভোটের সময় দলের মাঝে কোনও বিক্ষোভ দেখেছেন? কোনও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।

নিউজ সুন্দরবন:  এবার পুরসভা ভোটের প্রার্থী তালিকা নিয়ে তৃণমূলে গোষ্ঠী কোন্দল দেখা দিয়েছে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন ওয়ার্ডে, তাদের এই গোষ্ঠী কোন্দল কি এবার জলপাইগুড়ি পুরসভা ভোটে বিজেপির জয়ের পথ সুগম করতে পারে?
বাপি গোস্বামী: তৃনমূলের গোষ্ঠী দ্বন্ধ হল টাকার ভাগ বাটোয়ারার লড়াই। নরেন্দ্র মোদী লক্ষ কোটি টাকা দিচ্ছেন পুরসভা গুলি উন্নয়ন করার জন্য। সেই টাকা কে লুঠ করবে, সেটা নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে গোষ্ঠী লড়াই শুরু হয়েছে। এই টাকা যখন তাদের সবার মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে, তখন সব শান্ত হয়ে যাবে।

নিউজ সুন্দরবন:  এই পৌরসভা নির্বাচনে আপনি বা আপনার দল যে জিতবে, সেই বিষয় আপনি কতটা আশাবাদী?
বাপি গোস্বামী: যদি নিরপেক্ষ ভোট হয়, মানুষ সঠিক ভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তাহলে আমরা আশাবাদী তৃণমূল বোর্ড গঠন করতে পারবে না জলপাইগুড়ি পুরসভায়। আমরাই বোর্ড গঠন করব।

নিউজ সুন্দরবন:  আপনি জিতলে কি কি উন্নয়নমূলক কাজ করবেন বলে ভাবছেন?
বাপি গোস্বামী:  প্রথম কাজ হবে যে জলপাইগুড়ি পুরসভা নে দুর্নীতির ঘুগুর বাসা হয়েছে, সেটা ভেঙে দেব। মানুষের পরিষেবা সঠিক ভাবে দেব। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের নেতারা ভাওতা দিয়ে গেছে যে কর্পোরেশন করে দেব। কিন্তু সেটা করে উঠতে পারে নি। তাই জলপাইগুড়ি পুরসভা কর্পোরেশন করতে হবে। এত সুন্দর করলা নদীকে তৃণমূলের নেতারা ডাম্পিং গ্রাউন্ড বানিয়ে দিয়েছে। কোনও সংস্কার নেই। অথচ করলা নদী সংস্কারের জন্য কেন্দ্র সরকার অনেক টাকা দিয়েছে। তারা সেগুলো লুঠ করেছে। আমরা করলা নদী সংস্কার করবো। এই সমাজের হরিজন ভাইরা যে এলাকায় বাস করেন, তাদের অবস্থা বলার মত না। তাই তাদের উন্নয়নে কাজ হবে। পুরসভার ট্যাক্স সরলীকরণ করবো। তোলাবাজি বন্ধ করবো। অসাধু প্রোমোটার দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। সমস্ত ক্ষেত্রে সরলীকরণ করা হবে।