শুক্রবার, ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মুণ্ডুহীন অবস্থায় ১৮ মাস বেঁচে ছিল মাইক

News Sundarban.com :
মে ১৯, ২০২০
news-image

মুণ্ডুহীন অবস্থায় ১৮ মাস বেঁচে ছিল মাইক। শুধু বেঁচে ছিল, এমনটা বলা ভুল হবে। দিব্বি দৌড়ঝাঁপ করে, ঘুরে-বেরিয়ে, ভালো-মন্দ খেয়ে জীবনের শেষ ক’টা মাস আনন্দেই কাটিয়ে গিয়েছে সে! অবাক হচ্ছেন? ভাবুন-ভাবুন, ভাবা প্র্যাকটিস করুন।

আগে একটা বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন যে, মাইক কোনও মানুষ নন, একটা উয়ানডট প্রজাতির মুরগি। তবে, মানুষ হোন বা মুরগি, একটা প্রাণীর মুণ্ডু কেটে নেওয়ার পর কীভাবে সে ১৮ মাস বেঁচে থাকতে পারে? অনেকেরই দাবি, ঘটনার নেপথ্যে অলৌকিক কোনও কারণ ছিল। তাই অনেকেই মুরগিটির নাম রাখেন ‘অলৌকিক মাইক’। যদিও, মাইকের মৃত্যুর পর মৃত শরীর নিয়ে গবেষণা করে দেখা যায়, মুণ্ডুহীন অবস্থায় তার বেঁচে থাকার অন্যতম কারণ বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। স্রেফ বিজ্ঞানের মাধ্যমে অলৌকিক ধারণা খণ্ডন করা যাচ্ছে।

কীভাবে? তাহলে একদম শুরুতে যাওয়া যাক। সময়টা ১৯৪৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। স্থান, কলোরাডোর একটি ছোট্ট গ্রাম। ওই রাতে লয়েড অলসেন নামের এক খামারি ‘চিকেন পার্টি’ করবেন বলে ঠিক করেন। কাজেই, পাঁচ মাসের একটি মুরগি আনা হয় কাটার জন্য। এখান থেকেই আসল কাহিনির সূত্রপাত। কুড়াল দিয়ে মুরগির মাথাটি কেটে দেয় লয়েড। কিন্তু অবাক করা বিষয় হ’ল, মাথা কেটে নেওয়ার পর যন্ত্রণায় ছটফট করার পরিবর্তে মুরগিটি খামারির হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়োতে শুরু করে। দৃশ্যটি দেখে হতবাক লয়েড কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকার পর মুণ্ডুকাটা মুরগিটিকে ধরে ফেলেন। পরিচর্যার মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে একটি ড্রপার আহত মুরগির গলার কাটা অংশে ঢুকিয়ে দেন। কারণ, সে যাতে শ্বাস নিতে এবং খেতে পারে। পরদিন লয়েড দেখেন আহত মুরগিটি একদম সুস্থ। এরপর তার নাম রাখা হয় মাইক।

ঘটনাটি কানে কানে ছড়াতেই সাধারণ খামারির বাড়ির সামনে সাংবাদিকদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। মাইককে এক ঝলক দেখার জন্য মানুষের ঢল নামে গোটা এলাকায়। এই সুযোগ নিয়ে রোজগার আরম্ভ করেন লয়েড। জানা গিয়েছে, তৎকালীন সময়ে মাইকের দৌলতে টানা ২ বছর ধরে তিনি প্রতিমাসে ৩৬ লক্ষ টাকা (ভারতীয় মুদ্রার হিসেবে) আয় করতে শুরু করেন। কিন্তু ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে নিশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যায় মারা যায় মাইক।

এরপর চিকিৎসকরা মাইকের মৃতদের পরীক্ষা করে জানতে পারে কুড়াল চালানোর পর তার মাথার অর্ধেকটা কাটা গেলেও ব্রেনটি আস্ত ছিল। ফলে, মুরগিটি বেঁচে যায়। অর্থাৎ ‘অলৌকিক মাইক’এর ঘটনা শেষ পর্যন্ত লৌকিক হয়ে দাঁড়ায়।

মাইকের স্মৃতিকে আজও কলোরাডোতে ‘মস্তকহীন মাইক দিবস’ পালন করা হয়। শুধু তাই নয়, মাইককে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি মূর্তিও নির্মাণ করা হয়েছে। শোনা যায়, পাঙ্ক ব্যান্ড ‘রেডিও অ্যাকটিভ চিকেন হেড’ মূলত মাইকের কাহিনি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের গানের ধরণ নির্ধারণ করেছে।