বুধবার, ২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বাঘের কবলে মৎস্যজীবি,ফিরে এলো মুন্ডুহীন দেহ

News Sundarban.com :
জুলাই ১৯, ২০২০
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং –

সুন্দরবন জঙ্গলে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হল এক মৎস্যজীবীর। মৃতের নাম প্রফুল্ল সরদার(৬২)।ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকালে সুন্দরবনের দোবাঁকি জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায়।
অভাবের তাড়নায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বছর ৬২ বয়সের প্রফুল্ল সরদার সুন্দরবনের নদী খাঁড়িতে মাছ ধরার পাশাপাশি ভ্যানও চালাতেন।করোনার জেরে লকডাউন চলায় ভ্যান চালানো বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি সুন্দরবনের নদীখাঁড়িতে মাছ কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সংসার চালানোর জন্য বিপাকে পড়ে যায় প্রফুল্ল সরদার সহ অন্যান্য মৎস্যজীবীরা।চরম সমস্যায় পড়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বৃহষ্পতিবার সকালে কুলতলি থানার প্রত্যন্ত গোপালগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর কৈখালি গ্রামের বাসিন্দা প্রফুল্ল সরদার তাঁর দুই সঙ্গী সাথী বুদ্ধিশ্বর নস্কর ও হাসান ফকির কে নিয়ে সুন্দরবন জঙ্গলে রওনা দিয়েছিল মাছ কাঁকড়া ধরার জন্য।অন্যান্য দিনের মতো শনিবার বিকালে তিন মৎস্যজীবী সুন্দরবনের জঙ্গলের বনদফতরের দোবাঁকি বীটের নবাঁকি জঙ্গল লাগোয়া নদীখাঁড়িতে নৌকায় বসে কাঁকড়া ধরছিলেন।আচমকা সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে আসে।প্রফুল্ল সরদার কে টার্গেট করে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নদীর জলে ফেলে দেয়।

এরপর মুহূর্তে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘাড়ে করে তুলে নিয়ে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে চলে যায়। সঙ্গীকে বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য ভয়ে কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি সঙ্গী বুদ্ধিশ্বর নস্কর ও হাসান ফকিররা।অবশেষে নিরুপায় হয়ে দ্রুত নৌকার বৈঠা বেয়ে গ্রামে ফিরে আসেন দুই মৎস্যজীবী।খবর দেয় গ্রামের বাসিন্দাদের।এমন দুর্ঘটনার কথা জানতে পেরে গ্রামের অন্যান্য মৎস্যজীবী নৌকা করে রওনা দেয় ঘটনাস্থলে। বনদফতরের সাহায্যে সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে প্রফুল্ল সরদারের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করলেও ততক্ষণে সুন্দরবনের হিংস্র বাঘ প্রফুল্ল সরদারের মাথা ও ডান হাত খেয়ে ফেলেছে।
বাঘের আক্রমণে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে জানতে পেরে সন্ধ্যা সরদার সহ তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়ে।সমগ্র গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া।
বাঘের আক্রমণে মৎস্যজীবীর মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে শোক প্রকাশ করে সুন্দরবন মৎস্যজীবী রক্ষা কমিটির ক্যানিং মহকুমার সভাপতি শম্ভু সাহা বলেন “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।সুন্দরবন জঙ্গলে প্রতিনিয়ত বাঘের আক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।দরিদ্র মৎস্যজীবীরা জীবন জীবীকার তাগিদে জীবন বিপন্ন করে সুন্দরবনের নদীখাঁড়িতে মাছ কাঁকড়া ধরতে না যায় এবং বিকল্প রোজগারের সন্ধান পায় সে বিষয়ে সরকার মূখ্য ভূমিকা নিলে বাঘের আক্রমণে মৃত্যুর মিছিল কমতে বাধ্য হবে। উদ্যোগ এবং অসচেতনতার অভাবেই সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।”