বুধবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ভোররাতে বোমা বর্ষণ বাসন্তিতে, গুরুতর জখম শিশুকন্যা

News Sundarban.com :
ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯
news-image

নিজস্ব সংবাদদাতা,বাসন্তী :

শুক্রবার রাতে বাসন্তীর আমঝাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮ নং খড়িমাচান এলাকায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন স্থানীয় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী রহিম সেখ।ঘটনার পর থেকেই এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রচুর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনার পর রহিম সেখ খুনের অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল বাসন্তীর শিমুলতলা এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে এলাকার মানুষ এরপর বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে বিক্ষোভ তুলে দেন এবং তারপর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।আর এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার দুপুরে শিমূলতলা চৌমাথায় রাস্তার পাশে কুতুব মল্লিকের দুটি দোকানে তান্ডব চালিয়ে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে।আর এই ঘটনার পর আবার শনিবার ভোররাতে আমঝাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শিমুলতলা চৌমাথায় পেশায় অটো চালক কুতুব মল্লিকের বাড়ি লক্ষ্য করে একাধিক বোমা বর্ষণ শুরু হয়। দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হয় বছর ছয়েকের শিশু কন্যা রুবাইয়া মল্লিক়।কুতুব মল্লিকের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ শনিবার ভোর রাতে ঘরের মধ্যে কুতুবের স্ত্রী হাফিজা মল্লিক ও তার দুই শিশু কন্যা রুবাইয়া ,রুকসানা ও এক শিশুপুত্র হাফিজ মল্লিক কে সাথে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন বিছানায়। ভোর রাতের মসজিদের নমাজ শেষ হওয়ার আগেই জনা কুড়ি দুষ্কৃতি কুতুবের বাড়ীর পিছন থেকে আক্রমণ করে মুড়ি মুড়কীর মতো বোমা মারতে থাকে।বোমার আঘাতে বাড়ী দেওয়াল ফাটল ধরে যায়,পাশাপাশি ঘরের এসবেসটস ও ভেঙে যায়।বাড়ীতে বোমা পড়ছে বুঝতে পেরে কুতুবের স্ত্রী তার কোলের শিশু সন্তান হাফিজ মল্লিক কে নিয়ে প্রাণ ভয়ে ঘরের মধ্যে থেকে বাইরে পালিয়ে যায়।প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যায় শিশু কন্যা রুকসানাও।দুষ্কৃতিরা চলে গেলে খোঁজ হয় হার্টের রোগে আক্রান্ত মূকবধীর ছোট্ট শিশু কন্যা রুবাইয়া মল্লিক়ের। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর বাড়ীর অদূরে একটি পুকুর থেকে বোমার আঘাতে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার হয়। জখম শিশু কে উদ্ধার করে প্রথমে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল এবং সেখান থেকে কলকাতার চিত্তরঞ্জন মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।পরে আবার সেখান থেকে নীলরতন সরকার হাসপাতালে নিয়ে যায়।বর্তমানে শিশুটির অবস্থা আশাঙ্কাজনক।

ঘটনার বিষয়ে বাসন্তী যুব তৃণমূল সংগঠনের নেতা আমানউল্লা লস্কর জানিয়েছেন “এলাকায় মন্টু গাজী ও তার ছেলে রাজা গাজী এলাকায় উত্তেজনা তৈরী করার জন্য বেশকিছু দুষ্কৃতি কে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত বাসন্তী ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় উত্তজনার পরিবেশ তৈরী করে অশান্ত করে তুলছে সমগ্র বাসন্তী ব্লক কে। এদিনও মন্টু গাজীর লোকজন কুতুব মল্লিকের বাড়ীতে একাধিক বোমা মেরে পালিয়ে যায় ।”
অন্যদিকে বাসন্তী ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের মুল সংগঠনের সভাপতি মন্টু গাজী অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন “নিজেদের মধ্যে বোমা বাজী করে এলাকায় অশান্তি তৈরী করছে সব সময়। নিজেরাই বোমাবাজী করে একটা দরিদ্র মানুষের শিশু কে আঘাতপ্রাপ্ত করেছে। এটা দুষ্কৃতিদের পূর্ব পরিকল্পিত। কারণ গত শুক্রবার আমঝাড়া এলাকায় পারিবারিক গন্ডোগোলে একজন খুন হয়ে গেলেন। তা নিয়ে বিক্ষোভ অবস্থান করে পুলিশের উপর চড়াও হয়। এরা কি ধরনের রাজনীতি করে তা আমার জানা নেই।হার্টের রোগে আক্রান্ত মূকবধীর একটা ছোট্ট শিশু সহ তার পরিবারের উপর আঘাত হেনে তৃণমূলের নামে অভিযোগ দায়ের করে দোষ চাপিয়ে দিয়ে ফায়দা তুলতে চাইছে”।
কে বা কারা কুতুব মল্লিকের বাড়ী লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে মেরেছে বিষয়ে সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বাসন্তী থানার পুলিশ। অন্যদিকে ঘটনার অভিযোগ জানিয়ে কুতুব মল্লিকের স্ত্রী হাফিজা মল্লিক বাসন্তী থানায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।