সোমবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাফিক পুলিশ কর্তার মানবতার অনন্য নজীর

News Sundarban.com :
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং:

মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত নজীর স্থাপন করলো বারুইপুর পুলিশ জেলা ডিএসপি ট্রাফিক মহম্মদ কুতুবুদ্দিন খান।মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই স্কুলগুলির সামনে ট্রাফিক ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছিলেন ডিএসপি। পরীক্ষা শুরু হতে আর মিনিট পঁয়তাল্লিশ বাকি।আর এই ট্রাফিক ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার সময় নজরে গড়িয়ার হরিমতি দেবী উচ্চতর মাধ্যমিক বহুমূখী বালিকা বিদ্যালয়ের গেটের দিকে। একজন স্কুল পোশাক পরা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছাত্রী কাঁদছে।মেয়েটির কান্না শুনে তার সামনে হাজীর হন ডিএসপি ট্রাফিক মহম্মদ কুতুবুদ্দিন।পুলিশ দেখে আরো কান্নাকাটি শুরু করে গড়িয়ার বালিয়া নফর চন্দ্র গার্লস স্কুলের ছাত্রী অর্পিতা হালদার। ডিএসপি কুতুবুদ্দিন খান এই ছাত্রীর মাথায় হাত রেখে জানতে চায় কেন সে কাঁদছে।অর্পিতা পুলিশ কাকু কে কাছে পেয়ে সব খুলে বলে। সে অন্যান্য বান্ধবীদের সাথে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে এসেছে।কিন্তু তার কাছে অ্যাডমিট কার্ড নেই।পরিবারে অভাবের তাড়নায় টাকার অভাবে স্কুল থেকে অ্যাডমিট কার্ড তুলতে পারেনি। এমন কথা শোনা মাত্রই কুতুবুদ্দিন বাবু মুহূর্তে সোনারপুর ট্রাফিক গার্ডের কনস্টেবল রতন বিশ্বাস কে নির্দেশ দেন খুব শীঘ্রই এই ছাত্রীর অ্যাডমিট কার্ডের ব্যবস্থা করে দিতে। পাশাপাশি অ্যাডমিটের জন্য টাকাও দিয়ে দেন এই ট্রাফিক পুলিশ কর্তা।পুলিশ কর্তার নির্দেশ অনুযায়ী রতন বাবু অর্পিতা কে বাইকের পিছনে এ চাপিয়ে তার স্কুলে হাজীর হন। যথা সময়ে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছান।তখনও পরীক্ষা শুরু হতে ১৫ মিনিট বাকি রয়েছে।হাসি মুখে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে অর্পিতা। আর এমন দৃশ্য দেখে ট্রাফিক ডিএসপি কুতুবুদ্দিন খান সহ অন্যান্য ট্রাফিক পুলিশ কর্মীরা আনন্দিত।এবিষয়ে বারুইপুর পুলিশ জেলা ডিএসপি ট্রাফিক মহম্মদ কুতুবুদ্দিন খান কে জিঞ্জাসা করা হলে তিনি বলেন “সমস্যা হতেই পারে। কিন্তু সমস্যায় জর্জরিত মানুষ যাতে উপকার পেতে পারে তার জন্য ট্রাফিক পুলিশ হিসাবে কর্তব্য পালন করার চেষ্টা করেছি মাত্র।”
পুলিশের এমন কর্তব্য পালন দেখে অন্যান্য সাধারণ মানুষজন প্রশংসশায় পঞ্চমূখ।