বৃহস্পতিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

রাষ্ট্রপুঞ্জের সচিবালয়ের প্রায় ৩০ হাজার কর্মী বেতন নিয়েও অনিশ্চিয়তা

News Sundarban.com :
অক্টোবর ১০, ২০১৯
news-image

রাশিদ রিয়াজ 

এই বিপুল ঘাটতির প্রেক্ষাপটে বেশকিছু কাজকর্মে কাটছাঁট করার কথা ভাবছে জাতিসংঘ। এর মধ্যে রয়েছে সম্মেলন ও বৈঠকের সংখ্যা কমানো। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের সফরের উপরেও বিশেষ কড়াকড়ির কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, চলতি মাসের শেষ থেকে বন্ধ হয়ে যেতে পারে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজকর্ম। আগামী নভেম্বর মাসে রাষ্ট্রপুঞ্জের সচিবালয়ের প্রায় ৩০ হাজার কর্মী বেতন পাবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।

গত ১০ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, চলতি মাসের শেষ থেকে বন্ধ হয়ে যেতে পারে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজকর্ম। এমনই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন খোদ জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘের আর্থিক বিষয়ের দায়িত্বে থাকা কমিটিকে গুতেরেস জানিয়েছেন, ‘এই প্রতিষ্ঠান তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।’ পরিস্থিতির ব্যখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, গত বছরের প্রথম দিকে জরুরি ভিত্তিতে খরচে লাগাম টানা হয়েছিল। সেই অর্থেই গত মাসে সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলি ২০১৯ সালে মোট ব্যয়ের মাত্র ৭০ শতাংশ দিয়েছে। ফলে দেখা যাচ্ছে ঘাটতি পড়েছে ২৩ কোটি ডলার। যে কয়েক’টি সদস্য রাষ্ট্র এখনও ২০১৯ সালের অনুদান দেয়নি তাদের অবিলম্বে তা জমা দেওয়ার আবেদন করেছেন গুতেরেস।

জাতিসংঘের মাত্র ৩৪টি সদস্য রাষ্ট্র প্রতিবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের নির্ধারিত বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেয়। এর মধ্যে ভারত অন্যতম। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত জাতিসংঘের মোট ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ১২৮টি সদস্য রাষ্ট্র তাদের সাধারণ বাজেট মূল্যায়নের সম্পূর্ণ অর্থ সম্পূর্ণ মিটিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি সদস্য রাষ্ট্র নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে তাদের সাধারণ বাজেট মূল্যায়নের সমস্ত অর্থ দিয়ে দিয়েছে। ২০১৮-১৯ সালের রাষ্ট্রপুঞ্জের মোট অপারেটিং বাজেটের পরিমাণ ছিল ৫৪০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তিরক্ষা মিশনের খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়।