বুধবার, ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ভিন রাজ্যের কাজে গিয়ে যুবককে উদ্ধার করলো মুম্বাইয়ের শ্রদ্ধা পুনর্বাসন ফাউন্ডেশন 

News Sundarban.com :
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২১
news-image

নিজস্ব প্রতিনিধি,ক্যানিং -ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বছর কুড়ি বয়সের এক যুবক।দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর উদ্ধার করে তার পরিবারের হাতে তুলেদিলেন মুম্বাইয়ের শ্রদ্ধা পুনর্বাসন ফাউন্ডেশন নামক এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। পাশাপাশি জেলার আরো দুই নিখোঁজ কে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দিলেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং থানার নিকারীঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের দুমকি পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা যুবক রামকৃষ্ণ প্রামাণিক। অভাব অনটনের জন্য পিতৃহীন এই যুবক বিগত প্রায় ১৫ বছর আগে রাজমিস্ত্রী কাজ করতে কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোরে গিয়েছিলেন। সেখানে এক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে রামকৃষ্ণ প্রামাণিক।মাথায় মারাত্মক আঘাত হয় দুর্ঘটনায়। সড়ক দুর্ঘটনা পর সাধারণ মানুষের সাহায্যে চিকিৎসার জন্য একের পর এক হাসপাতাল বদল হয় ওই যুবকের।সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় মারাত্মাক আঘাত লাগায় পরে সুস্থ হতেই অস্বাভাবিক ভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন হারিয়ে ফেলে। শুরু হয় ফুটপাথে থাকা খাওয়া ও বসবাস। পরিবারের লোকজন দীর্ঘ প্রায় দশ বারো বার খুঁজতে যায় কর্ণাটকে।কোন প্রকার হদিশ না পেয়ে কর্ণাটক থেকে হতাশ হয়ে ফিরে খালি হাতে ফিরে আসেন তারা।একটা সময় পরিবারের লোকজন ধরেই নিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ আর বেঁচে নেই। হাল ছেড়ে দেয় পরিবার পরিজনরা।পিতৃহীন সন্তানের কথা চিন্তা করে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন ওই যুবকের মা অনিমা প্রামাণিক।

মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবক এরপর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাত বদল হয়। কোন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হারিয়ে যাওয়া যুবকের ঠিকানা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাত বদল হতে হতে রামকৃষ্ণ পৌঁছে যায় মুম্বাইয়ের ‘শ্রদ্ধা পুনর্বাসন ফাউন্ডেশন‘ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাতে। শ্রদ্ধার সদস্যরা ওই যুবক কে নিজেদের পরিবারের মধ্যে রেখে শুরু করেন চিকিৎসা। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে হারিয়ে যাওয়া যুবক।বেশ কিছুদিন পর সঠিক ভাবে নিজের নাম ঠিকানা বলে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে।

শ্রদ্ধা পুনর্বাসন ফাউন্ডেশন’র সদস্য নিতীশ শর্মা,লক্ষ্মীপ্রিয়া বিসোয়াল,শৈলেশ শর্মা,গণেশ রণদ্বীপ,নীলা শাহ’রা একযোগে গুরুত্ব রামকৃষ্ণ প্রামাণিকের ঠিকানা খোঁজার জন্য কর্ণাটক ও পশ্চিমবঙ্গ খোঁজখবর শুরু করেন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে ঠিকানা মিলেও যায়। গত রবিবার হারিয়ে যাওয়া যুবক কে সাথে নিয়ে সুদূর মুম্বাই থেকে ক্যানিংয়ের দুমকি গ্রামে হাজীর হয় শ্রদ্ধার সদস্যরা।তাঁরা রামকৃষ্ণ কে তুলে দেন তার পরিবারের সদস্যদের হাতে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর আচমকা ঘরের ছেলে কে ফেরত পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন ওই যুবকের কাকা শ্যামল প্রামাণিক,রুপালি সরদার,দিপালী প্রামাণিক,তপন প্রামাণিকরা।

রামকৃষ্ণ প্রামাণিকের ভাই তপন প্রামাণিক হারিয়ে যাওয়া দাদা কে কাছে পেয়ে আনন্দ কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন সুদূর মুম্বাইয়ের ‘শ্রদ্ধা’ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আমার হারিয়ে যাওয়া দাদা কে উদ্ধার করে এই ভাবে ফিরিয়ে দিয়ে যাবে ভাবতে পরিনি। শ্রদ্ধা কে অসংখ্য ধন্যবাদ।শ্রদ্ধা শুধু আমার দাদা কে উদ্ধার করে আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়ে হাল ছাড়েন নি। তাঁরা দাদার জন্য চার মাসের ওষুধ ও কিনে দিয়ে গেছে। ওষুধ ফুরিয়ে গেলে আবারও ডাকযোগে পাঠাবেন কথা দিয়েছে। সত্যিই ‘শ্রদ্ধা’ সপরিবারের কাছে চির কৃতজ্ঞ আমরা।’

শ্রদ্ধা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অন্যতম সদস্য তথা চিকিৎসক ডঃ ভারত ভাটোয়ানি(DR. BHARAT VATWANI)জানিয়েছেন “শ্রদ্ধা সব সময়ই মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। সেই কাজের মধ্যদিয়ে রামকৃষ্ণ প্রামাণিক কে উদ্ধার করে তার পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছি। এটা আমাদের শ্রদ্ধা পরিবারের কর্তব্য বলে মনে করি।তিনি আরো বলেন রারুইপুরের মীর্জাপুরে সাবিত্রী বেঘর,জীবনতলার মইটন সেখ কে ও উদ্ধার করে তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত যে হারিয়ে যাওয়া সন্তানরা তাদের পরিবার পরিজনদের ফিরে পেয়েছেন“।