মঙ্গলবার, ৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ঘুরবেনা ক্যানিং মহকুমার বৃহত্তম রথের চাকা

News Sundarban.com :
জুন ২২, ২০২০
news-image

বিশ্লেষন মজুমদার, ক্যানিং 

করোনা সংক্রমণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য ঘুরবেনা ক্যানিং মহকুমার বৃহত্তম ঐতিহ্যবাহী রায়বাঘিনী জগন্নাথ দেবের রথের চাকা।প্রচুর লোকের জনসমাগম এড়ানোর জন্য রথযাত্রা বন্ধ থাকছে।রথযাত্রা বন্ধের পাশাপাশি ৯ দিনে রথের মেলাও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্যানিং মহকুমা রথযাত্রা উৎসব কমিটি।রথের দিন শুধুমাত্রা পুজোর্চনা হবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই জগন্নাথ,বলরাম,সুভদ্রা কে দর্শন করতে পারবেন সাধারণ দর্শনার্থীরা।
বিগত ১২ বছর আগে ক্যানিংয়ের বাসিন্দা বিনয় গায়েন,গৌরহরি মন্ডল,বাবলু মন্ডলরা প্রতি বছর রথযাত্র সময় পুরীতে যেতেন রথযাত্র উৎসব দেখার জন্য।প্রতিবছর পুরীতে যাওয়া বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ হয়। পাশাপাশি লক্ষলক্ষ ভক্তের সমাগম হওয়ায় অনেক সময় রথের দর্শন পেলেও জগন্নাথ দেবের দর্শন মিলতো না। সেই আফশোস থেকেই বিনয় গায়েন,গৌরহরি মন্ডল,বাবলু মন্ডলরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন ক্যানিংয়ে রথযাত্রা উৎসব শুরু করবেন বৃহদাকারে। সেই শুরু। আজ থেকে ১২ বছর আগেই শুরু হয় এই রথযাত্রা। রথের যাবতীয় নকশা তৈরী করেন শঙ্কর মন্ডল।নীমগাছের কাঠ দিয়ে তৈরী হয় জগন্নাথ,বলরাম,সুভদ্রা দেবীর মূর্তি।বিগত একযুগ আগেই ক্যানিং মহকুমার এই বৃহত্তম রথযাত্রার প্রথম লগ্নে রথের রশি টেনে সূচনা করছিলেন প্রাক্তন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারী বিরিঞ্চী দেবনাথ।পরবর্তী সময়ে ২০১৯ পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে এই রথযাত্রার সূচনা করেছিলেন।
বর্তমানে বিরিঞ্চী দেবনাথ ক্যানিং মহকুমা রথযাত্রা উৎসব কমিটির সম্পাদক।এই রথের প্রতিষ্ঠা লগ্নে থেকেই জগন্নাথ দেবের পুজোর্চনা কাজে নিয়োগ রয়েছেন হৃষিকেশ মহরাজ।
রথযাত্রা উৎসব ছাড়াও নিয়ম নিষ্ঠা মেনেই জগন্নাথ দেবের ভোগ রান্না করে নিবেদন করা হয়ে থাকে।পুরীর প্রাচীন রথযাত্রার নিয়ম মেনেই জগন্নাথ,বলরাম সুভদ্রা ক্যানিংয়ে মাসীর বাড়িতে যাত্রা করেন।বর্তমানে করোনা সংক্রমণের কথা মাথা রেখে ঐতিহ্যবাহী ক্যানিং মহকুমার রথযাত্রা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।রথযাত্র পরিচালন কমিটির সভাপতি দিলীপ মুখার্জী জানিয়েছেন “করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কথা মাথা রেখে এ বছর রথযাত্রা উৎসব বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।তবে পুজো হবে। সামাজিক দুরত্ব মেনে জগন্নাথ দেব কে দর্শন করা যাবে।করোনা সংক্রমণ এবং দর্শনার্থীদের ভীড় এড়াতে জগন্নাথ দেব মাসীর বাড়িতে যাবে না।যাবতীয় পুজোর্চনা সমস্ত কিছুই রায়বাঘিনীতেই হবে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখেই।”
প্রতি বছর এই রথযাত্রায় হাজার হাজার দর্শনার্থীদের জমায়েত হয়।হিমশীম খেতে হতো প্রশাসন কে।চলতি বছর রথযাত্রা উৎসব হবে না। ঘুরবে না রথের চাকা!এমনটাই জানতে পেরে বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন সমগ্র ক্যানিং মহকুমার বাসিন্দারা।