মঙ্গলবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নিজেদের হাত খরচ বাঁচিয়ে দুঃস্থ মহিলাদের মুখে হাসি ফোটালেন স্বাগত ফাউন্ডেশনের সদস্যরা

News Sundarban.com :
ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯
news-image

নিজেদের হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে অসহায় দুঃস্থ মহিলাদের জন্য নতুন কম্বল ও শীতের পোশাক সামগ্রী কিনে প্রত্যন্ত সুন্দরবনের অসহায় দুঃস্থ মহিলাদের হাতে তুলে দিলেন “স্বাগত ফাউন্ডেশন” নামক দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা। আয়লা,ফণী,বুলবুল অধ্যুষিত সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার পিছিয়ে পড়া বাসন্তী ব্লকের রামচন্দ্রখালি পঞ্চায়েতের হোগল নদীর তীরে রামচন্দ্রখালি গ্রামে রীতিমতো ক্যাম্প করে ১০০ জন দুঃস্থ মহিলাদের হাতে শীতের কম্বল ও শীতের পোশাক তুলে দিলেন স্বাগত ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।গত বছরের মাঝামাঝি সোনারপুরের বেশ কয়েকজন যুবক-যুবতী ঠিক করেন, প্রত্যন্ত সুন্দরবনের মানুষ যাঁরা প্রতিনিয়ত ডাঙায় বাঘ,জলে কুমীর ও জলদস্যুদের সাথে লড়াই করে সামান্য অন্য বস্ত্রের জন্য,সেইসব হতদরিদ্র অসহায় মানুষদের জন্য কিছু করতে হবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ, এছাড়াও গত ২০১৮ এর ডিসেম্বর মাসে বাসন্তী ব্লকের ফুলমালঞ্চ গ্রামপঞ্চায়েত এলকায় প্রায় ১৫০ জনকে শীতবস্ত্র দিয়েছিলেন। পাশাপাশি দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ত প্রান্তে বাসে-ট্রেনে অসহায় দুঃস্থদের কে খাবার,শীতবস্ত্র দেওয়ায় সেই প্রথম উদ্যোগে মানুষের ভালোবাসা ও ভালো কাজ করার স্বাদ পেয়ে তাই এবার আগে থেকেই নিজেদের আরও কিছু বন্ধু বান্ধবদের সাথে নিয়ে আয়লা,ফণী,বুলবুল বিধ্বস্ত সুন্দরবন এলাকার যেখানে দরিদ্র, দুঃস্থ মানুষজন রয়েছেন সেই প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে অসহায় দুঃস্থদের হাতে নতুন শীতের কম্বল ও শীতবস্ত্র তুলে দিলেন। নিজেরাই “স্বাগত ফাউন্ডেশন” নামে নাম দিয়েছেন তাদের সংগঠনের।আর এই সংগঠনের হাত ধরে সারা বছর ধরেই কিছু ভালো কাজ করতে চান সমাজের জন্য।

এই উদ্যোগ নিয়ে স্বাগত ফাউন্ডেশন দলের সদস্য অর্পণ পাল বলেন “ আমরা এই শীতের কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণের আনন্দ সকলের সাথে ভাগ করে নিতে চাই। সেই কারণেই নিজেদের পকেট খরচ বাঁচিয়ে,দুঃস্থ মানুষজনদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি সকল বন্ধুরা মিলে।তাই এমন আনন্দ ও সকলের জন্য বলে আমরা মনে করি”।
এদিন শিখা দাস, কাশ্মীরা গাজি, সালেহা সরদার, গঙ্গাদেবী সরদার,অনিমা মিস্ত্রি, সুশীলা দাসেরা শীতের কম্বল ও শীতের পোশাক পেয়ে খুবই খুশি।অন্যদিকে স্বাগত ফাউন্ডেশনের অন্যতম সদস্যা রাখী নাথ বলেন “আগামী দিনে অামাদের এমন প্রয়াস সুন্দরবনের বুকে চলবে,পাশাপাশি যে সমস্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েরা অর্থের অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন তাঁদের কে সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিয়ে পুনরায় যাতে শিক্ষার আলো তাঁরা পেতে পারে তার জন্য অামরা উদ্যোগ নেবো”।
এদিন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবনের ভূমিপুত্র বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা সুন্দরবনের প্রাবন্ধিক প্রভুদান হালদার,রামচন্দ্রখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হায়দার গাজি,সোনাখালি উন্নয়ন নিকেতনের জাফর ইকবাল লস্কর প্রমুখ।