বৃহস্পতিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

দারিদ্রতাই বাধা, সুন্দরবনের গর্ব ড্যান্সার ছোট্ট রুপসা

News Sundarban.com :
অক্টোবর ১৮, ২০১৯
news-image

সুন্দরবনের ক্যানিং তথা ভারতবর্ষের বিখ্যাত ড্যান্সার ছোট্ট ক্ষুঁদে রুপসা বট্টব্যাল।ছোট্ট রুপসা ইতিমধ্যে ২০১৮ সালে জি-বাংলার ‘ড্যান্স বাংলা ড্যান্স’ এ সেরা নির্বাচিত হয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। আবার চলতি ২০১৯ এ ‘সোনি সুপার ড্যান্স চ্যাপ্টার থ্রী’ তে সর্বভারতীয় স্তরে চ্যাম্পিয়ান হয় ক্যানিংয়ের পুরাতন চাঁদনীর বট্টব্যাল দম্পতীর একমাত্র ছোট্ট কন্যা রুপসা।

রুপসা’র এতো বড় সাফল্যে গর্বিত সুন্দরবন তথা ক্যানিংয়ের সাধারণ মানুষজন সাময়িক ভাবে এগিয়ে এলেও জেলা ,রাজ্য কিংবা জাতীয়স্তরে তেমন কোন সাহায্য,সহযোগিতা,সম্মান না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ক্যানিং মহকুমা সহ সমগ্র সুন্দরবন বাসী।নিজের সুন্দরবন এলাকার ছোট্ট শিশু কন্যার বিশাল সাফল্যের কথা শুনেই সুন্দরবনের সমাজসেবী তথা কবি ফারুক আহমেদ সরদার শুক্রবারই হাজীর হয়ে যান ক্যানিংয়ের রুপসার প্রাকটিক করার মাঠে(সেচ দফতরের মাঠ)।

সুন্দরবনের কবি ফারুক আহমেদ সরদার সেখানে গিয়ে ছোট্ট রুপসা কে সংবর্ধনা দিয়ে তার হাতে সামান্য কিছু উপহার তুলে দেন।

ফারুক বাবু বলেন “রুপসা আমাদের সুন্দরবন তথা ভারতবর্ষের গর্ব।যে পরিবারের জন্য আজ এই সম্মানে সুন্দরবনের ক্যানিং তথা বাংলার মুখ উজ্জ্বল হয়েছে,তারাই আজও চুড়ান্ত অবহেলিত হয়ে রয়েগেছে সেই তিমীরে।তিনি আরো বলেন সাধ্য অনুযায়ী আগামী দিনে আমরা তথা সুন্দরবনবাসীরা রুপসা এবং রুপসার পরিবারের সাথে সুখ দুঃখের সাথী হয়ে ছিলাম এবং থাকবো।”

উল্লেখ্য দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা তথা সুন্দরবন অঞ্চলের ব্রিটিশ আমলের ক্যানিংয়ের মাতলা নদীর তীরবর্তী পুরাতন চাঁদনীতে একটি টালির চালা ঘরে বসবাস করেন দরিদ্র পরিবারের জয় বট্টব্যাল ও শিবানী বট্টব্যাল দম্পতি বসবাস করেন।দরিদ্র অভাব অনটনের জন্য কোন রকমে দীনমজুর,কখনও বা রাজমিস্ত্রীর কাজ করে দিন গুজরান করতে হয় বট্টব্যাল পরিবারের।ইতি মধ্যে দম্পতির কোল আলো করে ২০১২ সালের ৪ ঠা আগষ্ট জন্ম নেয় ছোট্ট রুপসা।অভাব অনটনের মধ্যে কি ভাবে কন্যাসন্তান কে বড় করে মানুষের মতো মানুষ করবেন সেই চিন্তায় চিন্তিত হয়ে পড়েন দরিদ্র বট্টব্যাল দম্পতি।দরিদ্র হলেও ছোট্ট রুপসার জন্য কোন কিছুই খামতি রাখতেন না।ইতি মধ্যে দু-একপা করে রুপসা যখন হাঁটতে শিখেছে তখন থেকেই কোমর দুলিয়ে নাচানাচি করতে থাকে রুপসা।

এরপর রুপসার মা শিবানী’র মনে জেদ চেপে বসে মেয়েকে যে ভাবেই হোক একজন ণড্যান্সার করে তুলবেন সেই মতো গত প্রায় আড়াই বছর আগে ক্যানিংয়ের এক অনামী “স্টেপ ড্যান্স একাডেমি” তে শিক্ষক শুভেন্দু সরদার এর কাছে ভর্তি করেন ছোট্ট রুপসা কে।

এরপরই যোগ্য শিক্ষকের সহচর্য্যে এবং ঈশ্বরের প্রতিভা ফুটে উঠতে শুরু করে রুপসার মধ্যে।এরপর মাত্র দুবছরের অপেক্ষায় ভারতবর্ষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তার সাফল্যের অগ্নিশিখা।

এমন সাফল্যের পাশাপাশি অভিমানের সুরে শিক্ষক শুভেন্দু সরদার ও বট্টব্যাল দম্পতি বলেন “অভাব অনটন কে উপেক্ষা করে এমন সাফল্যের শিখরে এলেও আগামী দিনে হয়তো অভাব অনটনেরই জন্য আরো বড় সাফল্য হাত ছাড়া হতে পারে।”