মঙ্গলবার, ১১ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

 বাঁকুড়া আন্দোলনরত কৃষকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সড়ক অবরোধ , পোড়ানো হলো মোদীর কুশপুত্তলিকা

News Sundarban.com :
ডিসেম্বর ৬, ২০২০
news-image

মৌসুমী চ্যাটার্জী,  বাঁকুড়া:

দেশের কয়েক লক্ষ অন্নদাতা ৩/৪ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার কনকনে ঠান্ডায় দেশের কৃষি ব্যাবস্থা তথা কৃষকদের বাঁচাতে বসে আছেন দিল্লীর খোলা রাজপথে । দাবী তুলেছেন আম্বানি আদানি তথা কর্পোরেটদের স্বার্থে আনা কৃষি আইনগুলি বাতিল করতে হবে । বাতিল করতে হবে বিদ্যুত আইন। ২০২০ আর দিল্লীর মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার তাঁদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে জলকামান দেগে,কাঁদুনে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। তবুও প্রতিদিনই নতুন করে এই আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন হাজার হাজার কৃষক। পাঞ্জাব, হরিয়ানার কৃষকদের পাশে এসে সামিল হচ্ছেন উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, বিহার, হিমাচল প্রদেশ-সহ সারা দেশের কৃষক সমাজ। এই আন্দোলনকে সংহতি জানাতে এগিয়ে এসেছে (বিজেপি ও টিএমসি অনুগামী বাদে) দেশের সমস্ত শ্রমিক সংগঠন ।

এগিয়ে এসেছে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ-সহ ছাত্র যুব মহিলারা। আতংকিত হয়ে মোদী সরকার সারা ভারত কৃষক সভার সম্পাদক হান্নান মোল্লা সহ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জারি করেছে গ্রেফতারী পরোয়ানা আর প্রত্যুত্তরে দাবী আদায়ের আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে সারা ভারত কৃষক সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটি আগামী মঙ্গলবার, ৮ই ডিসেম্বর ডাক দিয়েছেন ভারত বনধ্’এর। এভাবেই এ লড়াই পরিণত হয়েছে মোদী সরকারের সাথে দেশের সমগ্র জনগণের লড়াই’এ।”

গতকাল সকালে বাঁকুড়া শহরের কেরাণীবাঁধে কৃষক আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শ্রমিক ও কৃষক সংগঠনগুলির ডাকা এক ঘণ্টাব্যাপী জাতীয় সড়ক অবরোধ চলাকালীন নেতৃত্বের বক্তব্যে উঠে এলো এই কথাগুলি। তাঁরা মমতা ব্যানার্জীর কৃষক আন্দোলনের প্রতি তথাকথিত সমর্থন প্রসঙ্গে জানালেন,”এই সরকার যদি সত্যিই কৃষকদের প্রতি আন্তরিক হতেন তাহলে মেকি দরদ না দেখিয়ে পাঞ্জাব, রাজস্থান, কেরালা-সহ বিজেপি বিরোধী রাজ্যগুলি যেমন বিধানসভায় বিকল্প কৃষি আইন প্রণয়ন করেছেন ঠিক তেমনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও বিকল্প আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতেন।”

এই কর্মসূচী শেষ হয় নরেন্দ্র মোদীর কুশপুত্তলিকা প্রজ্জলনের মধ্য দিয়ে। এই অবরোধের ফলে গন্ধেশরী নদী ছাপিয়ে হেভী মোড় থেকে দ্বারকেশ্বরের পাতাকোলা ব্রীজ ছাপিয়ে ধলডাঙা মোড় পর্যন্ত শত শত গাড়ী আটকে পড়ে। সভা থেকে শ্রমিক বিরোধী শ্রম কোষগুলি বাতিলের দাবীও উথ্থাপন করা হয়। অবরোধ চলাকালীন অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন কিংকর পোশাক ও প্রতীপ মুখার্জী(সিআইটিইউ), গঙ্গা গোস্বামী(ইউটিইউসি), কল্যাণ সিংহ(এআইটিইউসি), অভিষেক বিশ্বাস(আইএনটিইউসি), অনাথ মল্ল(টিইউসিসি) ও প্রণব মুখার্জি(১২ই জুলাই কমিটি)। – পাঁচ শতাধিক মানুষের এই অবরোধ কর্মসূচীতে মুটিয়া ও বিড়ি শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্খেযোগ্য।