বৃহস্পতিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

প্রত্যন্ত সুন্দরবনে গঙ্গাপুজো মেলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান উৎসব

News Sundarban.com :
অক্টোবর ২৩, ২০১৯
news-image

দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সুন্দরবনের গোসাবা থানার রাঙাবেলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম রাজাপুর উত্তর ডাঙা।এই গ্রামের বেশীর ভাগ মানুষজন চাষবাস ও সুন্দরবন জঙ্গলের কাঠ,মধু কিংবা সুন্দরবনের নদীর মাছ কাঁকড়া ধরে জীবীকা নির্বাহ করে থাকেন। প্রত্যন্ত এই এলাকার মানুষজন জল জঙ্গলের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় গত ১১ বছর আগেই এলাকায় শুরু করেন গঙ্গাপূজো। আর এই গঙ্গাপূজো দিয়েই অনেকে জীবন জীবীকার সন্ধানে জঙ্গলে যান । কেউ কেউ আবার ফিরে এসেই নির্দিষ্ট দিনে গঙ্গাদেরীর পূজোতেই মগ্ন হন।বিগত দিনে দুবছর এই গঙ্গাপুজো চলার পর এলাকার বেশ কয়েকজন পুজোর সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং প্রয়োজন হয় রক্তে।বিভিন্ন প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যে হাসপাতাল,ব্লাড ব্যাঙ্ক এ গিয়ে রক্ত যোগান দেওয়া টা চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে যায়। এমন কঠিন পরিস্থিতির সম্মূখীন হয়ে রাঙাবেলিয়ার রাজাপুর উত্তর ডাঙা গ্রামের বাসিন্দারা এবং স্থানীয় ক্লাব রাজাপুর তরুন সংঘের কর্মকর্তরা সিদ্ধান্ত নেন রক্তদান শিবির করে রক্ত দেওয়ার। নদীনালা বেষ্টিত গ্রামে এমন রক্তদান শিবির শুরু হয় বিগত ৭ বছর আগেই।
ধারাবাহিক ভাবে সেই কর্মকান্ড বজায় রাখতে মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত হল অষ্টম বর্ষের রক্তদান উৎসব।এদিন রক্তদান শিবিরে ১৭০ জন মহিলা সহ ২৭৫ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।
রক্তদান উৎসবে বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা প্রাক্তন শিক্ষক আকবর আলি সেখ,রাঙাবেলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ভারতী গায়েন, তাপস প্রধান,শ্রীমন্ত মন্ডল সহ বিশিষ্টজনেরা।
জীবনে প্রথম স্বেচ্ছায় রক্তদান করে পঞ্চাশ উর্দ্ধ শিক্ষক মৃণাল কান্তি মন্ডল বলেন “গত তিন বছর আগে আমার বৃদ্ধ পিতা সূধণ্য মন্ডল দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু সম্মূখীন দাঁড়িয়ে ছিলেন।চিকিৎসকরা বলেছিলে রক্ত দিতে হবে ,না হলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়।বিভিন্ন জায়গায় হন্যে হয়ে রক্ত জোগাড় করতে পারিনি। তরুন সংঘের সদস্যরা এমন কথা শুনে সেদিন তারা রক্ত দিয়ে আমার বৃদ্ধ বাবা কে প্রাণে বাঁচতে সাহায্য করেছেন।যার জন্য ৫১ বছর বয়স হলেও আমি স্বেচ্ছায় রক্তদান করে নিজেকে স্বাত্বনা বোধ দিতে পেরেছি। তিনি আরো বলেন এই প্রত্যন্ত এলাকার আরো লোকজন এমন মানবিক কাজে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে এগিয়ে আসুক সেই আহ্বান জানাবো।”