সোমবার, ২৩শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পূর্ণিমার ভরা কোটালের জলে নদীবাঁধ ভাঙলো বাসন্তীর মাতলা নদীতে

News Sundarban.com :
এপ্রিল ৮, ২০২০
news-image

বাসন্তী – ভরা পূর্ণিমার কোটালের প্রবল জলোচ্ছ্বাসে নদীবাঁধ ভাঙলো দক্ষিণ ২৪ পরগণার সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের মাতলা নদীর।বুধবার সকালে বাসন্তী ব্লকের ফুলমালঞ্চ গ্রামপঞ্চায়েতের গৌরদাস পাড়া গ্রামের মাতলা নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হল কুলতলি চোরাডাকাতিয়া গ্রাম ও গৌরদাস পাড়া গ্রাম। জোয়ারের জল ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু মাটির বাড়ি ও চাষের জমি ও পুকুরের মাছ।বুধবার সকালে জোয়ারের জলে এই নদীবাঁধ ভাঙলেও এদিন দুপুর পর্যন্ত নদীবাঁধ সারাইয়ের কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি প্রশাসনের তরফ থেকে। ফলে নদীর এই নোনা জলে প্লাবিত হয়ে ঘর ছাড়া হয়ে পড়েছেন এলাকার বহু মানুষ।

উল্লেখ্য ২০০৯ সালের ২৫শে মে আয়লা নামক ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সুন্দরবনের উপর। হাজার হাজার বাড়ি, গবাদি পশু ও বহু মানুষ ভেসে গিয়েছিল জলের তোড়ে। আয়লার সেই স্মৃতি এখনো টাটকা সুন্দরবনবাসীর মনে। এরই মধ্যে বুধবার সকালে পূর্ণিমার ভরা কোটালের জলোচ্ছ্বাসে মাতলা নদীর বাঁধ ভাঙলো সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকে। আর সেই নদীর বাঁধ ভেঙে নোনা জল গ্রামে ঢুকে প্লাবিত হল বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘটনার জেরে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন পাশের গ্রামের কোন আত্মীয়, বন্ধুর বাড়িতে তো কেউ আশ্রয় নিয়েছেন নৌকার উপর। হোগল নদীর নোনা জল ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু চাষের জমিও। বহু পুকুরের মাছ ও মারা গিয়েছে এই নোনা জল ঢুকে যাওয়ায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকার নদী বাঁধের অবস্থা ভীষণ খারাপ ছিল, বারে বারে এ বিষয়ে স্থানীয় বিডিও অফিস সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানিয়ে ও কোন লাভ হয়নি। ত্রানের ব্যবস্থা তো দূর একবারের জন্য স্থানীয় ব্লক প্রশাসন বা পঞ্চায়েতের কোন কর্তা ও খোঁজ নিতে গ্রামে আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সমস্যায় রয়েছেন স্থানীয় এলাকার মানুষজন তার উপর চরম সংকট রয়েছে করোনা বিষ ফোঁড়া নিয়ে।
যদিও অবশেষে বিাল নাগাদ একপ্রকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নদীবাঁধ বাঁধার কাজ শুরু হয়।
তবে পুনরায় রাতে জোয়ার উঠলে এই বাঁধ কতোটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে সে বিষয়ে যথেষ্ট আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা। কেননা লক ডাউনের পরিস্থিতিতে বাঁধ মেরামতির প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অপ্রতুলতার কারনে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তারা।