সোমবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বিপদের হাত থেকে ছিনিয়ে আনতে পারলো না ঘুটিয়ারী শরীফ রিষ্ফোরনে আহত জুলফিকার লে

News Sundarban.com :
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
news-image

চিকিৎসকদের প্রাণপন লড়াই,বিপদের হাত থেকে ছিনিয়ে আনতে পারলো না ঘুটিয়ারী শরীফ বোমা রিষ্ফোরনে আহত জুলফিকার লে (৫) কে। রবিবার সকালে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে মৃত্যু হয় এই শিশুর।আর এই শিশুর মৃত্যুর খবর ঘুটিয়ারী শরীফ এ পৌঁছালে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত এলাকার দুষ্কৃতিদের কঠোর সাজা দাবী করে বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষজন।অন্যদিকে এমন দুঃসংবাদ পেয়েই এদিন দুপুর থেকে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এলাকার বিধায়ক শ্যামল মন্ডল।তিনি অসহায় পরিবারের পাশে স্বান্তনা দিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি মৃতদেস যাতে খুব তাড়াতাড়ি পরিবারের হাতে পৌঁছায় তার তদারকি ও করছেন বিধায়ক। বিধায়ক শ্যামল মন্ডল বলে নিঃষ্পাপ শিশুর মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। দুষ্কৃতিদের যাতে কঠোর শাস্তি হয় তার জন্য সুপারিশ করবো।
ঘটনার খবর পেয়েই
উল্লেখ্য গত ১৮ ফেব্রুয়ারী ঘুটিয়ারী শরীফে বোমা বিষ্ফোরণে গুরুতর জখম হয়েছি তিন শিশু।বোমার আঘাতে গুরুতর জখম শিশুদের কে স্থানীয়রা তড়িঘড়ি রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঘুটিয়ারী শরীফ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন।পরে তিন শিশুর শারীরিক অবস্থা মারাত্মক ভাবে আশাঙ্কা জনক হলে সাথে সাথেই তাদের কে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন চিকিৎসকরা।১৮ ফেব্রুয়ারী বিকালে স্থানীয় রাজ্জাক সেখ ও ছাত্তার হালদারের বাড়ীতে আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। পরপর বিষ্ফোরণ হয় তিনবার। স্থানীয় বাসিন্দার আতঙ্কে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।বেশকিছু লোকজন বিষ্ফোরণ স্থলে গিয়ে দেখতে পান রোহিত সেখ(৭),মোহিত সেখ(১২),জুলফিকার লে (৫) তিনজন শিশু ছিন্নভিন্ন হয়ে চিৎকার করছে। স্থানীয়রা আহত শিশুদের কে উদ্ধার করে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে।আহত শিশুদের মধ্যে মোহিত সেখের অবস্থা আশাঙ্কা জনক ছিল।
উল্লেখ্য সমগ্র রাজ্যের মধ্যে ঘুটিয়ারী শরীফ এলাকা বিভিন্ন লোকজন ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করেন। সেই সুত্রে এই ঘুটিয়ারী শরীফ এলাকায় দুষ্কৃতিদের ব্যাপক রমরমা।আর সেই দুষ্কৃতি মূলক কাজে জড়িত রাজ্জাক সেখ। রাজ্জাক তার বাড়ীতে বোমা তৈরীর মালমশলা নিয়ে এসে বোমা তৈরী করে বলে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ।আর এই রাজ্জাকের বাড়ীতে বেশ কিছু ভাড়াটিয়াও বসবাস করতো। এদিন বিকালে রাজ্জাক তার বোমা গুলি ঘরে একপাশে বস্তা ঢাকা দিয়ে রেখেছিল ।জনা চারের শিশু বল ভেবে সেই বোমাগুলি নিয়ে খেলার চেষ্টা করছিল। বোমার গায়ে হাত লাগতেই বিকট বিষ্ফোরণে কেঁপে ওঠে সমগ্র এলাকা। ছিন্নভিন্ন হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে তিন শিশু।রবিবার সকালে মৃত্যু হয় বছর পাঁচেকের ছোট্ট শিশু জুলফিকার লে র।