মঙ্গলবার, ৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

নির্দেশ স্বাস্থ্য কমিশনের, রোগীদের থেকে এক টাকাও অগ্রিম নিতে পারবে না ডিসান

News Sundarban.com :
আগস্ট ১৯, ২০২০
news-image

নিউজ সুন্দরবন ডেস্ক:  তিন লক্ষ টাকার দাবি না মেটায় রোগীর চিকিৎসা শুরু না করায় রোগীর মৃত্যুর খবর সারা রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিল বাইপাস সংলগ্ন শহরের নামজাদা বেসরকারি ডিসান হাসপাতাল। এবার সেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশন।বুধবার কমিশনের চেয়ারম্যান অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা এফিটডেফিট করে বক্তব্য জানাক। তবে যতদিন তদন্ত চলবে রোগী ভর্তিতে এক টাকাও অগ্রিম নিতে পারবে না এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগী ভর্তির জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি অগ্রিম নয়-এই নিয়ম খাটবে না এই হাসপাতালের জন্য।

পাশাপাশি, অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তদন্ত চলাকালীন বন্ধই রাখা হবে এই বেসরকারি হাসপাতাল। কিন্তু শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা ভেবে তা করা হয়নি। তবে এই রায়ের পরেও যদি এক টাকাও অগ্রিম নেয় সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তবে সেদিনই হাসপাতাল সিল করে দেওয়া হবে।একইসঙ্গে, ডিসান হাসপাতালকে দশ লক্ষ টাকা জরিমানা করল রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশন। আজ, বুধবার স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, সাত দিন অর্থাৎ আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে রোগীর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে ওই বেসরকারি হাসপাতালকে। আর অবশিষ্ট ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে।

গত সপ্তাহেই এই ঘটনায় প্রথমবারের জন্য স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে স্বাস্থ্য কমিশন। এর এক সপ্তাহের মধ্যেই এই রায় দিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান। তমলুকের বাসিন্দা লায়লা বিবির মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এমন রায় দিয়েছে কমিশন। সম্প্রতি ওই বেসরকারি হাসপাতালের বাইরে অ্যাম্বুলেন্সের ভিতর ওই মহিলার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে অভিযোগ করে তিন লক্ষ টাকা অগ্রিম চেয়েছিল হাসপাতাল। পুরো টাকা জমা না করতে পারায় চিকিৎসা মেলেনি। তাতেই ডিসান হাসপাতালের বাইরে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই ওই মহিলার মৃত্যু হয়। তারপরেই এই নিয়ে কমিশনের মামলা ও এদিনের এই নির্দেশ।চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে স্বাস্থ্য কমিশন। ডেকে পাঠানো হয় উভয় পক্ষকেই। বুধবার দুপক্ষের বক্তব্য শুনে কমিশন জানায়, হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে ওই রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সেই চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছিল। তাতে কমিশনের প্রশ্ন ছিল, ‘কী এমন ঘটনা ঘটেছিল যে গুরুতর অসুস্থ এক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স থেকেই নামানো গেল না?’ যদিও তার যুতসই জবাব দিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।