বুধবার, ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বীরভূম ও বর্ধমানের ছাত্ররা ত্রাণ নিয়ে গোসাবা দ্বীপে

News Sundarban.com :
জুন ৬, ২০২১
news-image

ভাষ্কর দাশ, ক্যানিং – রবিবার সকালে বীরভূমের শান্তিনিকেতন ও বর্ধমানের একদল ছাত্র ত্রাণ নিয়ে ইয়াস দুর্গতের পাশে দাঁড়ালেন। এদিন সকালে প্রত্যন্ত সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকেরমন্মথনগর, রাঙাবেলিয়া, পাখিরালয়, সোনাগাঁও, কুমীরমারী সহ প্রত্যন্ত এলাকায় প্রায় ৪৫০ ইয়াস দুর্গত পরিবারের হাতে ত্রাণ তুলে দেয়।

উল্লেখ্য করোনা তান্ডবে জর্জরিত দেশ তথা গোটা বিশ্ব।সেই কারণে স্কুল,কলেজ,পাঠশালা প্রায় একেবারেই বন্ধ।পড়াশোনা এবং পরীক্ষা চলছে অন লাইনের মাধ্যমে।স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় পড়াশোনার গতি অনেকাংশে কমে গিয়েছে।এমন কঠিণ পরিস্থিতিতে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী গৃহশিক্ষক কিংবা টিউশন এর উপর নির্ভর করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এমত অবস্থায় বীরভুম ও বর্ধমানের বেশ কিছু স্কুল কলেজের ছাত্ররা করোনা মহামারীতে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে মাস্ক,স্যানিটাইজার এবং দুঃস্থদের অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্য করার পরিকল্পনা করে।সেইমতো বিগত তিনমাস যাবৎ টিউশন পড়া বন্ধ করে টাকা পয়সা জমানো শুরু হয়।ইতিমধ্যে বিগত ২৬ মে ইয়াস তান্ডব চালিয়েছে সমগ্র সুন্দরবন উপকুলবর্তী এলাকায়।

পাশাপাশি নদীবাঁধ ভেঙে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে প্রচুর বাড়িঘর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অসহায় হয়ে পড়ে অসংখ্য মানুষজন।সুন্দরবনের এমন দুর্দশার কথা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানতে পারেন বীরভূম ও বর্ধমানের সুজিত মাঝি,শুভদীপ মন্ডল,দীপ সাহা সহ সতেরো জনের একদল ছাত্র।সুন্দরবনের দুর্গত মানুষের কথা ভেবে ত্রাণ পাঠানোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করে ওই সমস্ত ছাত্ররা। সেইমতো রবিবার সকালে বীরভূম ও বর্ধমান থেকে গোসাবার গদখালি এলাকায় পৌঁছে যায় তাদের দল । সেখানে ক্যানিংয়ের বান্টি মুখার্জী,তাপস পর্বত,সান্টু ঘোষ,জয়দেব কর,শুভজিত সরদারদের সহযোগিতায় প্রত্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ করেন।

শিক্ষক সুজিত মাঝি বলেন “সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ না দিতে এলে অনুভূতি হত না। ইয়াস ও জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবনের মানুষজন যে ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা দেখে চোখে জল এসে যাবে। আমরা ৪৫০ পরিবারের হাতে সামান্য কিছু ত্রাণ তুলেদিয়েছি। আগামী সপ্তাহে আরো কয়েক হাজার পরিবারের হাতে ত্রাণ তুলে দেবো।