বুধবার, ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সংক্রমণ রোধে চীনের ভূমিকা কী, তদন্তে ১০০টি দেশ

News Sundarban.com :
মে ১৯, ২০২০
news-image

নতুন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শুরুতে সংক্রমণ রোধে চীনের ভূমিকা কী ছিল সে বিষয়ে তদন্ত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সম্মেলনে একটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ১০০টি দেশ ইইউর এই খসড়া প্রস্তাবনায় সমর্থন দিয়েছে। সিএনএন অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

১০০টি দেশের মধ্যে চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়াও রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একদা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ‘নিঃসঙ্গ লড়াকু’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। চীনের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে নিজের কথার সত্যতা প্রমাণ করলেন পুতিন।

মহামারির মধ্যেই আজ সোমবার থেকে চার দিনব্যাপী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেনেভায়। এটি হবে অনলাইন সম্মেলন। এই সম্মেলনে চীনের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রস্তাব দেবে ইইউ। তবে ইইউর খসড়া প্রস্তাবনা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার তৎপরতা ও খসড়া প্রস্তাবের বিরুদ্ধে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বেইজিং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অস্ট্রেলিয়ার এ ধরনের কর্মকাণ্ড দায়িত্বহীনতার পরিচয়। এতে মহামারি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টি ব্যাহত হবে। যার ভুক্তভোগী হবে মানুষ।

ইইউর খসড়া প্রস্তাবে চীনের বিরুদ্ধে ‘নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও ব্যাপক তদন্ত’ করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের এ সংস্থাটি মহামারি মোকাবিলায় প্রধান আন্তর্জাতিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছে।

খসড়া প্রস্তাবে ইইউ কিছুটা নরম ভাষা ব্যবহার করেছে। অথচ ভাইরাসের উৎপত্তি ও চীনের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ার কড়া অবস্থান কিছুদিন আগেও ছিল চোখে পড়ার মতো। খসড়া প্রস্তাবটি পাস করাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেশিরভাগ সদস্য দেশের সই দরকার। রাশিয়ার মতো চীনের মিত্র দেশগুলোর সই যোগাড় করতেই সম্ভবত কৌশল হিসেবে খসড়া প্রস্তাবে নরম ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

এর আগে বেইজিং বলেছিল, যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে সে বিষয়ে একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তদন্ত মেনে নেবে চীন। তবে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংস্থাটিকে ‘চীনঘেঁষা’ বলে উল্লেখ করেছেন। এমনকি মহামারি মোকাবিলায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে তা তদন্ত করতে নিজের প্রশাসনকে অনুমতিও দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে ব্রিটেনে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লিও জিয়াওমিং বলেছিলেন, ‘আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আমাদের সমস্ত কার্যক্রম স্বচ্ছ। সেহেতু আমাদের ভয় পাওয়ারও কিছু নেই। আমরা আন্তর্জাতিক, স্বাধীন মূল্যায়নকে স্বাগত জানাই। তবে এ কাজ হতে হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে।’

ইইউ এবং অস্ট্রেলিয়ার তৎপরতার বিরুদ্ধে চীন কী পদক্ষেপ নেয় এখন তাই দেখার বিষয়। বিশ্ব সংস্থার সম্মেলনের প্রথম দিনেই ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ভাষণ দেবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জিনপিংয়ের ভাষণটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।