বুধবার, ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সুন্দরবনে আজও চোখের জলে বয়ে চলে সহমরণের স্রোত

News Sundarban.com :
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং –

একদা বাসন্তীতে ঘটেছিল সহমরণ। যা বিরলতম ঘটনা।৩৯ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এলাকার মানুষজন ভুলে যায়নি সেই বিরল স্মৃতির ঘটনা।রবিবার সেই ঘটনাকে সাক্ষী রেখে ৩৯ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করলেন বাসন্তীর শিবগঞ্জের শিক্ষানুরাগী তথা সমাজসেবী অমল নায়েক। উপস্থিত হলেন এলাকার হাজার হাজার পুরুষ মহিলা।চোখের জল ফেলে সমাধির উপর শ্রদ্ধা জানালেন একদা বাসন্তী ব্লকের নারী, শিক্ষা ও সংস্কৃতি উন্নয়ণের লড়াকু নেতা ধনঞ্জয় নায়েক ও তাঁর স্ত্রী চম্পাবতী নায়েকের উদ্দেশ্যে। উল্লেখ্য প্রত্যন্ত সুন্দরবনের প্রত্যন্ত পিছিয়ে পড়া বাসন্তী ব্লকে নারী, শিক্ষা ও সংস্কৃতি উন্নয়ণে জোয়ার আনতে লড়াই চালিয়ে ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছিলেন বাসন্তীর শিবগঞ্জের ধনঞ্জয় নায়েক।সালটা ১৯৮১। রাজ্যে তখন বামফ্রন্ট সরকারের কথাই একমাত্র শেষ কথা। যদিও শরীক দল আরএসপির তেমন কোন প্রভাব খাটাতে পারতো না। সেই আরএসপি দলের ছত্রছায়ায় এসে প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকার বাসন্তী ব্লকে নারী, শিক্ষা ও সংস্কৃতি উন্নয়ণে ঝাঁপিয়ে পড়েন আরএসপি নেতা ধনঞ্জয় নায়েক। অল্পকিছু দিনের মধ্যে শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নয়ণের বাতাবরণ দেখে প্রমাদ গোনে শাসক বামফ্রন্ট।দেশে শিক্ষিতের হার এবং নারীদের উন্নয়ণ ঘটলে টিঁকে থাকা অসম্ভব। অতএব নিজের শরীক দল আরএসপির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে সিপিএম।

১৯৮১ সালে ৯ ফেব্রুয়ারী সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর দুষ্কৃতিরা রাতের অন্ধকারে বাসন্তীর শিবগঞ্জে বাড়ীতে ধনঞ্জয় নায়েকের উপর অকথ্য অত্যাচার চালায়। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা এনআরএস হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসায় সাড়া না দিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারী মারা যান। আর এই খবর পাওয়া মাত্র তাঁর স্ত্রী চম্পাবতী ও দেহত্যাগ করেন। প্রত্যন্ত বাসন্তী ব্লকের শশ্মানে একসাথে জ্বলে ওঠে প্রতিবাদী স্বামী-স্ত্রীর চিতা। যা সুন্দরবন সহ সমগ্র পৃথিবীর মানুষের কাছে এক বিরলতম ঘটনা।তবে সেই দুষ্কৃতি হামলা বাসন্তীতে প্রভাব ফেলতে পারেনি।সহমরণ চিতায় হাত দিয়ে শপথ নিয়ে নারীশিক্ষা,শিক্ষা এবং সাংস্কৃতির উপর জোর দেন ধনঞ্জয়-চম্পাবতীর ভাইপো অমল নায়েক।সকল বাধা বিপত্তি কে অতিক্রম করে আজও তিনি অবিচল তার জেঠুর দেখানো পথেই। বাসন্তী ব্লকে বিপ্লব এনেছেন নারী শিক্ষা থেকে নারী উন্নয়ণে।