বৃহস্পতিবার, ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১০০ দিনের শ্রমিকদের উদ্যোগে ক্যানিংয়ে পালিত হল প্রবীণ ‘পিতৃমাতৃ’ পূজন দিবস’

News Sundarban.com :
অক্টোবর ১, ২০২০
news-image

নিউজ সুন্দরবন ডেস্ক: বয়স্ক পিতা-মাতাদের প্রতি সন্তানের আচরণ আরও মানবিক এবং সহানুভূতিশীল হয় উচিত। বয়সের ভারে মুহ্যমান প্রবীণদের অন্যত্র সরিয়ে না রেখে তাঁদেরকে পরিবারের মধ্যেই রেখে অভিভাবকের আসনে বসিয়ে পুজো করা উচিত।১৯৯০ সালে প্রবীণদের কথা চিন্তা-ভাবনা করে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক ভাবে দিবস টি পালন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে ১৯৯০ সালে।পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ সালের ১ লা অক্টোবর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

অন্যান্য বছরের ন্যায় বৃহস্পতিবার ছিল ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’।পিতা-মাতাদের সাথে ভালো আচার-আচরণ এবং ব্যবহার করার বিষয়ে যোগ্য সন্তানদের সচেতন করতে বৃহষ্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং ১ ব্লকের নিকারীঘাটা গ্রামে হতদরিদ্র পরিবারের বেশকিছু মানুষজন মাতলা নদীর তীরে ব্যাপক ভাবে আয়োজন করে পালন করলো ‘পিতৃমাতৃ পূজন দিবস’। মূলত ১০০ দিনের কাজের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানবিক শ্রমিকদের ইচ্ছা পূরণ করতে নিকারীঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েত এই এইসব ‘জীবন্ত দেবতা’দের পুজোর আয়োজন করেছিল। নতুন পোশাক পরিয়ে মিষ্টান্ন সহযোগে ফলমূলের নৈবেদ্য সাজিয়ে রীতিমতো পুরোহিত ডেকে পুজো করা হয়েছে এলাকার ১৫ জন মহিলা-সহ পঁচিশ-জন প্রবীণ মা-বাবা’কে। এঁদের মধ্যে দু’জন মুসলিম সম্প্রদায়ের ছিলেন।তাঁরাও পূজিত হয়েছেন।

এদিন সকালে নদীর পাড়ে শ্রমিকরা রঙিন ফুলের মন্ডপ সাজিয়েছিল।ফুলদিয়ে টোটো গাড়ি সাজিয়ে গ্রামের দূর দূরান্ত থেকে প্রবীণদের সযত্নে আনা হয়েছিল সাময়িক তৈরি কাল্পনিক ‘মানব মন্দিরে’। সেখানে গ্রামের গৃহবধূরা সূচিবস্ত্রে গঙ্গার জল ঘটি করে মাথায় নিয়ে গ্রাম পরিক্রমা করে মন্ডপে এনে উপস্থিত মানব দেবতা’দের পা-ধুয়ে দিয়ে শাড়ির পবিত্র আঁচল দিয়ে পদযুগল মুছিয়ে দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে স্নেহভরা আশীর্বাদ নিয়েছেন। পরে পুরোহিত বিশ্বজিত মিশ্রের উপস্থিতিতে পুজো করা হয় প্রবীণদের কে। পুরোহিতের সঙ্গে পুজো করেছেন নিকারীঘাটা গ্রাম প্রধান তাপসী সাফুঁইও।

পঞ্চায়েত প্রধান তাপসী সাঁফুই জানিয়েছেন, ‘ইদানিং কালে আমাদের অনেকের কাছে বৃদ্ধ পিতা-মাতা’রা বোঝা হয়ে রয়েছেন। অনেকেই তাঁদের উপর অমানবিক আচরণ করেন। বিত্তশালীদের অনেকের ঘর থেকে বে-ঘর করে দিচ্ছেন, না-হয় কোনও বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছেন। তাঁরা সেখানে সেই অসহায় জন্মদাতারা দিনরাত নিজের জীবন ত্যাগ করার কথা ভাবেন আর সন্তানদের চির-মঙ্গল কামনা করে চলেন। সকলের কাছে আমার অনুরোধ পিতা-মাতাদের প্রতি একটু মানবিক এবং সহানুভূতিশীল হোন। কম আয়ের দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা তাঁদের পিতা-মাতা’দের কে ফেলে দেন না। তাই এইসব গরিব মানবিক শ্রমিকদের অনুরোধে প্রবীণ পিতা-মাতাদের একত্রিত করে পুজোর আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’
এদিন নিকারীঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সকল মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছিল। ক্যানিং-১ ব্লকের ভিডিও নীলাদ্রি শেখের দে বলেছেন ‘এমন মানবিক কাজ সকলের করা উচিত’। বিডিও স্বয়ং প্রবীণদের নতুন পোশাকপরিচ্ছদ কিনে দিয়ে ছিলেন।পাশাপাশি বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা সুন্দরবনের কবি ফারুক আহমেদ সরদার এদিন ‘পিতৃ-মাতৃ’ পূজন দিবসে প্রবীণ পিতামাতাদের হাতে মাস্ক,স্যানিটাইজার সহ করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী তুলেদেন।
এমন কর্মযঞ্জ আগামী দিনে সমাজে প্রভাব ফেলবে এবং পিতামাতাদের প্রতি সহানুভুতিশীল হবেন সন্তানরা এমনটাই জানিয়েছেন সুন্দরবনের কবি তথা সমাজসেবী।