মঙ্গলবার, ১১ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

দেখে নিন রেড়ির তেলের গুনাগুন

News Sundarban.com :
আগস্ট ১৭, ২০১৮
news-image

আমরা রোজকার জীবনে বিভিন্ন তেল ব্যবহার করি। সাধারনত সরষের তেল,নারকেল তেল,বাদাম তেল,সয়াবিন তেল, কিন্তু কখনও রেড়ির তেল (Castor Oil) ব্যবহার করেছেন কি? কেউ হয়তো নামও শোনেননি আবার কেউ হয়তো শুনেছেন।রেড়ির তেলে রয়েছে এমন কিছু গুণ যা অনেকেরই জানা নেই। রেড়ির তেল হল রেড়ির বীজ থেকে তৈরি তেল।এর গন্ধ তেমন ভাল না হলেও এর গুণ অনেক। ত্বক ও চুলের জন্য ব্যবহার করা হয়।বর্তমানে প্রায় সবারই একটু আধটু ত্বক ও চুলের সমস্যা রয়েছে।চুল ঝরা এখন সবারই একটি সাধারন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।প্রায় সবাই এর দ্বারা কম বেশি আক্রান্ত। বিভিন্ন কসমেটিক ব্যবহার করে, প্রচুর অর্থ খরচ করেও সমস্যার পূর্ণ সমাধান হয়না।কিন্তু জানেন কি হাতের কাছেই আছে ছোট্ট সমাধান যা ম্যাজিকের মত কাজ করবে! সেটি হল রেড়ির তেল।
চুলের পুষ্টির জন্য ঃ ত্বকের মত যদি চুলকেও সুন্দর রাখতে চান তাহলে তার একমাত্র চাবিকাঠি হল রেড়ির তেল। চুল খুব পাতলা? ভীষণ চুল ঝরছে? খুশকি? অনেক কিছু করেও কোনো লাভ হয়নি? তাহলে ব্যাবহার করুন এই তেল সমস্যা তো কমবেই তার সঙ্গে আপনি পাবেন ঘন লম্বা চুল যেটা আমরা সবাই চাই।এতে আছে ওমেগা ৯ এসেন্সিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড যা সুন্দর চুলের জন্য উপকারি উপাদান এবং যা রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে।চুলের পি এইচ ভারসাম্য কেও ঠিক রাখে যা চুলকে ঘন এবং লম্বা করে। সুতরাং যদি লম্বা চুল চান তাহলে রোজ রাত্রে এই তেল হালকা হাতে ম্যাসাজ করে পরদিন সকালে ধুয়ে ফেলুন।ভাল ফল পেতে ২ মাস ব্যাবহার করুন। আর যদি চুল ঘন কালো করতে চান তাহলেও এই তেলের জুড়ি মেলা ভার। তাহলে কি ভাবছেন নিজের চুল আর ত্বককে সুন্দর রাখতে আজ থেকেই ব্যবহার করতে শুরু করুন রেড়ির তেল।

ত্বকের পুষ্টির জন্য ঃরেড়ির তেলে রয়েছে ভিটামিন ই,প্রোটিন,মিনারেল ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যা চুল ও ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারি। যদি আপনার শুষ্ক ত্বক হয় তাহলে দারুণ ভাবে উপকার পাবেন এই তেল থেকে। শুষ্ক ত্বক হলে নানারকম সমস্যায় ভুগতে হয়। ত্বকের স্বাভাবিকতা হারিয়ে যায়। যে উজ্জ্বলতা আমরা সবাই ফিরে পেতে চাই সেটি ফিরিয়ে দেবে এই তেল।

এই তেলে আছে উচ্চ মাত্রায় ফ্যাটি অ্যাসিড। যা ত্বককে ঊজ্জল করতে সাহায্য করে। আর ত্বকের ময়েশ্চার বজায় রাখতেও দারুণ ভাবে সাহায্য করে।এছাড়াও বাজারের অ্যান্টিএজিং ক্রিম এর বদলে ব্যবহার করতে পারেন এই তেল।এটি আপনার ত্বককে তরুণ রাখতেও সাহায্য করবে। যদি সকালে তরতাজা লুক চান তাহলে রাত্রে শোবার আগে হাতে এই তেল ১০ থেকে ১৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন।
বলিরেখা দূর করেঃ এই প্রাকৃতিক তেলটি চোখের কুঁচকানো ভাব, ফাইন লাইন ও বলিরেখা দূর করতে পারে। এই তেল সহজেই ত্বকের ভেতরে স্তরে প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করেনা। আসলে এটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ত্বককে পুষ্টি সরবরাহ করে। এছাড়াও এটি ত্বকের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। ঘুমানোর আগে কয়েকফোটা ক্যাস্টর অয়েল মুখের ত্বকে লাগিয়ে বৃত্তাকারে ম্যাসেজ করুন। প্রত্যাশিত ফল পাওয়ার জন্য ৪-৬ মাস নিয়মিত ব্যবহার করুন।

আইভ্রু ও আইল্যাশ ঘন করেঃযদি আপনি মোটা ভ্রু ও ঘন পাপড়ি চান তাহলে এর সমাধান হচ্ছে ক্যাস্টর অয়েল। চুলের গোঁড়ার ফলিকলকে উদ্দীপ্ত করা ও পুষ্টি সরবরাহ করার মাধ্যমে ক্যাস্টর অয়েল আপনার আইভ্রু ও চোখের পাপড়ি ঘন করতে সাহায্য করে। ক্যাস্টর ওয়েলের মধ্যে একটি তুলার বল চুবিয়ে নিয়ে আপনার ভ্রু এর উপর ঘষুন। প্রতি রাতেই এটি ব্যবহার করুন যতদিনে আপনার কাংখিত মোটা ভ্রু না হয়। চোখের পাপড়ি বড় ও ঘন করার জন্যও প্রতি রাতে আপনার চোখের পাপড়ির উপর ক্যাস্টর অয়েল লাগান কয়েক সপ্তাহ যাবত। পাপড়িতে তেল লাগানর সময় চোখ বন্ধ করে তারপর লাগান।

তাছাড়া ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে প্রেগনেন্সির স্ট্রেচ মার্ক দূর করতে, কড়া পরা চামড়া নরম করতে, পায়ের গোড়ালির ফাটা দূর করতে সাহায্য করে, ত্বকের প্রদাহ কমতে সাহায্য করে, ব্রণ কমতে সাহায্য করে, অসময়ে চুল পাকা রোধ করে ও চুলকে কন্ডিশনিং করে।