সোমবার, ২৩শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

রূপান্তরকামীদের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হল সংগঠন এসএফআই

News Sundarban.com :
নভেম্বর ২৩, ২০১৯
news-image

রূপান্তরকামী। শব্দটা কেমন যেন একটা! পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই ভারতের কিয়দংশ মানুষই আসলে ‘রূপান্তরকামী’র অর্থই ঠিকঠাক জানেন না। দাবিদাওয়া নিয়ে পাশে দাঁড়ানো তো অনেক দূর। রাজনৈতিক দলে এখনও ততটা সাবলীল বিচরণ করতে পারেননি রূপান্তরকামীরা। তাঁরাও তো সমাজের অংশ। তাঁদের ভোটাধিকারও আছে। কিন্তু ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় খাতায়-কলমে, আইন-আদালতে পরিবর্তন হলেও রূপান্তরকামীদের নিয়ে এখনও ‘চুপ চুপ’ একটা ব্যাপার। আর সেই প্রেক্ষাপটেই শ্রমিক-মজদুরদের অধিকার রক্ষায় লড়াই করা এসএফআই মশাল জ্বালার দায়িত্ব নিল। রূপান্তরকামীদের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হল সংগঠনের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য অপ্রতীম রায়কে।

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সমানাধিকারের লড়াই। অনেকআগে থেকেই রাজনৈতিকভাবেই এই ‘এলজিবিটি কমিউনিটি’র হয়ে পথে নেমেছে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই। সেই আন্দোলনেই এবার নতুন মুখ অপ্রতীম। একেবারে নতুন মুখ বলা যাবে না। কারণ তিনি সংগঠনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য। অপ্রতীম নিজেও একজন রূপান্তরকামী। প্রান্তিক লিঙ্গের মানুষদের অধিকারের দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়ার লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন অপ্রতীমের কাঁধেই।

৩৭৭ ধারার বিরোধিতায় রাজনৈতিকভাবেই প্রথম পথে নামে এসএফআই। এসেছে সাফল্য। সমকামিতা এখন দেশে বৈধ। কিন্তু এদেশে আইনে বদল হলেও মানসিকতা, দীর্ঘদিনের জমে থাকা ‘কুশিক্ষা’ ফলে পরিস্থিতি যেই কে সেই থেকে যায়। রূপান্তরকামীদের এখনও রাস্তায় হাঁ করে দেখেন শহুরে শিক্ষিত লোকজনও। কখনও কখনও উপহাসের পাত্রও হন। রূপান্তরকামীরা একপ্রকার ব্রাত্য। লাঞ্ছনা তো রয়েইছে। অনেকে আবার এটাকে রোগ বলেও অভিহিত করেন। ‘না-জানা’ থাকলে যা হয় আর কি!  এটাই নয়, বরং যৌন হেনস্থার মুখেও পড়তে হয় রূপান্তরকামীদের। আর সেই ছবিটাও অত্যন্ত ভয়াবহ। অপ্রতীমের আহ্বান, তৃতীয় লিঙ্গের কোথাও অত্যাচারিত হলে, অপমানিত হলে, পাশে রয়েছে এসএফআই।

রূপান্তরকামী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য অপ্রতীম। সমানাধিকারের লড়াইয়ে সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের  আন্দোলনে অপ্রতীমই এখন লড়াইয়ের মুখ। সেই গতানুগতিকতার বিরুদ্ধেই লড়াই নামছে এসএফআই।  পঞ্চাশে পা দিয়ে জয়ের স্বপ্নে বদলের আশা দেখছে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই। চলতি বছরেই রুপান্তরকামীদের নিয়ে বিশেষ সেমিনার ও ওয়ার্কশপের আয়োজনও করেছে তারা।

বলে রাখি, ২০১৭ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ৯৮ শতাংশ রূপান্তরকামী পুরুষ-মহিলা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তবে ৩৭৭ ধারা অপরাধমুক্ত হওয়ার পরে খানিকটা বদল এসেছে।