সোমবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চিকিৎসক সমর রায়ের চিকিৎসায় ওরা বাড়ী ফিরলো

News Sundarban.com :
নভেম্বর ২৪, ২০১৯
news-image

বিষধর সাপে কামড়ানোর পর চিকিৎসক সমর রায়ের অসাধারণ চিকিৎসায় ওরা বাড়ী ফিরলো। ওরা হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার জীবনতলা থানা এলাকার গোলাম রউফ সরদার আর সইদুল মোল্ল্যা।বিষধর কালাজ সাপে কামড়ে ছিল গত সাপে কামড়েছিল গত ১৬ নভেম্বর গভীর রাতে। মৃত্যুর হাত ছানি উপেক্ষা করে সাহসের পরিচয় দিয়ে সাপে কামড় দিয়েছে বুঝতে পেরে বিশধর কালাজ সাপ ধরে সটান হক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে হাজীর হয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য।মুহূর্তে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক সমর রায়ের নেতৃত্বে চলে চিকিৎসা। কালাজ সাপের বিষ অত্যন্ত তীক্ষ্ন হওয়ায় রোগীর অবস্থা সঙ্কট জনক হলে সাথে সাথে আইসিসিইউ তে স্থানান্তরিত করে শুরু হয় চিকিৎসা।পরে ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকেন গোলাম রউফ সরদার ও সইদুল মোল্ল্যা।দীর্ঘ প্রায় চার দিন চিকিৎসা চলার পর অবশেষে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরলেন দুই সাপে কামড়ানো রোগী।
উল্লেখ্য জীবনতলা থানা এলাকার বাসিন্দা পেশায় কৃষক গোলাম রউফ সরদার অন্যান্য দিনের মতো ১৬ নভেম্বর শনিবার রাতে পরিবারের সাথে খাওয়া-দাওয়া সেরে বাড়ি লাগোয়া বাগানের আলাঘরে গিয়েছিলেন ঘুমাতে। সেখানে মুসারীর মধ্যে গভীর রাতে আচমকা তার বগলে একটি বিশাল বড় কালাজ সাপ কামড় দেয়। কামড়ের অনুভূতি বুঝতে পেরেই হাতে থাকা টর্চের আলো মারতেই দেখতে পান যে একটি সাপ তার বিছানার মধ্যে তালগোল পাকিয়ে রয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে সাপের ভয়কে তুচ্ছ করে গোলাম ধরে ফেলেন সাপটিকে। এরপর পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় একটি বাজার করা থলের মধ্যে সাপটিকে ঢুকিয়ে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসার জন্য ঐ রাতেই তিনি চলে আসেন ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে । অন্যদিকে সইদুল মোল্ল্যা কে সাপে কামড়লে তিনিও সাপ ধরে নিয়ে সটান হাজীর হন ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে।
এমনিতেই সাপের কামড়ানো চিকিৎসার ক্ষেত্রে রাজ্যে তথা দেশের মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে দেখা যায় এই ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালকে। সেখানে ঐ রোগীকে দ্রুততার সাথে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা শুরু করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।তার শরীরের অবস্থা দেখে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়ে যান যে বিষধর কালাজ সাপই তাকে কামড়েছে।এরপরই গেলাম রউফ তার সঙ্গে থাকা বাজারের থলেটি বার করে চিকিৎসকের টেবিলের ওপর রাখলে শুরুতেই হতবাক হয়ে যান চিকিৎসক। সাপটিকে দেখার চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়ে যান যে বিষধর কালাজই কামড়েছে। যদিও সেই মুহূর্তে হাসপাতালে জলজ্যান্ত একটি সাপকে ধরে নিয়ে আসার ঘটনায় ততক্ষণে হুলুস্থুল পড়ে যায় অন্য রোগী থেকে স্বাস্থ্য কর্মীদের মধ্যে। সাথে সাথেই তাকে ভর্তি নিয়ে তার শরীরে এভিএস দেওয়ার পরই বিপদ মুক্ত হন গোলাম বাবু।সাপে কামড়ানোর ঘটনায় গোলাম রউফ সরদার ও সইদুল মোল্ল্যা সুস্থ হয়ে বাড়ী ফেরার আগেই শুক্রবার সকালে জানান চিকিৎসক সমর রায়ে কাছে আমরা চির কৃতঞ্জ। ওনার মতো সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে চিকিৎসা করায় আমরা বেঁচে বাড়ীতে ফিরতে পারছি।”
যদিও এ বিষয়ে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক সমর রায় বলে “সাধ্যমতো চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে রোগী কে সুস্থ করার আপ্রাণ কর্তব্য পালন করার চেষ্টা করি।”