বুধবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পালিত হল সুন্দরবন দিবস

News Sundarban.com :
ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
news-image

বিশ্লেষণ মজুমদার, ক্যানিং:

বুধবার সকালে সুন্দরনকে রক্ষা করার শপথ নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ক্যানিং সহ এলাকায় পালিত হল সুন্দরবন দিবস।সুুন্দরবন রক্ষা করার অঙ্গীকার শপথ নিয়ে এদিন সকালে ক্যানিং থেকে স্থানীয় রায়বাঘিনী স্কুল পর্যন্ত এক বিশাল পদ যাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন ক্যানি ১ ব্লকের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী থেকে শিক্ষক শিক্ষিকারা। এরপর রায়বাঘিনী হাইস্কুল মাঠে সুন্থরবন দিবস অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক শ্যামল মন্ডল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্যানিং ১ বিডিও নীলাদ্রী শেখর দে, দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি শৈবাল লাহিড়ী,ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনিমা মিস্ত্রী,সহ সভাপতি শ্যামলেন্দু মন্ডল , বিশিষ্ট শিক্ষক যাদব চন্দ্র বৈদ্য সহ বিশিষ্টরা।অন্যদিকে গোসাবা ব্লকেও সুন্দরবন দিবস উদযাপন হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন গোসাবার বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর,গোসাবার বিডিও সৌরভ মিত্র সহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ সুন্দরবন।এই সুন্দরবন নাম নিয়ে বিরাট মত পার্থক্য দেখা যায়। কেউ কেউ বলে থাকেন সুন্দরী গাছের নাম থেকে সুন্দরবন নাম। সুন্দরবন নাম নিয়ে মত বিরোধ এবং যুক্তিবাদীরা নাও মানতে পারেন কিন্তু বিভিন্ন গবেষকদের স্বীকৃত সত্য ঘটনা হিসাবে রামায়ন,মহাভারত,পূরাণ এর মতামত অনুযায়ী সুন্দরবনের প্রথম নাম ছিল “শাক দ্বীপ” পরে নাম করণ হয় “গঙ্গারিনী” আরো জানা যায় “পৌন্ড্র বর্ধণ” নাম ছিল। আর বাংলাদেশে “সুগন্ধা” নদীর নাম অনুযায়ী সুন্দরবন নাম হয়। অনেকেই বলে থাকেন সুন্দরবনের গাছ,নদীনালা জীবন বৈচিত্রের জন্য সুন্দরবন নাম।এ নিয়ে বিতর্কের যেমন শেষ নেই তেমনই “সুন্দরবন দিবস”নিয়ে রয়েছে মতপার্থক্য। সরকারী ভাবে ২০১০ সালের ২১ আগষ্ট প্রথম সুন্দরবন দিবস হিসাবে পালন হলে ও পরবর্তীতে ১১ ডিসেম্বর সুন্দরবন দিবস হিসাবে পালন হয়। সুন্দরবনের মোট বনাঞ্চল ১০৮১৩ বর্গ কিমির মধ্যে ৪৭২৬ বর্গ কিমি ভারতীয় ভূখন্ডের,অর্থাৎ সুন্দরবনের ৩৮ শতাংশ ভারতের এবং ৬২ শতাংশ বাংলাদেশের অধীনে। ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো “ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট(বিশ্ব সম্পদ)” ঘোষনা করেন এবং একই বছরে ২৯ মার্চ “ম্যান এন্ড বায়োষ্ফিয়ার(জীব পরিমন্ডল)” ঘোষনা হয়। সুন্দরবনের মোট ১০২টি দ্বীপ,এর মধ্যে ৫৪ টি দ্বীপে জনবসতি এবং ৪৮ টি দ্বীপ নিয়ে ম্যানগ্রোভ বন ও বন্যপ্রাণী। উত্তর২৪পরগণার জেলার ৬টি ব্লক ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ১৩টি ব্লক নিয়ে সুন্দরবন। সবথেকে বেশী দ্বীপ রয়েছে পাথরপ্রতিমা ব্লকে ১৩ টি,গোসাবায় ৯টি,

নাখানায় ৫টি,সন্দেশখালিতে ৬টি,হাড়োয়া ব্লকে ৫টি। সুন্দরবনের নদীগুলি লবনাক্ত জলে পরিপুষ্ট। রায়মঙ্গল,হরিণভাঙা,গোসাবা,মাতলা,বিদ্যাধরী,ঝিলা,করতাল,ঠাকুরান,সপ্তমূখী,মুড়ীগঙ্গা,গাবতল,মৃদঙ্গভাঙা,আজমলমারি,ঢুলিভাসানি,চুলকাটি,বেলেডোনা,পেইলি,হেড়োভাঙা,মনি,বেনিফেলী,গোমর নদীগুলি জোয়ারের জলে পুষ্ট। ১৫৫৮ সালের ৬মে থেকে ৩১জুলাই ২০১৫ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনের উপর ২৬ বার প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে। উল্লেখ্য ১৫৫৮ সালে ৬মে টানা পাঁচঘন্টা দমকা ঝড়ে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় ৫লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আবার ২৫মে ২০০৯ সালে আয়লায় ১১০কিমি বেগে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবনের ৩৫০০কিমি নদী বাঁধের ৭৭৮কিমি নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ১৭৮কিমি নদীবাঁধ পুরো নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।আবার ২০১৯ সালে বুলবুল ও ফেণীর দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।এছাড়াও ১৯০৩ সালে উদ্ভিদ বিঞ্জানী ডেভিড প্রেইন সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ গাছের উপর গবেষণা করেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বের ৫০ টি বৃক্ষজাতীয় ম্যানগ্রোভ রয়েছে এর মধ্যে সুন্দরবনে ২৪টি রয়েছে। এছাড়া ও ১৬৫টি শৈবাল, ১৩ টি অর্কিড উদ্ভিদ রয়েছে এই সুন্দরবনে । সুন্দরী,কাঁকড়া,ধুঁদুল,গরাণ,কেওড়া,গর্জন,কৃপা,তোড়া,ওড়া,পশুর,হেতাল প্রভৃতি গাছ রয়েছে।
রয়েছে পৃথিবী বিখ্যাত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার,মেছো বিড়াল,বনবিড়াল,হরিণ,শুয়োর,ভোঁদড়,শুশুক,কুমীর,কচ্ছপ,খেঁকশিয়াল,তাড়খেল,স্বর্ণ গোধিকা,বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপ কালাচ,কেউটে,এবং বাজ,পেঁচা,নীলকন্ঠ,মোহন চুড়া,শামুখ খোল,গাঙচিল,ডাহুক সহ না প্রজাতির জীবজন্তুর বসবাস সুন্দরবনে।
বৈঞ্জানিকদের দাবী বিশ্ব উষ্ণায়নের কবলে পড়ে সুন্দরবন ধ্বংসের পথে। সেই সুন্দরবনের বাদাবন জঙ্গল কে অক্ষত রাখতে পালন করা হয় সুন্দরবন দিবস।