বুধবার, ২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বারুইপুর পুলিশ জেলার উদ্যোগে ক্যানিং মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে পালিত হল আদিবাসী দিবস

News Sundarban.com :
আগস্ট ৯, ২০২০
news-image

বিশ্লেষণ মজুমদার, ক্যানিং 

অন্যান্য বছরের ন্যায় করোনার দাপটে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখেই বারুইপুর পুলিশ জেলার উদ্যোগে রবিবার ক্যানিং মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে পালিত হল আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস।এদিন গোসাবা ব্লকের মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় সুন্দরবন কোষ্টাল থানার ছোট মোল্ল্যাখালিতে। উপস্থিত ছিলেন গোসাবার বিডিও সৌরভ মিত্র,সুন্দরবন কোষ্টাল থানার ওসি সুশোভন সরকার,সুকুমার রুইদাস সহ শাসক দলের স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব।অন্যদিকে বাসন্তী ব্লকের মুল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় পিছিয়েপড়া আদিবাসী অধুষ্যিত এলাকা চুনাখালি বাসষ্ট্যান্ডে।এদিন প্রদীপ প্রজ্জোলনের মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের সূচনা করেন গোসাবার বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর।

উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নিমাই মালী,শিক্ষারত্ন পুরষ্কার প্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষক পবন সরদার,সিআই (ক্যানিং)দুর্গাপ্রসাদ মজুমদার,পুলিশ অফিসার তরুনকান্তি ভৌমিক,প্রদীপ দাস সহ অন্যান্য বিশিষ্টরা। এদিন অনুষ্ঠানে গোসাবার বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর আদিবাসীদের বাদ্যযন্ত্র মাদলের তালে সঙ্গ দিয়ে অনুষ্ঠান মঞ্চে নেচে মাতিয়ে দিলেন সকল উপস্থিত আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুজনদের কে।পাশাপাশি অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর ৬ জন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ কে বিশেষভাবে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন।
অন্যদিকে ক্যানিং ১ ব্লকের মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় নিকারীঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঙ্গাশখালি গ্রামে । সেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্যানিং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারীক অমিত কুমার হাতি,ক্যানিং মহিলা থানার পুলিশ অফিসার তনুশ্রী মন্ডল,অখিল ভারতীয় আদিবাসী বিকাশ পরিষদের ক্যানিং ১ ব্লক সম্পাদক সন্তু মুন্ডা সহ অন্যান্যরা।

উল্লেখ্য বিগত ১৯৯৪ সাল থেকে জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী পালন করে আসছে এই দিন টি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে আদিবাসী শব্দ নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদশে সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের আদিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা উপজাতি হিসেবে আখ্যায়িত করলেও বাংলাদেশের আদিবাসীরা নিজেদের আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
৫ টি মহাদেশের ৪০টির বেশি দেশে বসবাসরত ৫ সহস্রাধিক আদিবাসী জনজাতি মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০-৩৫ কোটি। এঁদেরকে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচয় প্রথম জাতি, উপজাতি, আদিবাসী, ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠি, ক্ষুদ্র-জাতিসত্ত্বা পরিচয় পাওয়া যায়। তবে আদিবাসী শব্দের সুর্নিদিষ্ট সংজ্ঞা ও তাদের অধিকার নিয়ে রয়েছে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক তর্ক-বিতর্ক। জাতিসংঘে দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন আলোচনা-পর্যালোচনায় আদিবাসী সংজ্ঞা নিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি। তবে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আদিবাসী জাতিসত্ত্বার আত্ম-পরিচয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অধিকার সংরক্ষণের জন্য আদিবাসী ও ট্রাইবেল জনগোষ্ঠি কনভেনশন-১৯৫৭(১০৭) ও পুনসংস্করণ আদিবাসী ও ট্রাইবেল জনগোষ্ঠি কনভেনশন-১৯৮৯(১৬৯) দুটি ধারা গৃহীত হয়।

এছাড়াও, ১৯৮২ সালে জাতিসংঘ সর্বপ্রথম আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেয়।১৯৯৪ সালে ২৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্ব আদিবাসী দিবসটি পালনে ৪৯/২১৪ বিধিমালায় স্বীকৃতি পায়। আর্ন্তজাতিক দিবসটি বিশ্বের ৯০ টি দেশের কয়েক কোটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন ৯ আগস্ট দিবসটি উদযাপন করে থাকেন। ১৯৯৩ সালকে জাতিসংঘে ‘আদিবাসীবর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী আদিবাসী জনগণ তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, ভূমির অধিকার, অঞ্চল বা টেরিটরির অধিকার, প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার ও নাগরিক মর্যাদার স্বীকৃতি দাবীতে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। কানাডার অস্ট্রেলিয়ায় ৫২টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠি আমাটা, বামাগা, কয়েন প্রভৃতি আদিবাসী বসবাস করছে।আমেরিকায় ক্রো জাতি, আর্জেন্টিনায় কাসি জাতি বসবাস করছেন।ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে ওঁরাঙ্,সাঁওতাল,মুন্ডা,কারমালি,বেদিয়া,ভূমিজ সহ ৫২ টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠি রয়েছে। ১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত “আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী জনগোষ্ঠী দশক” ঘোষণা করা হয় যার উদ্দেশ্য ছিল আদিবাসীদের উদ্বেগের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া। এছাড়া ১৯৯৫ সালের ৯ আগস্টকে “বিশ্ব আদিবাসী দিবস” ঘোষণা করা হয়।

আদিবাসীদের অধিকার বিশেষ করে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিষয়টি অনেক রাষ্ট্রের কাছে স্বস্তিদায়ক নয়। কারণ ঐ সমস্ত দেশের জনগণের একটা বড় অংশই আদিবাসী ভারত,কানাডা,অষ্ট্রেলিয়া,নিউজিল্যান্ড,চীন,পাপুয়া নিউগিনি এবং অধিকাংশ লাতিন আমেরিকায় বসবাস করছেন।